দ্য ওয়াল ব্যুরো : ভোটের আগে দেওয়া প্রতিশ্রুতি পালন করতে ব্যর্থ হয়েছেন পাঞ্জাবের মুখ্যমন্ত্রী ক্যাপটেন অমরিন্দর সিং (Amarinder Singh)। কংগ্রেস হাইকম্যান্ডের কাছে এমনই অভিযোগ করেছিলেন তাঁর বিরোধী গোষ্ঠীর বিধায়করা। প্রাক্তন ক্রিকেটার তথা পাঞ্জাব প্রদেশ কংগ্রেসের সভাপতি নভজ্যোৎ সিং সিধু অভিযোগ করেছিলেন, কৃষকদের থেকে বিদ্যুতের বেশি দাম নিচ্ছে পাঞ্জাব সরকার। এছাড়া ধর্মের অবমাননার মামলাতেও যথাযথ ব্যবস্থা নিতে পারেননি ক্যাপটেন। শনিবার পদত্যাগ করার আগে সনিয়াকে একটি চিঠি লেখেন অমরিন্দর। তাতে প্রতিটি অভিযোগেরই জবাব দিয়েছেন বর্ষীয়ান নেতা।
চিঠির শুরুতে ক্যাপটেন লিখেছেন, গত পাঁচ মাস ধরে পাঞ্জাবের রাজনীতিতে যা ঘটছে, তাতে আমি অত্যন্ত উদ্বিগ্ন। পরে তিনি দাবি করেন, ২০১৭ সালের ভোটের আগে যে প্রতিশ্রুতি দেওয়া হয়েছিল, তার ৮৯.২ শতাংশ পূরণ করা হয়েছে। বাকি প্রতিশ্রুতিগুলিও পূরণ করার জন্য কাজ চলছে।
২০১৫ সালে পাঞ্জাবে একটি পবিত্র ধর্মগ্রন্থের অবমাননা করা হয়। তার বিরুদ্ধে জনতা বিক্ষোভ দেখালে ফরিদকোটে পুলিশ গুলি চালায়। গত এপ্রিলে পাঞ্জাব ও হরিয়ানা হাইকোর্ট ওই মামলায় তদন্তের ফলাফল নাকচ করে দিয়েছে। এরপরই সিধু বলেন, অমরিন্দর সিং ওই ঘটনার যথাযথ তদন্ত করাননি।
ওই অভিযোগের জবাবে অমরিন্দর লিখেছেন, পূর্বতন অকালি-বিজেপি সরকারের আমলে ধর্মাবমাননা মামলার তদন্তের দায়িত্ব সিবিআইকে দেওয়া হয়েছিল। তারা তদন্তের দায়িত্ব ফের রাজ্যের হাতে ফিরিয়ে দিতে চায়নি। এর পরেও তাঁর আমলে ২৪ জনকে চার্জশিট দেওয়া হয়েছে। ১৫ জন পুলিশকর্মীকে সাসপেন্ড করা হয়েছে। গ্রেফতার হয়েছেন ১০ জন।
একইসঙ্গে প্রাক্তন মুখ্যমন্ত্রী লিখেছেন, তাঁর আমলে বিদ্যুৎ পরিবহণের উপযোগী পরিকাঠামো নির্মাণে সরকার কোটি কোটি টাকা খরচ করেছে। বিদ্যুতের সাধারণ উপভোক্তা ও কৃষকদের সুবিধার জন্য প্রতি বছর খরচ করা হয়েছে কোটি কোটি টাকা। অমরিন্দর দাবি করেছেন, কৃষকদের ঋণ মকুব এবং মাদক চোরাচালান বন্ধের জন্য তাঁর আমলে যথেষ্ট ব্যবস্থা নেওয়া হয়েছে।
শেষে অমরিন্দর সিং লিখেছেন, "আশা করি আমার পদত্যাগের ফলে পাঞ্জাবে অতি কষ্টে অর্জিত শান্তি বিঘ্নিত হবে না। যে কাজগুলিকে আমি গুরুত্ব দিয়েছিলাম, তা আগের মতোই চলবে। রাজ্যের মানুষ ন্যায়বিচার পাবেন।"
রবিবার শোনা যাচ্ছে, পাঞ্জাবের নতুন মুখ্যমন্ত্রী হতে পারেন তিনবারের বিধায়ক সুখজিন্দর রণধাওয়া। তিনি গুরুদাসপুরের এক বিধানসভা কেন্দ্র থেকে নির্বাচিত হয়েছেন। ৬২ বছরের রণধাওয়া বর্তমানে পাঞ্জাব প্রদেশ কংগ্রেসের সহ সভাপতি। এছাড়া তিনি কারা ও সমবায় মন্ত্রকের দায়িত্বে আছেন। তাঁর বাবা সন্তোখ সিং একসময় পাঞ্জাব প্রদেশ কংগ্রেসের সভাপতি ছিলেন।