
শেষ আপডেট: 29 February 2024 19:58
দ্য ওয়াল ব্যুরো: নিয়োগ দুর্নীতি মামলার তদন্তে নেমে ২০২২ সালের ২২ জুলাই রাজ্যের তৎকালীন শিক্ষামন্ত্রী পার্থ চট্টোপাধ্যায়কে গ্রেফতার করেছিল ইডি। সেই সূত্রে পার্থ চট্টোপাধ্যায়ের ঘনিষ্ঠ বান্ধবী অর্পিতা মুখোপাধ্যায়ের টালিগঞ্জ ও বেলঘরিয়ার ফ্ল্যাটে হানা দিয়ে নগদ প্রায় ৫০ কোটি টাকা উদ্ধার করেন তদন্তকারীরা। বাজেয়াপ্ত করা হয় বিপুল পরিমাণ স্বর্ণালঙ্কারও।
বৃহস্পতিবার এই মামলার শুনানিতে উদ্ধার হওয়া সেই সব সম্পত্তির দায় অর্পিতার ঘাড়েই ঠেলেছেন পার্থ চট্টোপাধ্যায়। যদিও ইডির দাবি, পার্থ অর্পিতাকে অপরাধ করার জন্য ব্যবহার করেছিল।
এর আগে গত মঙ্গলবার এই মামলার শুনানিতে অর্পিতার সঙ্গে ঘনিষ্ঠ সম্পর্কের কথাও আদালতে অস্বীকার করেছিলেন পার্থ। আইনজীবী মারফৎ আদালতে রাজ্যের প্রাক্তন শিক্ষামন্ত্রী দাবি করেছিলেন, ঘনিষ্ঠ বান্ধবী নয়, অর্পিতার সঙ্গে তাঁর সম্পর্ক ভাইঝির মতো!
বৃহস্পতিবার ফের ওই প্রসঙ্গ আদালতে ওঠে। সেখানে উদ্ধার হওয়া যাবতীয় সম্পত্তির দায় অর্পিতার ঘাড়ে ঠেলে দিয়েছেন পার্থ। এরপরই এব্যাপারে পার্থ ও অর্পিতার বয়ান আদালতে জমা দেওয়ার জন্য ইডিকে নির্দেশ দিয়েছেন বিচারপতি তীর্থঙ্কর ঘোষ। মামলার পরবর্তী শুনানি হবে ৬ মার্চ।
গ্রেফতার হওয়ার পর থেকে তদন্তে নেমে পার্থ ও অর্পিতা সম্পর্কে কী কী তথ্য উঠে এসেছে, এদিন আদালতে ফের তা পেশ করেছে ইডি। ইডি সূত্রে পাওয়া তথ্য অনুযায়ী-
১. পার্থ চট্টোপাধ্যায় ও অর্পিতা মুখোপাধ্যায়ের মধ্যে গভীর সম্পর্ক রয়েছে। সেকারণেই দুজনে সন্তান দত্তক নিতে সম্মত হন।
২. ঘনিষ্ঠ পারিবারিক বন্ধু কীভাবে অর্পিতার কাকা হয়ে গেলেন সেটা নিয়ে ধোঁয়াশা রয়েছে ( অর্পিতার ৩১ টি এলআইসি পলিসিতে পার্থর নাম উল্লেখ করা হয়েছে)।
৩. স্নেহময় দত্তকে অর্পতাকে দেখভাল করার জন্য পার্থ চট্টোপাধ্যায় নিযুক্ত করেছিলেন। স্নেহময়-অর্পিতার সম্পর্ক কী তা জানা নেই।
৪. পার্থ-অর্পিতার সঙ্গে স্নেহময়ও গোয়া ও থাইল্যান্ড গিয়েছিলেন। স্নেহময়ের বয়ানে পার্থ-অর্পিতার সম্পর্কের কথা বলা আছে।
৫. অপা নামে পার্থ-অর্পিতার যৌথ কোম্পানি রয়েছে।
৬. অর্পিতার দু'টি ফ্ল্যাট থেকে উদ্ধার হওয়া বিপুল টাকা কার, তা নিয়ে পার্থ-অর্পিতা দুজন দুজনের দিকে আঙুল তুলছে।
৭. অর্পিতা জানিয়েছেন, টাকা ও সোনার গয়না তাঁর নয়, পার্থর। কিন্তু একা থাকা মায়ের বিপদের কথা ভেবে তিনি এই বিষয়ে বিস্তারিত বলতে ভয় পাচ্ছেন।
৮. নিম্ন আদালতে অর্পিতা দাবি করেছেন যে বিভিন্ন ক্ষেত্রে পার্থ চট্টোপাধ্যায় তাঁকে ব্যবহার করতেন আর্থিক দুর্নীতির কাজে।
৯. যতগুলো সংস্থার নাম জড়িয়েছে তার কোনও ডিরেক্টররা আপিল না করলেও একমাত্র পার্থ চট্টোপাধ্যায় আপিল করেছিলেন সমস্ত সম্পত্তি তাঁর বলে।
১০. পার্থ চট্টোপাধ্যায় প্রভাব খাটিয়ে বেশ কিছু সম্পত্তি ৩০ হাজার টাকায় কিনেছেন যার বাজার মূল্য কোটি টাকার বেশি।
১১. বাবলি চট্টোপাধ্যায় (পার্থর স্ত্রী) ফাউন্ডেশন ট্রাস্টের নামে জমি কেনা হয়েছিল ১৫ কোটি টাকা দিয়ে। পার্থ চট্টোপাধ্যায় দিয়েছিলেন। স্কুল এখনও চলছে। সম্পত্তি বাজেয়াপ্ত করেছে ইডি। এর বিরুদ্ধে নিম্ন আদালতে মামলা করেছেন পার্থ।
১২. বিভিন্ন কোম্পানির শেয়ারে পার্থ চট্টোপাধ্যায়ের স্ত্রী মারা যাওয়ার পর অর্পিতার নাম ঢোকানো হয়েছে। এর থেকেই প্রমানিত হয় তাঁদের দুজনের ঘনিষ্ঠ যোগসুত্র।
এদিন ইডির আইনজীবী আদালতে দাবি করেন, তদন্তপ্রক্রিয়াকে বিভ্রান্ত করতেই ঘনিষ্ঠ সম্পর্কের কথা অস্বীকার করে সব দোষ অর্পিতার ঘাড়ে চাপাচ্ছেন পার্থ।