
শেষ আপডেট: 8 March 2024 12:38
দ্য ওয়াল ব্যুরো: রেশন দুর্নীতির তদন্তে গত ৫ জানুয়ারি সন্দেশখালির সরবেড়িয়ায় তৃণমূল নেতা শেখ শাহজাহানের বাড়িতে গিয়ে উন্মত্ত জনতার হাতে মার খেয়েছিলেন ইডি আধিকারিকরা। ঘটনার পর থেকেই বেপাত্তা হয়ে যান শেখ শাহজাহান। ওই সময় সন্দেশখালির তৃণমূল বিধায়ক সুকুমার মাহাত শাহজাহানের সমর্থনে দাবি করেছিলেন, "শাহজাহান দেশ ছেড়ে পালিয়ে যাওয়ার মানুষ নন!"
বিস্তর জলঘোলার পর ঘটনার ৫৬ দিন পর শাহজাহানকে গ্রেফতার করে পুলিশ। আদালতের নির্দেশে এখন সিবিআই হেফাজতে সন্দেশখালির 'বাঘ'। সূত্রের খবর, কেন্দ্রীয় গোয়েন্দা সংস্থার দফায় দফায় জেরার মুখে পড়ে শরীরী ভাষা বদলাতে শুরু করেছে শাহজাহানের। ইতিমধ্যে সন্দেশখালিতেও পৌঁছে গেছে সিবিআইয়ের টিম।
এমন আবহে শুক্রবার শাহজাহান সম্পর্কে 'নয়া তথ্য' সামনে আনলেন সন্দেশখালির তৃণমূল বিধায়ক সুকুমার মাহাত। সুকুমারের দাবি, "ঘটনার দিন (৫ জানুয়ারি) সকাল সাড়ে আটটা নাগাদ শাহজাহানকে ফোন করেছিলাম। ইডির ওপর মারধর এবং ভাঙচুরের ঘটনা আটকাতে বলেছিলাম। যদিও ততক্ষণে হামলার ঘটনা ঘটে গিয়েছিল।"
প্রশ্ন উঠছে, ঘটনার প্রায় দু'মাস পর কেন একথা বলছেন সুকুমার? সিবিআই তৎপর হতেই কি বিধায়কের এই 'বোধদয়'? সুকুমারের দাবি, "আমি সক্রিয়ভাবে দল করি না। বিধায়ক হিসেবে এলাকার উন্নয়নের সঙ্গে থাকি। এলাকায় আমার তেমন কোনও রাজনৈতিক প্রভাবও নেই। দলের জেলা নেতা হাজি নুরুলের নির্দেশেই শাহজাহানকে ফোন করেছিলাম।"
সিবিআই সূত্রের দাবি, সেদিন ঘটনাস্থলেই ছিলেন শাহজাহান। শাহজাহানের একটি মোবাইলে তিনটি এবং অপর মোবাইল থেকে ১৮ টি ফোন করা হয়েছিল বা এসেছিল। প্রথম মোবাইলের তিনটি কলের মধ্যে একটি ছিল বিধায়ক সুকুমার মাহাতর। তিনিই শাহজাহানকে সেদিন সকাল সাড়ে ৮টা নাগাদ ফোন করেছিলেন।
সূত্রের দাবি, তদন্তভার হাতে নেওয়ার পর ইতিমধ্যে শাহজাহানের দুটি মোবাইলের কল লিস্টের ডিটেলস সিবিআইয়ের হাতে এসেছে। পর্যবেক্ষকদের মতে, বিষয়টি আন্দাজ করে তাই দেরিতে হলেও 'গোপন কথা' সামনে আনলেন সন্দেশখালির বিধায়ক।