
বাঘিনি জিনাত।
শেষ আপডেট: 1 January 2025 09:17
দ্য ওয়াল ব্যুরো: ২০ ডিসেম্বর থেকে ২৯ ডিসেম্বর। ৯ দিন বাংলার জঙ্গলমহল দাপিয়ে বেড়িয়েছে সে। জঙ্গলে বন দফতরের দেওয়া খাবারের (পড়ুন, টোপ) দিকে যেমন ঘুরে চেয়েও দেখেনি, একইভাবে সোম এবং মঙ্গলবার আলিপুর চিড়িয়াখানার পশু হাসপাতালেও কোনও খাবার ছুঁয়ে দেখেনি সে। সরকারি আতিথেয়তায় থাকাকালীন খাবার মধ্যে খেয়েছে শুধুই ওআরএসের জল।
সেই সূত্রেই সামনে আসছে ঘুমপাড়ানি গুলি বা ট্রাঙ্কুলাইজার ডোজের প্রসঙ্গ। রবিবার এই ঘুম পাড়ানির গুলিতেই জিনাতকে অ্যারেস্ট করে জঙ্গলমহল থেকে কলকাতায় আনতে পেরেছিলেন বনকর্তারা। তারপর থেকেই জিনাত কার্যত উপোস করে থাকায় নানাবিধ প্রশ্ন উঠছে। ডোজ কি বেশি পড়ে গিয়েছিল? ঘুমপাড়ানি গুলি বা ট্রাঙ্কুলাইজার ডোজে কী ধরনের ওষুধ দেওয়া হয়? ডোজ বেশি হলে কী ধরণের ক্ষতি হতে পারে?
বিশেষজ্ঞরা জানাচ্ছেন, এই ঘুম পাড়ানির গুলি হল এক ধরনের সিডেটিভ। এর মধ্যে সাধারত কেটামিন এবং জাইলাজিন ব্যবহার করা হয়। কেটামিন এবং জাইলাজিনের অনুপাত থাকে ৭:৩। তবে জাইলাজিন অত্যন্ত জোরাল সিডেটিভ। এটি বেশি মাত্রায় ব্যবহার করা হলে ঘুমের মধ্যে মৃত্যুও হতে পারে।
কীভাবে বোঝা যাবে বেশিমাত্রায় ডোজ পড়েছে কিনা? এক বনকর্তার কথায়, ডোজ বেশি মাত্রায় হলে বাঘ, বাঘিনি বা হাতির মতো বড় জন্তুরা উঠে দাঁড়াতেও পারবে না। ঘোর কাটাতে তখন বেশি করে জল খাওয়াতে হবে।
ওই বনকর্তার কথায়, "বাঘিনি জিনাতের ক্ষেত্রে তেমনটা হয়ইনি। তার সবচেয়ে বড় প্রমাণ বাঁকুড়ার জঙ্গলে গুলি খাওয়ার পর বস্তার দুদিকে বাঁশ ভরে হাত, পা, মুখ বেঁধে জিনাতকে খাঁচায় ভরার পর হাত, পায়ের দড়ি এবং মুখের জাল সরাতেই সে উঠে দাঁড়ানোর চেষ্টা করেছিল। তার হালুম গর্জন উপস্থিত সকলের শিরদাঁড়া দিয়ে ঠান্ডা স্রোত বইয়ে দিয়েছিল। ডোজ বেশি হলে কখনও এরকম গর্জন ছাড়তে পারতো না বাঘিনি।"
বন দফতরের বিশেষজ্ঞরা জানাচ্ছেন, বাঘিনি জিনাতের ক্ষেত্রে নিয়ম মেনে একেবারে ১০ এমএম ডোজই দেওয়া হয়েছিল। তবে গত ১০ দিনের দৌড়াদৌড়ি এবং পুরুলিয়ার জঙ্গলে থাকাকালীন যেহেতু বাঘিনি নিজেই একাধিক শিকার করেছিল, ফলে এই ধরনের প্রাণীরা পেট ভর্তি থাকলে টানা পরের কয়েকদিন শুধু জলই খায়।
তাই সম্ভবত আলিপুরে চিকেন, মাটন, বাফেলো মিট দেওয়া হলেও সেগুলির কোনওটিই মুখে তোলেনি বাঘিনি। খাওয়ার মধ্যে শুধু ওআরএসের জল খেয়েছে।