দ্য ওয়াল ব্যুরো: হাথরস কাণ্ডে নির্যাতিতা তরুণীর দেহ বাড়ি থেকে তুলে নিয়ে গিয়ে পুড়িয়ে দেওয়ার ঘটনায় উত্তরপ্রদেশ পুলিশের ভূমিকা নিয়ে প্রশ্ন তুলল আদালত। সোমবার এলাহাবাদ হাইকোর্টের লখনৌ বেঞ্চে এই মামলার শুনানিতে বিচারপতি বলেন, পরিবারের অনুমতি ছাড়া রাত ২টোর সময় দেহ নিয়ে গিয়ে পুড়িয়ে দেওয়ার ঘটনা নিন্দনীয়। কীভাবে পুলিশ এমন ঘটনা ঘটাতে পারল? জেলাশাসক ও পুলিশের ভূমিকা নিয়ে হাইকোর্টের প্রশ্ন, “ধনী পরিবারের মেয়ে হলে পারতেন তো এ ভাবে দেহ তুলে নিয়ে গিয়ে পুড়িয়ে দিতে?”
হাথরস কাণ্ডের তদন্তভার রয়েছে বিশেষ তদন্তকারী দল তথা সিটের হাতে। তদন্তে গাফিলতির অভিযোগে এসপি-সহ পাঁচ পুলিশ কর্মীকে ইতিমধ্যেই বরখাস্ত করা হয়েছে। গত ২৯ সেপ্টেম্বর মধ্যরাতে হাথরস গ্রামে এক ভয়ঙ্কর তাণ্ডবলীলা চালায় পুলিশ। তরুণীর মৃতদেহ জোরজবরদস্তি বাড়ি থেকে তুলে নিয়ে গিয়ে একটি গমের ক্ষেতের মধ্যে পুড়িয়ে দেওয়া হয়। নির্যাতিতার পরিবার বাধা দিতে গেলে তাঁদের চূড়ান্ত হেনস্থার মুখে পড়তে হয়। পুলিশি হেনস্থার ছবিও সোশ্যাল মিডিয়ায় ছড়িয়ে পড়ে। দেখা যায়, নির্যাতিতার মা অ্যাম্বুলেন্সের উপর পড়ে বুকফাটা আর্তনাদ করছেন। পুলিশের ভ্যান ঘিরে দাঁড়িয়ে তরুণীর বাবা, দাদা ও গ্রামবাসীরা। সকলকে টেনে হিঁচড়ে ঘরে ঢুকিয়ে তালাবন্ধ করতেও দেখা যায় পুলিশকে। হাথরসের ঘটনার বীভৎসতা ও পুলিশের এমন কর্মকাণ্ডের পরে ক্ষোভের আগুন আরও বেড়ে যায়। প্রবল চাপের মুখে কেন্দ্রীয় গোয়েন্দা সংস্থা সিবিআইয়ের হাতে হাথরসের তদন্তভার তুলে দেওয়ার জন্য সুপারিশ করেন মুখ্যমন্ত্রী যোগী আদিত্যনাথ।
নিযাতিতার ভাইয়ের অভিযোগের ভিত্তিতে ধৃতদের বিরুদ্ধে গণধর্ষণ ও খুনের অভিযোগ আনা হয়। ‘তফসিলি জাতি ও জনজাতি (নিপীড়ন প্রতিরোধ) আইন’ ভঙ্গের অভিযোগও আনা হয়। মৃত্যুর আগে হাথরসে নির্যাতিতার পরিবার গণধর্ষণের অভিযোগ এনেছিল। কিন্তু ঘটনার ১১দিন পরে ফরেন্সিক ল্যাবে পাঠানো নমুনায় বীর্যের অস্তিত্ব না মেলায় উত্তরপ্রদেশ পুলিশ নানা ভাবে প্রমাণ করতে চেয়েছে ধর্ষণের কোনও ঘটনা আদৌ ঘটেনি। ১৪ সেপ্টেম্বর নির্যাতিতা তরুণী হাসপাতালে ভর্তির পরে পরিবার স্থানীয় থানায় ধর্ষণের অভিযোগ দায়ের করলেও, পুলিশ এফআইআরে শুধু খুনের চেষ্টা লেখে বলে অভিযোগ। পরে দিল্লির হাসপাতালে তরুণীর মৃত্যুর পরে ধর্ষণ ও খুনের অভিযোগ দায়ের হলেও পুলিশের বক্তব্য ছিল গণধর্ষণ করা হয়নি তরুণীকে। যোগী পুলিশের দাবি ঘিরে তুমুল সমালোচনা শুরু হয় দেশজুড়ে।
পুলিশের এডিজি (আইনশৃঙ্খলা) এলাহাবাদ হাইকোর্টে দাবি করেন, হাথরসের ঘটনা আন্তর্জাতিক চক্রান্ত। যোগী সরকারের ভাবমূর্তি নষ্ট করার চেষ্টা চলছে। জেলাশাসক প্রবীন কুমারের বক্তব্যও ছিল একইরকম। বিচারপতি তাঁদের প্রশ্ন করেন, কী ভাবে জানলেন ধর্ষণ হয়নি? দলিত পরিবার না হয়ে ধনী পরিবারের মেয়ে হলে এভাবে রাতের অন্ধকারে দেহ তুলে নিয়ে গিয়ে জ্বালিয়ে দিতে পারতেন তো?
হাথরস মামলার পরবর্তী শুনানি হবে ১ নভেম্বর। নির্যাতিতা তরুণীকে নিয়ে ফের যোগী আদিত্যনাথকে নিশানা করে টুইট করেছেন রাহুল গান্ধী। টুইটারে তিনি লিখেছেন, অনেক ভারতীয়রাই মুসলিম, দলিত জনজাতিদের মানবিক দৃষ্টিতে দেখে না। দলিত পরিবারের তরুণী উপর নির্যাতনের ঘটনায় তাই মুখ্যমন্ত্রী ও তাঁর পুলিশ বলেছে ধর্ষণ হয়নি। কারণ, দলিত জনজাতির মূল্য তাঁদের কাছে বিশেষ নেই।