দ্য ওয়াল ব্যুরো: পালস পোলিও-র কালি আর ভোটের কালি তো এক নয়। সব কালি কেনা যায়, ভোটের কালি নয়। আসলে খোলা বাজারে বিক্রিই হয় না এই কালি। এ কালি লাগলে সহজে ওঠে না। তবে গণতান্ত্রিক অধিকার প্রয়োগের এই কালি তো কলঙ্ক নয় মোটেও। বরং, গর্বের।
জানুন কালি বৃত্তান্ত--
১। এমনিতে এই কালি বিক্রি হয় না। বরাত দিয়ে বানাতে হয়। নির্বাচন কমিশন ছাড়া আর কেউ বরাত দিতেও পারে না।
২। এই কালি বানানোর অনুমতি রয়েছে গোটা দেশে মোটে দু-একটি সংস্থার হাতেই। তাদের থেকেই কালি কেনে নির্বাচন কমিশন।
৩। ছেলে ভোলানো যাবে কিন্তু নির্বাচন কমিশনকে ভোলানো যাবে না। আজও সঠিকভাবে প্রকাশিত নয় ভোটের কালি তৈরির ফর্মুলা।
৪। যাঁরা বানান তাঁরাও গোটাটা জানেন না। এক এক জন জানেন এক এক অংশ জানেন। সবে মিলে করি কাজ ফর্মুলায় তৈরি হয় ভোটের কালি।
৫। যেটুকু জানা যায় তাতে এই কালির একটা প্রধান উপাদন হল রুপোর এক রাসায়নিক পদার্থ (সিলভার নাইট্রেট বা AgNO3)।
৬। ছয়ের দশকে ন্যাশনাল ফিজিকাল ল্যাবরেটরি এই ফর্মুলা তুলে দেয় দেশের একটি সংস্থাকে। মহীশূরের ওই কালি নির্মাণকারী সংস্থার নাম মাইসোর পেন্টস অ্যান্ড ভার্নিশ লিমিটেড। সংক্ষেপে ‘এমপিভিএল’।
৭। চুক্তি অনুযায়ী ওই সংস্থা আজও গোপন রেখেছে কালি-রহস্য। সংস্থার দু’এক জন বাদে বাকিদের কাছেও গোপন রাখা হয়।
৮। ওই কালির মধ্যে অ্যালকোহল মেশানো থাকে। তার ফলে অল্প সময়েই শুকিয়ে যায়। তবে মূল রহস্য আছে সিলভার নাইট্রেট-এর মধ্যেই।
৯। কালি লাগানোর সঙ্গে সঙ্গে আঙুলের চামড়ার প্রোটিনের সঙ্গে বিশেষ বিক্রিয়া ঘটায় সিলভার নাইট্রেট। আর তাতেই দাগ আর মোছা যায় না।
১০। রোদের আলো পড়লে তা আরও চেপে বসে। কালিতে সিলভার নাইট্রেট যত বেশি থাকবে তত বেশি সময় টিকে থাকবে কালি। সাধারণত তিন সপ্তাহ পর্যন্ত কালি থেকে যায়।