
শেষ আপডেট: 18 July 2022 03:33
দ্য ওয়াল ব্যুরো: দেশের ১৫তম রাষ্ট্রপতি নির্বাচনের (Presidential Election) জন্য আজ ভোট নেওয়া হবে। সংসদ ভবন ছাড়াও ভোটগ্রহণ করা হবে রাজ্যগুলির বিধানসভা ভবনে। আগামী ২৪ জুলাই বিদায় নেবেন দেশের ১৪তম রাষ্ট্রপতি রামনাথ কোবিন্দ। এ পর্যন্ত দেশের সাংবিধানিক প্রধানের চেয়ারে বসা ১৪জনের মধ্যে প্রথমজন, রাজেন্দ্র প্রসাদই হলেন একমাত্র, যিনি টানা দু-দফা মিলিয়ে দশ বছর রাষ্ট্রপতি ছিলেন। কেমন ছিল দেশের প্রথম রাষ্ট্রপতি নির্বাচন? ফিরে দেখল দ্য ওয়াল।
রাষ্ট্রপতি নির্বাচনের জন্য দেশে প্রথম ভোট নেওয়া হয়েছিল ১৯৫২-র ২ মে। ফল প্রকাশিত হয় চারদিন পর, ৬ মে। কারণ, আজকের মতো তখনও সমস্ত রাজ্য থেকে ব্যালট বাক্স দিল্লিতে সংসদ ভবনে নিয়ে গিয়ে গণনা হত। ট্রেনে, বাসে ব্যালট বাক্স পৌঁছনোর সময় হিসাব করেই ভোটগ্রহণ ও গণনার মধ্যে চারদিনের ব্যবধান রাখা হয়েছিল। আজ দিনে দিনে পৌঁছে যাওয়ার ব্যবস্থা থাকলেও রীতি ভাঙেনি নির্বাচন কমিশন (Election Commission)।
রাজেন্দ্র প্রসাদ (Rajendra Prasad) ছিলেন কংগ্রেসের প্রার্থী। বিহারের ছাপরার আদি বাসিন্দা, কলকাতার প্রেসিডেন্সি কলেজের প্রাক্তনী (এখন বিশ্ববিদ্যালয়) রাজেন্দ্র প্রসাদের বিরুদ্ধে প্রথম রাষ্ট্রপতি নির্বাচনে অন্য কোনও দল প্রার্থী দেয়নি। তবে চারজন ‘রাজনৈতিক নির্দল’ প্রার্থী ছিলেন। তাঁদের অন্যতম ছিলেন কুশল তালাকাশি শাহ, যিনি কেটি শাহ নামে বেশি পরিচিত ছিলেন। তিনি ছিলেন কনস্টিটিউয়েন্ট অ্যাসেম্বলির সদস্য। লন্ডন স্কুল অফ ইকোনমিক্সের স্নাতক শাহ সংবিধান চালুর সময় তাতে ‘ধর্মনিরপেক্ষ’ শব্দটি যুক্ত করার তুমুল তর্কবিতর্ক করেও সফল হননি। পরে ইন্দিরা গান্ধী সংবিধান সংশোধন করে শব্দটি যুক্ত করেন। কোনও দলের প্রার্থী না হয়েও রাজনীতিতে পরিচিত মুখ ও অবদানের জন্য কেটি ১৫ শতাংশ ভোট পেয়ে দ্বিতীয় স্থান অর্জন করেছিলেন।
দ্বিতীয় নির্দল প্রার্থী লক্ষ্ণণ গণেশ থাট্টে ছিলেন হিন্দু মহাসভার সদস্য। তিনি এক বিচিত্র মানুষ ছিলেন। সঙ্গে কৃপাণ রাখবেন বলে শিখ ধর্ম গ্রহণ করেন। নাম বদলে হয় কর্তার সিং থাট্টে।
তৃতীয় প্রার্থী চৌধুরী হরিরাম ছিলেন হরিয়ানার রোহতকের বাসিন্দা। তিনি আরও বিচিত্র। পরাধীন দেশে জমিনদার পার্টি নামে সেখানকার জমিদারদের নিয়ে দল গড়ে তাতে কৃষকদেরও টেনে এনেছিলেন ব্রিটিশের বিরুদ্ধে লড়াইয়ে। চতুর্থ প্রার্থী বাঙালি কৃষ্ণকুমার চ্যাটার্জি সম্পর্কে খুব একটা তথ্য পাওয়া যায় না। কংগ্রেস সমর্থক কৃষ্ণকুমার দক্ষিণ কলকাতার কালীঘাট এলাকার বাসিন্দা ছিলেন। তৎকালীন কলকাতায় রাজনৈতিক মহলে পরিচিত ছিলেন। ভোট পেয়েছিলেন ৫৩৩টি।