
শেষ আপডেট: 23 June 2022 09:02
দ্য ওয়াল ব্যুরো: মাতশ্রীতে দলের শীর্ষ নেতাদের সঙ্গে বৈঠকে বসেছেন মহরাষ্ট্রের (Maharashtra) মুখ্যমন্ত্রী উদ্ধব ঠাকরে (Uddhav Thackrey)। চলতি পরিস্থিতিতে করণীয় ঠিক করতেই এই বৈঠক। বিভিন্ন মহল থেকে ইঙ্গিত পাওয়া যাচ্ছে, আজই পদত্যাগ করতে পারেন উদ্ধব। গতকালই পদত্যাগের ইচ্ছা প্রকাশের পাশাপাশি মুখ্যমন্ত্রীর সরকারি বাংলো বর্ষা থেকে মালপত্র গুটিয়ে মাতশ্রীতে ফিরে গিয়ে বুঝিয়ে দিয়েছেন, আনুষ্ঠানিকভাবে মুখ্যমন্ত্রিত্ব ত্যাগ সময়ের অপেক্ষা। শিবসেনার (Shiv Sena) কেউ পরবর্তী মুখ্যমন্ত্রী হলে তিনি গদি ছাড়তে কালক্ষেপ করবেন না, স্পষ্ট করে দেন গতকাল। কিন্তু তাঁর সেই উদার আহ্বানে সাড়া দেননি বিদ্রোহী বিধায়কেরা।
এই পরিস্থিতিতে কী করতে পারেন উদ্ধব?
তাঁর সামনে তিনটি বিকল্প আছে। এক, বিধানসভায় আস্থা ভোট চাইতে পারেন। দুই, বিধানসভা ভেঙে দিয়ে অন্তবর্তী নির্বাচনের সুপারিশ করতে পারেন রাজ্যপালের কাছে। তিন, বিদ্রোহীদের দাবি মেনে বিজেপির সমর্থনে সরকার টিকিয়ে রাখা।
কিন্তু এই মুহূর্তে এই দুই বিকল্পের কোনওটাই উদ্ধবের জন্য স্বস্তির হওয়ার নয়। কারণ, শিবসেনার একনাথ শিন্ডে গোষ্ঠী, বিজেপি এবং নির্দল মিলিয়ে উদ্ধব বিরোধী শিবিরের বিধায়ক সংখ্যা এখন ১৬৪। শিবসেনা, কংগ্রেস এবং এনসিপি ও কয়েকটি ছোট দল মিলিয়ে উদ্ধব শিবিরের বিধায়ক সংখ্যা এখন ১২২। ফলে বিধানসভায় হার নিশ্চিত।
উদ্ধব শিবিরের কাছে ভাবনার বিষয় হল, বিধানসভায় শক্তি পরীক্ষায় হার মেনে ক্ষমতা থেকে সম্মানজনকভাবে চলে গিয়ে মহা বিকাশ আগাড়ি জোট টিকিয়ে রেখে আগামী আড়াই বছর বিরোধী আসনে থাকা কতটা কাজে আসবে।
দ্বিতীয় সম্ভাবনাটি থেকেও উদ্ধবের লাভবান হওয়ার সম্ভাবনা কম। তিনি বিধানসভা ভেঙে দিয়ে অন্তবর্তী নির্বাচনের প্রস্তাব দিলেও রাজ্যপাল তা মানতে বাধ্য, এমন নয়। সংবিধানের সংশ্লিষ্ট অনুচ্ছেদে বলা আছে, রাজ্যপাল সুপারিশ মানার সময় নিজের বিচার বুদ্ধি বিবেচনা মত যাচাই করে নেবেন, মুখ্যমন্ত্রীর বিধানসভায় সংখ্যা গরিষ্ঠতা আছে কি না। ফলে উদ্ধব অন্তবর্তী নির্বাচনের সুপারিশ করলেও রাজ্যপাল ভগৎ সিং কোশিয়ারি তা নাও মানতে পারেন। তিনি বিধানসভায় আসন প্রাপ্তির নিরিখে সর্ববৃহৎ দল বিজেপিকে সরকার গড়ার আমন্ত্রণ জানাতে পারেন।
তৃতীয় সম্ভাবনাটি হল, এখন বিদ্রোহীদের দাবি মেনে বিজেপির সমর্থনে সরকার টিকিয়ে রাখা। বিজেপি এখনও মহারাষ্ট্রে তাদের অপারেশন কোমল নিয়ে প্রকাশ্যে মুখ খোলেনি। শক্রতা ভুলে তারা উদ্ধবকে সমর্থন দিয়ে কংগ্রেস এবং এনসিপি-র কবল থেকে বের করে আনলেও কিছুদিন পরেই শিবসেনার বিদ্রোহীদের নিয়ে সরকার গড়ে নিতে পারে। বস্তুত সেই সুযোগ তাদের কাছে এখনই আছে। কিন্তু তাদের মূল লক্ষ্য হল শিবসেনায় উদ্ধবকে ডানাহীন করে তোলা। সেই সময় পর্যন্ত তারা অপেক্ষা করবে।
তবে মুম্বই সহ মহারাষ্ট্রের বহু জায়গায় ইতিমধ্যে বিজেপি নেতা দেবেন্দ্র ফার্ডনবিসের ছবি সহ পোস্টার পড়েছে। তাতে বলা হয়েছে, দেবেন্দ্রর ফের মুখ্যমন্ত্রী হওয়া সময়ের অপেক্ষা। আড়াই বছর আগে পাঁচ বছরের জন্য বিজেপি-শিবসেনা জোট সরকারের মুখ্যমন্ত্রী ছিলেন দেবেন্দ্রই। ২০১৯-এ শিবসেনা মুখ্যমন্ত্রিত্ব দাবি করায় জোট ভেঙে যায়। কংগ্রেস এবং এনসিপি-র সমর্থনে সরকার গড়েন উদ্ধব।