Date : 15th Apr, 2026 | Call 1800 452 567 | info@thewall.in
ক্যান্ডিডেটস জিতে বিশ্ব চ্যাম্পিয়নশিপে গুকেশের মুখোমুখি সিন্দারভ, ড্র করেও খেতাবের লড়াইয়ে বৈশালীIPL 2026: চেন্নাইয়ের বিরুদ্ধে হেরে টেবিলের তলানিতে কেকেআর! গুরুতর বদলের ইঙ্গিত রাহানের নববর্ষের 'শুভনন্দন'-এও মুখ্যমন্ত্রীর SIR তোপ! বাংলায় পয়লা বৈশাখের শুভেচ্ছা প্রধানমন্ত্রীরইরানের সব পণ্যবাহী জাহাজ চলাচল বন্ধ করে‌ দেওয়া হয়েছে, দাবি আমেরিকার, চিন্তা ইরানি ল্যান্ডমাইনও Poila Baisakh: দক্ষিণেশ্বর থেকে কালীঘাট, নববর্ষে অগণিত ভক্তের ভিড়, পুজো দিতে লম্বা লাইনপয়লা বৈশাখেই কালবৈশাখীর দুর্যোগ! মাটি হতে পারে বেরনোর প্ল্যান, কোন কোন জেলায় বৃষ্টির পূর্বাভাসমেয়েকে শ্বাসরোধ করে মেরে আত্মঘাতী মহিলা! বেঙ্গালুরুর ফ্ল্যাটে জোড়া মৃত্যু ঘিরে ঘনীভূত রহস্য UCL: চ্যাম্পিয়নস লিগের শেষ চারে পিএসজি-আতলেতিকো, ছিটকে গেল বার্সা-লিভারপুল‘ইরানকে বিশ্বাস নেই’, যুদ্ধবিরতির মাঝে বিস্ফোরক জেডি ভ্যান্স! তবে কি ভেস্তে যাবে শান্তি আলোচনা?১৮০ নাবালিকাকে প্রেমের ফাঁদে ফেলে শোষণ! মোবাইলে মিলল ৩৫০ অশ্লীল ভিডিও, ধৃতের রয়েছে রাজনৈতিক যোগ

অভিনন্দনের মুক্তি: পাঁচ দেশকে পাশে নিয়ে চাপ বাড়ানোর ফল পেল দিল্লি

দ্য ওয়াল ব্যুরো: বৃহস্পতিবার দুপুরেই মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প ভিয়েতনামের হ্যানয়ে বসে ইঙ্গিত দিয়েছিলেন। বলেছিলেন, ভারত-পাক থেকে সুসংবাদ পাচ্ছি। আমরা মাঝে থেকে দু’পক্ষকেই থামানোর চেষ্টা করছি। আন্তর্জাতিক কূটনীতিক থেকে শুরু করে ঘরোয়

অভিনন্দনের মুক্তি: পাঁচ দেশকে পাশে নিয়ে চাপ বাড়ানোর ফল পেল দিল্লি

শেষ আপডেট: 28 February 2019 12:22

দ্য ওয়াল ব্যুরো: বৃহস্পতিবার দুপুরেই মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প ভিয়েতনামের হ্যানয়ে বসে ইঙ্গিত দিয়েছিলেন। বলেছিলেন, ভারত-পাক থেকে সুসংবাদ পাচ্ছি। আমরা মাঝে থেকে দু’পক্ষকেই থামানোর চেষ্টা করছি। আন্তর্জাতিক কূটনীতিক থেকে শুরু করে ঘরোয়া রাজনীতির অনেকেই তখন আঁচ করতে পারছিলেন, কী হতে চলেছে। তবে খুব বেশি সময় অপেক্ষা করতে হল না। ট্রাম্পের সেই মন্তব্যের ঘণ্টা কয়েকের মধ্যেই ভারতীয় বায়ুসেনার উইং কম্যান্ডার অভিনন্দন বর্তমানকে মুক্তি দেওয়ার সিদ্ধান্ত ঘোষণা করে দিল ইসলামাবাদ। পাক সংসদে দাঁড়িয়ে সে দেশের প্রধানমন্ত্রী ইমরান খান বললেন, “শান্তির বার্তা দিতেই ভারতীয় পাইলটকে ফেরত দেওয়ার সিদ্ধান্ত নিয়েছি আমরা।” যে ঘটনাকে নয়াদিল্লির বড় কূটনৈতিক সাফল্য বলেই মনে করা হচ্ছে। কেন? কারণ, যতটা সহজ করে ইমরান এ দিন পাক সংসদে অভিনন্দনের মুক্তির কথা ঘোষণা করেন, ব্যাপারটা যে অত সহজে ইসলামাবাদ মানেনি, তা কূটনৈতিক বৃত্তে স্পষ্ট। বুধবার সন্ধ্যায় নয়াদিল্লি স্থিত পাক ডেপুটি হাইকমিশনারকে ডেকে পাঠানো হয়েছিল বিদেশ মন্ত্রকে। তাঁর হাতে একটি ডিমার্শে ধরিয়ে নয়াদিল্লি স্পষ্ট জানিয়ে দিয়েছিল, এক: ভারতীয় পাইলটের উপরে কোনও শারীরিক অত্যাচার করা চলবে না। জেনেভা কনভেশন মেনে তাঁর সঙ্গে মর্যাদাপূর্ণ ব্যবহার করতে হবে। এবং অবিলম্বে তাঁকে নিরাপদে ভারতে ফেরাতে হবে। দুই: পাকিস্তানের মাটিতে থাকা জঙ্গি শিবিরগুলিকে ধ্বংস করতে হবে ইসলামাবাদকে। পাক ডেপুটি হাই কমিশনারকে যখন এই বার্তা দেওয়া হচ্ছে, তার আগেই আন্তর্জাতিক স্তরে প্রবল কূটনৈতিক দৌত্যে নেমে পড়ে ভারত। আমেরিকা, ব্রিটেন, রাশিয়া, চিন ও ফ্রান্সের ভারতীয় রাষ্ট্রদূতদের সঙ্গে কথা বলেন বিদেশ সচিব বিজয় গোখেল। নয়াদিল্লি তরফে তাদের স্পষ্ট জানানো হয়, ভারতীয় পাইলটের মুক্তির জন্য তাদেরও চাপ বাড়াতে হবে ইসলামাবাদের উপর। কারণ, পাকিস্তানের মাটিতে জঙ্গি শিবির ধ্বংসের আক্রমণ শানিয়েছিল ভারত। নয়াদিল্লির তরফে এর চেয়ে বেশি কোনও আগ্রাসী মনোভাব ছিল না। পাকিস্তান জঙ্গিদের পক্ষ নিয়ে সামরিক জবাব দিতে চেয়েছে ভারতকে। যা অভিপ্রেত নয়। সুতরাং ভারতীয় পাইলটের মুক্তি জন্য শক্তিধর রাষ্ট্রগুলির তরফে সমস্বরে চাপ বাড়াতে হবে পাকিস্তানের উপর। বস্তুত, পুলওয়ামার ঘটনার পর থেকেই এই পাঁচ দেশের সঙ্গে কূটনৈতিক চ্যানেলে প্রতি মুহূর্তে যোগাযোগ রেখে চলেছে ভারত। তার ফল স্বরূপ বৃহস্পতিবার আরও একটি বড় সাফল্য পায় নয়াদিল্লি। আমেরিকা, ব্রিটেন ও ফ্রান্স রাষ্ট্রপুঞ্জের নিরাপত্তা পরিষদে প্রস্তাব পেশ করে দাবি করে, জইশ-ই-মহম্মদ চিফ মাসুদ আজহারকে আন্তর্জাতিক জঙ্গি বলে ঘোষণা করতে হবে। সাউথ ব্লক সূত্রে বলা হচ্ছে, সার্বিক এই পরিস্থিতিতে প্রবল চাপে পড়ে যায় ইসলামাবাদ। কিন্তু তার পরেও তারা প্রস্তাব দেয়, শর্ত সাপেক্ষে ভারতীয় পাইলটকে মুক্তি দিতে তারা প্রস্তুত। সেই শর্ত হল, সংঘর্ষ বিরতি ঘোষণা করতে হবে ভারতকে। সেই সঙ্গে দ্বিপাক্ষিক আলোচনার টেবিলে আসতে হবে নয়াদিল্লিকে। কিন্তু বিনা বাক্যব্যয়ে সেই প্রস্তাব ফিরিয়ে দেয় ভারত। নয়াদিল্লি স্পষ্ট জানিয়ে দেয়, কোনও দরকষাকষি এক্ষেত্রে বরদাস্ত করা হবে না। নিঃশর্তে ভারতীয় পাইলটকে মুক্তি দিতে হবে। সেই সঙ্গে পাকিস্তানের মাটিতে থাকা জঙ্গি শিবিরগুলির বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নিতে হবে ইসলামাবাদকে। পাকিস্তান সন্ত্রাসদমনে বিশ্বাসযোগ্য পদক্ষেপ না করলে দ্বিপাক্ষিক আলোচনার প্রশ্নই ওঠে না। সন্দেহ নেই, পাকিস্তানের মাটিতে জঙ্গি শিবির ভাঙার দম ইমরানের নেই। পাকিস্তান সেনা, পাক গোয়েন্দা সংস্থা আইএসআই-য়ের মদতেই সে দেশে কট্টর মৌলবাদীরা ফুলে ফেঁপে বেড়েছে। ফলে আপাতত উত্তেজনা প্রশমন করতে ভারতীয় পাইলটকে অবিলম্বে মুক্তি দিতে রাজি হয়ে যায় ইসলামাবাদ। বিকেলেই ইমরান খান তা পাক সংসদে ঘোষণা করে। তবে সাউথ ব্লক বলছে, এটুকু কূটনৈতিক সাফল্যেই সন্তুষ্ট নয় নয়াদিল্লি। পাক প্রশাসনকে সন্ত্রাসবাদের বিরুদ্ধে বিশ্বাসযোগ্য পদক্ষেপ করতেই হবে। তার আগে বিশ্রাম নেওয়ার প্রশ্নই নেই।

```