
ফাইল ছবি।
শেষ আপডেট: 19 October 2024 14:16
দ্য ওয়াল ব্যুরো: শুক্রবার রাতে রাজ্য সরকারকে ডেডলাইন বেঁধে দিয়েছেন জুনিয়র ডাক্তাররা। গত ৫ অক্টোবর থেকে ১০ দফা দাবিতে ধর্মতলায় আমরণ অনশনে বসেছেন তাঁরা। সোমবারের মধ্যে আলোচনায় বসে দাবি পূরণ না করা হলে মঙ্গলবার রাজ্যজুড়ে স্বাস্থ্য ধর্মঘটের ডাক দিয়েছেন তাঁরা।
যদিও এর আগে আন্দোলনকারীদের সঙ্গে বৈঠক শেষে মুখ্যসচিব মনোজ পন্থ স্পষ্ট জানিয়েছিলেন, ওদের ১০ দফার মধ্যে তিনটি দাবি সময় সাপেক্ষ। রাতারাতি ডেডলাইন ধরে ওগুলো করা সম্ভব নয়।
তারপরও জুনিয়র চিকিৎসকরা ডেডলাইন বেঁধে দেওয়ায় নানা মহলে নানা প্রশ্ন উঠছে। ঠিক কোন কোন দাবিগুলি নিয়ে জটিলতা তৈরি হচ্ছে, তা নিয়েও কৌতূহল রয়েছে জনমানসে।
জুনিয়র ডাক্তারদের ১০ দফা দাবি কী কী?
১) দীর্ঘসূত্রিতায় বিভ্রান্ত না করে দ্রুত ও স্বচ্ছতার সাথে অভয়ার ন্যায়বিচার সুনিশ্চিত করতে হবে।
২) স্বাস্থ্যক্ষেত্রে প্রশাসনিক অক্ষমতা ও দুর্নীতির দায় স্বাস্থ্যমন্ত্রককে নিতে হবে এবং স্বাস্থ্যসচিবকে অবিলম্বে তাঁর পদ থেকে অপসারণ করতে হবে।
৩) অবিলম্বে রাজ্যের সমস্ত হাসপাতাল ও মেডিকাল কলেজে কেন্দ্রীয় রেফারাল ব্যবস্থা চালু করতে হবে।
৪) প্রতিটি মেডিকাল কলেজ ও হাসপাতালে ডিজিটাল বেড ভ্যাকান্সি মনিটর চালু করতে হবে।
৫) অতি দ্রুত সব কটি মেডিক্যাল কলেজ ও হাসপাতালে জুনিয়র ডাক্তারদের নির্বাচিত প্রতিনিধিত্ব সহ কলেজ ভিত্তিক টাস্ক ফোর্স গঠন করে প্রয়োজনমাফিক সিসিটিভি, অন কল রুম, বাথরুমের সাথে হেল্পলাইন নম্বর, প্যানিক বোতামের ব্যবস্থা করতে হবে।
৬) হাসপাতালগুলিতে পুলিশি সুরক্ষা বাড়াতে হবে। সিভিক ভলেন্টিয়ার নয়, স্থায়ী পুরুষ ও মহিলা পুলিশকর্মী নিয়োগ করতে হবে।
৭) হাসপাতালগুলিতে ডাক্তার-নার্স-স্বাস্থ্যকর্মীদের শূন্যপদগুলি অবিলম্বে পূরণ করতে হবে৷
৮) প্রতিটি মেডিকাল কলেজে থ্রেট সিন্ডিকেটে জড়িতদের বিরুদ্ধে এনকোয়ারি কমিটি বসিয়ে তাদের শাস্তি দিতে হবে। রাজ্যস্তরেও এনকোয়ারি কমিটি তৈরী করতে হবে।
৯) অবিলম্বে রাজ্যের প্রতিটি মেডিকাল কলেজে ছাত্রসংসদ নির্বাচন করতে হবে। সব কটি কলেজে আর ডি এ কে স্বীকৃতি দিতে হবে। কলেজ/হাসপাতাল পরিচালনার সব কটি কমিটিতে ছাত্রছাত্রী ও জুনিয়র ডাক্তারদের নির্বাচিত প্রতিনিধিত্ব সুনিশ্চিত করতে হবে।
১০) WBMC ও WBHRB-এর অভ্যন্তরে যে ব্যাপক দুর্নীতি ও বেনিয়মের অভিযোগ আছে তার সাপেক্ষে দ্রুত তদন্তপ্রক্রিয়া শুরু করতে হবে।
রাজ্যের বক্তব্য, প্রথম দাবিটি আদালতে বিচারাধীন। সিবিআই তদন্ত করছে। ৩ থেকে ১০ দাবি ইতিমধ্যে পূরণের প্রক্রিয়া শুরু হয়েছে। ৯ এবং ১০ নম্বর দাবি পূরণ সময়সাপেক্ষ বিষয়। একই সঙ্গে দু'নম্বর দাবিটি কোনও অবস্থাতেই মেনে নেওয়া সম্ভব নয় বলে নবান্ন সূত্রের খবর।
প্রশাসনের একাংশের মতে, এর আগে আন্দোলনকারীদের দাবি মেনে কলকাতা পুলিশ কমিশনার পদে বদল ঘটানো হয়েছে। শিক্ষা দফতরের দুই শীর্ষ কর্তাকেও বদলি করা হয়েছে। এরপর স্বাস্থ্যসচিবের অপসারণ মেনে নিলে ওরা হয়তো বলে বসবে, স্বাস্থ্যমন্ত্রীর পদত্যাগ চাই।
প্রশাসনের ওই অংশের মতে, মূল দাবি থেকে সরে গিয়ে যেভাবে অন্যান্য দাবিগুলিকে সামনে আনা হচ্ছে তাতে রাজনৈতিক ইন্ধন যে রয়েছে তা স্পষ্ট। ফলে 'স্বাস্থ্যক্ষেত্রে প্রশাসনিক অক্ষমতা ও দুর্নীতির দায় স্বাস্থ্যমন্ত্রককে নিতে হবে এবং স্বাস্থ্যসচিবকে অবিলম্বে তাঁর পদ থেকে অপসারণ' আন্দোলনকারীদের এই দাবির সঙ্গে সহমত হতে পারছে না রাজ্য প্রশাসন।
অন্যদিকে ১০ দফা দাবি পূরণে অনড় আন্দোলনকারীরাও। এমন পরিস্থিতিতে শনিবারই ফের জুনিয়র চিকিৎসকদের সঙ্গে বৈঠকে বসে আলাপ আলোচনার মাধ্যমে প্রশাসনের শীর্, কর্তারা সমস্যার সমাধানের বার্তা দিতে পারেন বলে কোনও কোনও মহলের ধারণা।
এদিকে টানা অনশনের জেরে অনশনকারীদের মধ্যে অনেকেরই শারীরিক অবস্থা ক্রমশ খারাপ হচ্ছে। এই মুহূর্তে আমরণ অনশন চালিয়ে যাচ্ছেন এসএসকেএমের নেফ্রোলজি বিভাগের পিডিটি প্রথম বর্ষের পড়ুয়া অর্ণব মুখোপাধ্যায়, কেপিসি মেডিক্যাল কলেজের প্যাথোলজি বিভাগের পিজিটি তৃতীয় বর্ষের পড়ুয়া সায়ন্তনী ঘোষ হাজরা, কলকাতা মেডিক্যাল কলেজের ক্যানসার বিভাগের সিনিয়র রেসিডেন্ট ডাক্তার স্নিগ্ধা হাজরা, ভিআইএমএস (শিশুমঙ্গল) হাসপাতালের ইএনটি (নাক, কান, গলা) বিভাগের পিজিটি দ্বিতীয় বর্ষের ছাত্র পরিচয় পণ্ডা, কলকাতা ন্যাশনাল মেডিক্যাল কলেজের সার্জারি বিভাগে পিজিটি প্রথম বর্ষের ছাত্রী আলোলিকা ঘোড়ুই, অল ইন্ডিয়া ইনস্টিটিউট অফ হাইজিন অ্যান্ড পাবলিক হেলথের পভার্টি মেডিসিনের তৃতীয় বর্ষের পড়ুয়া রুমেলিকা কুমার, মেদিনীপুর মেডিক্যাল কলেজের পিজিটি দ্বিতীয় বর্ষের ছাত্র স্পন্দন চৌধুরী এবং উত্তরবঙ্গ মেডিক্যাল কলেজের ইএনটি (নাক, কান, গলা সংক্রান্ত) বিভাগের পিজিটি দ্বিতীয় বর্ষের ছাত্র সন্দীপ মণ্ডল। সূত্রের খবর, ইতিমধ্যে তাঁদের নানাবিধ শারীরিক সমস্যা দেখা দিয়েছে।