
শেষ আপডেট: 8 January 2024 20:52
দ্য ওয়াল ব্যুরো: রাজ্যপাল সিভি আনন্দ বোসের ডাকে সাড়া দিয়ে সোমবার সন্ধেয় রাজভবনে গেলেন বিধানসভার বিরোধী দলনেতা শুভেন্দু অধিকারীর বাবা শিশির অধিকারী এবং ভাই দিব্যেন্দু অধিকারী। শিশিরবাবু এবং দিব্যেন্দু দু’জনেই পূর্ব মেদিনীপুরের সাংসদ। খাতায়কলমে এখনও তাঁরা তৃণমূলের সাংসদ।
২০১৯ সালের ১৯ ডিসেম্বর শুভেন্দু দলবদলের পর থেকে অবশ্য শিশিরবাবুকে তৃণমূলের কোনও অনুষ্ঠানে দেখা যায়নি। পরিবর্তে প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদী এবং কেন্দ্রীয় স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী অমিত শাহর অনুষ্ঠানে দেখা গিয়েছে বর্ষীয়ান এই সাংসদকে। দলের সঙ্গে দূরত্ব বজায় রেখেছেন দিব্যেন্দুও।
গেরুয়া শিবির সূত্রের খবর, এবারের লোকসভা ভোটে পূর্ব মেদিনীপুর থেকে প্রার্থী হতে পারেন দিব্যেন্দু। সন্দেশখালি কাণ্ডের জেরে সরগরম রাজ্য রাজনীতি। ঘটনার পর কেন্দ্রীয় হস্তক্ষেপ চেয়ে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী অমিত শাহকে চিঠি দিয়েছিলেন তমলুকের সাংসদ দিব্যেন্দু। রবিবার এ ব্যাপারে রাজ্যপাল সিভি আনন্দ বোসকেও চিঠি দেন তিনি। এমন আবহে রাজ্যপালের সঙ্গে তাঁদের সাক্ষাৎকার যথেষ্ট গুরুত্বপূর্ণ বলেই মনে করছে রাজনৈতিক মহল।
সূত্রের খবর, এদিন প্রায় এক ঘণ্টা রাজ্যপালের সঙ্গে একান্ত সাক্ষাৎকার হয় শিশিরবাবু ও দিব্যেন্দুর। মিষ্টি এবং ফুল নিয়ে গিয়েছিলেন অধিকারী তাঁরা। রাজ্যপালের তরফেও চা, মিষ্টি এবং বিস্কুট দেওয়া হয়। পরস্পর পরস্পরের শারীরিক সুস্থতার খোঁজখবর নেন। রাজ্যপাল শিশিরবাবুকে একটি বই উপহার দেন। শিশিরবাবুও রাজ্যপালকে কাঁথির শান্তিকুঞ্জে (অধিকারী বাড়ি) যাওয়ার আমন্ত্রণ জানান।
কী কথা হল? রাজভবন থেকে গাড়িতে ওঠার সময় শিশিরবাবুর দাবি, “সৌজন্য সাক্ষাৎ। রাজনৈতিক কোনও কথা হয়নি। উনি বাংলার রাজ্যপাল হিসেবে দায়িত্ব নেওয়ার পরই আসতে বলেছিলেন। আজকে সময় পেয়েছি, তাই এলাম।”
রাজ্যের বর্তমান আইন-শৃঙ্খলা নিয়ে রাজ্যপালের সঙ্গে শিশিরবাবুর আলোচনা হয়নি? দ্য ওয়ালকে একান্ত সাক্ষাৎকারে দিব্যন্দু বলেন, “একজন রাজ্যের সাংবিধানিক প্রধান। অন্যজন রাজ্যের বর্ষীয়ান সাংসদ। রাজ্যের সাম্প্রতিক আইন-শৃঙ্খলা নিয়ে আলোচনা তো হবেই।”
তৃণমূল নেতা শাহজাহান শেখকে গ্রেফতার করতে গিয়ে গত শুক্রবার সন্দেশখালিতে আক্রান্ত হয়েছিলেন ইডির অফিসাররা। কেন্দ্রীয় বাহিনীর উপস্থিতিতেও রীতিমতো প্রাণ হাতে নিয়ে দৌড়ে পালাতে হয় তদন্তকারীদের। ওই ঘটনার পরই রাজ্যের আইন-শৃঙ্খলা নিয়ে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রীকে চিঠি লিখেছিলেন দিব্যেন্দু।
ঘটনার পর তিনি বলেছিলেন, 'কোর্টের নির্দেশে তদন্ত করতে গিয়ে বাংলায় কেন্দ্রীয় তদন্তকারী অফিসাররা মার খাচ্ছেন।' পুলিশের ভূমিকা নিয়েও প্রশ্ন তুলেছিলেন তমলুকের সাংসদ। তাঁর কথায়, 'পুলিশ ইডি আধিকারিকদের উদ্ধার করতেও যায়নি। অবিলম্বে কেন্দ্র সরকার হস্তক্ষেপ করুন। আইনি পদক্ষেপ করুন।'
এ ব্যাপারে রবিবার রাজ্যপালকে চিঠি লিখেছিলেন তিনি। দিব্যেন্দু বলেন, “রাজ্যপাল আমার চিঠি গ্রহণ করেছেন। প্রয়োজনীয় পদক্ষেপের আশ্বাস দিয়েছেন।”