
ছবি - সৌম্যদীপ সেন
শেষ আপডেট: 1 April 2025 20:21
দ্য ওয়াল ব্যুরো: বাড়িতে মজুত বাজি থেকে বিস্ফোরণ হয়েছে। কিন্তু পাথরপ্রতিমার ঘটনায় (Patharpratima Blast) আগুন লাগার সঠিক কারণ কী? আগে বাজি থেকে আগুন লেগেছে, তারপর গ্যাস সিলিন্ডার ফেটেছে, নাকি গ্যাস সিলিন্ডার ফেটে আগুন লেগে তারপর মজুত রাখা বাজিতে বিস্ফোরণ হয়েছে, সেটাই এখন খতিয়ে দেখছে পুলিশ (West Bengal Police)। সাংবাদিক বৈঠক করে এডিজি দক্ষিণবঙ্গ সুপ্রতিম সরকার জানান, ফরেন্সিক টিম ঘটনাস্থলে পৌঁছে পুরো বিষয়টি খতিয়ে দেখছে। শীঘ্রই পুরো বিষয়টি পরিষ্কার হবে।
রাজ্য পুলিশের তরফে বলা হয়েছে, প্রাথমিক তদন্তে মনে হয়েছে এটি দুর্ঘটনাই। তবে যা ঘটেছে তা কীভাবে ঘটল, ফরেন্সিক দলের তদন্তের প্রেক্ষিতেই পুরো বিষয়টি স্পষ্ট হবে বলে জানানো হয়েছে। বাজি থেকে বিস্ফোরণ এবং অগ্নিকাণ্ডের ঘটনায় বাজি কারখানার মালিক তথা দুই ভাই চন্দ্রকান্ত বণিক এবং তুষার বণিকের বিরুদ্ধে খুনের চেষ্টায় জামিন অযোগ্য ধারায় মামলা দায়ের হয়েছে। এডিজি দক্ষিণবঙ্গ এও বলেন, এই দুজনের বাড়ির ১০০-২০০ মিটারের মধ্যেই বাজি কারখানা ছিল। কিন্তু বাড়ির মধ্যে কেন বাজি মজুত রাখা হয়েছিল, সে ব্যাপারটি খতিয়ে দেখা হচ্ছে।
চন্দ্রনাথ এবং তুষারের বিরুদ্ধে ভারতীয় ন্যায় সংহিতার ২৮৭, ২৮৮, ১০৫, ১১০, ১২৫ এবং ৬১ (২) ধারায় এবং ওয়েস্ট বেঙ্গল ফায়ার সার্ভিস অ্যাক্ট (১৯৫০)-এর ২৪, ২৫ ধারায় মামলা দায়ের হয়েছে। তবে এখনও পর্যন্ত এক্সপ্লোসিভ সাবস্টেন্স অ্যাক্টে কোনও মামলা দায়ের হয়নি বলে জানিয়েছে পুলিশ। এডিজি দক্ষিণবঙ্গ জানান, প্রাথমিক তদন্তে তাঁরা জানতে পেরেছে গত ১০ বছর ধরে এই বাজি কারখানা চলছিল। তবে তাদের কী লাইসেন্স ছিল, কারখান বৈধ না অবৈধ, কীসের ভিত্তিতে বাজি মজুত থাকত, গোটা বিষয়টি তদন্তের আওতায় রয়েছে। তাই এখনই কিছু এই ব্যাপারে বলতে পারবেন না।
এই ঘটনায় অন্যতম মূল অভিযুক্ত চন্দ্রকান্ত বণিক ২০২২ সালে অন্য একটি মামলায় গ্রেফতারও হয়েছিলেন। পুলিশ জানিয়েছে, ৬৮.৫ কেজি বাজিও বাজেয়াপ্ত করা হয়েছিল তাঁর থেকে। তবে আর কোনও মামলা ওই যুবকের বিরুদ্ধে ছিল কিনা, তা খতিয়ে দেখা হচ্ছে। তবে এই ঘটনা ঘটেছে সম্পূর্ণ দায়িত্বজ্ঞানহীন মনোভাব এবং সচেতনতার অভাবে বলে দাবি করেছে পুলিশ।
সাংবাদিক বৈঠক মারফৎ রাজ্য পুলিশের বক্তব্য, সাম্প্রতিক অতীতে এই ধরনের যে সমস্ত ঘটনা ঘটেছে তা থেকে স্পষ্ট যে, সচেতনতার অভাব রয়েছে। এই ইস্যুতে বাজি প্রস্তুতকারক সংস্থাগুলির সঙ্গে তাঁরা আলোচনায় বসবেন। প্রথমেই জনবসতি নেই এমন জায়গায় বাজি মজুত করার সিদ্ধান্ত নিতে হবে। সেফ স্টোরেজের জায়গা আইডেন্টিফাই করতে হবে।
ইতিমধ্যে কেউ কেউ অভিযোগ করছেন, ঘুষ নিয়ে সকলেই এত দিন চুপ করে বসেছিলেন, না হলে রাজ্যে একের পর এক বাজি কারখানায় বিস্ফোরণ হচ্ছে তাতেও কারও টনক নড়ল না? এহেন প্রশ্ন-পাল্টা প্রশ্নের আবহেই দক্ষিণ ২৪ পরগনা জেলার এসডিও মধুসূদন দাস বলেন, "এটা তো বাড়ি, কারখানা তো নয়। এরকম কিছু এতদিন আমার নজরে আসেনি। এখন এটা তাহলে দেখতে হবে। সেই জন্যেই সবটা খতিয়ে দেখছি যে জিনিসটা কী করে হল! নিশ্চয়ই সবটা লুকিয়ে করা হয়েছে। না হলে এটা হতে পারে না। একটা বাড়ির মধ্যে কারখানা। আদৌ লাইসেন্স ছিল কিনা সেটাও রেকর্ড দেখলে জানা যাবে।"
বস্তুত, সোমবার রাত সাড়ে ৯টা নাগাদ আচমকা বিকট শব্দ শোনা যায় দক্ষিণ ২৪ পরগনার পাথরপ্রতিমার ঢোলাহাট থানার রায়পুরের তৃতীয় ঘেরি এলাকায়। অগ্নিকাণ্ডে প্রাণ গিয়েছে দক্ষিণ ২৪ পরগনার পাথরপ্রতিমার বণিক পরিবারের আট সদস্যের। যাঁদের মধ্যে রয়েছে দু'জন সদ্যোজাত-সহ চার শিশুও।