দ্য ওয়াল ব্যুরো : বুধবার ‘ভারতবিরোধী প্রচার ও ভুল ধারণার বিরুদ্ধে’ এক সভায় যোগ দেন অভিনেত্রী জুহি চাওলা। সেখানে নাগরিকত্ব আইন নিয়ে প্রশ্নের জবাবে তিনি বলেন, সব সময় সরকারের সমালোচনা না করে আমাদের নিজেদের আচরণ সম্পর্কে ভেবে দেখা উচিত।
সব ব্যাপারেই যেভাবে অভিনেতা-অভিনেত্রীদের মতামত জানতে চাওয়া হয়, তারও সমালোচনা করেন জুহি। তাঁর কথায়, “কোনও শিল্পীকে প্রতিটি ঘটনায় প্রতিক্রিয়া জানাতে বলা ঠিক নয়। কারণ একটা ঘটনা ঘটলে তার ভালমন্দ বুঝতে সময় লাগে।”
পরে তিনি বলেন, “আমরা যখন কাজে যাই, কীভাবে অভিনীত চরিত্রটি ফুটিয়ে তুলব, সেদিকেই মনোযোগ থাকে। এমন সময় হয়ত কোথাও কিছু ঘটল। রিপোর্টারেরা আমাদের প্রশ্ন করেন, এ ব্যাপারে আপনার মতামত কী? আমরা ব্যাপারটা বুঝিইনি। কেউই হয়তো বোঝেনি। কিন্তু আমাদের কাছে প্রতিক্রিয়া জানতে চাওয়া হয়।”
নাগরিকত্ব আইন সম্পর্কে তিনি বলেন, “আগে মানুষকে বুঝতে দিন, এনআরসি বা সিএএ ব্যাপারটা কী। তার আগেই এত কথা বলা হচ্ছে কেন?” পরে তিনি বলেন, “দুঃখের ব্যাপার হল, মানুষ ঐক্যের চেয়ে বিভাজন নিয়েই কথা বলছে বেশি। লোকে বলে, সরকার এটা কেন করল? ওটা কেন করল? কিন্তু আমি বলি, কেউ যদি সরকারের দিকে একটা আঙুল দেখায়, নিজের দিকে তিনটে আঙুল দেখানো উচিত।” সকলের কাছে অভিনেত্রী আবেদন জানান, “শান্ত হোন। পরিস্থিতিটা বোঝার চেষ্টা করুন।”
গত কয়েকদিন ধরে এনআরসি নিয়ে বিতর্কে জড়িয়েছে বলিউড। মঙ্গলবার সন্ধ্যায় দিল্লির জওহরলাল ইউনিভার্সিটির সবরমতী হস্টেলে গিয়েছিলেন দীপিকা পাড়ুকোন। দেখা করেছিলেন জেএনইউ-এর ছাত্র সংসদের সভানেত্রী ঐশী ঘোষের সঙ্গে। সেসময় পাশেই বক্তব্য পেশ করছিলেন কানহাইয়া কুমার। তারপরেই বক্তব্য রাখেন ঐশীও। পুরো সময়টা একপাশে চুপ করে দাঁড়িয়ে সবটা শুনছিলেন দীপিকা। একটাও কথা বলেননি মিডিয়ার সঙ্গে।
দীপিকার পাশে দাঁড়িয়েছেন বলিউডের একটা বড় অংশ। পরিচালক অনুরাগ কাশ্যপ, অভিনেত্রী স্বরা ভাস্কর থেকে শুরু করে বিক্রান্ত মাসে, সায়নী গুপ্ত, শাবানা আজমি ও আরও অনেকেই রয়েছেন দীপিকার পাশে। অদ্ভুত ভাবেই কেন্দ্রের ডাকা ‘এনআরসি এবং সিএএ’-এর স্বপক্ষের আলোচনায় যোগ দিলেও দীপিকার কাজের প্রশংসা করেছেন অভিনেতা রণবীর শোরে। রবিবার জেএনইউ-তে হওয়া হামলা যে তীব্র নিন্দনীয় সে কথা স্বীকার করেছেন বরুণ ধাওয়ানও। অন্যদিকে জুহি চাওলার মতো অভিনেত্রীরা কার্যত দাঁড়িয়েছেন সরকারের পাশে।