
শেষ আপডেট: 28 November 2023 23:37
দ্য ওয়াল ব্যুরো: টানা ১৭ দিনের বন্দিদশা থেকে মঙ্গলবার রাতে অবশেষে মুক্ত হয়েছেন ৪১ জন শ্রমিক। উত্তরকাশীর সিল্কিয়ারা টানেলের ভিতর থেকে এদিন এক এক করে শ্রমিকরা বেরিয়ে আসতেই স্বস্তির নিশ্বাস ফেলতে শুরু করেন দেশবাসীরা। ৪০০ ঘণ্টারও বেশি সময় আটকে থাকার পর মাত্র ৪০ মিনিটের মধ্যেই উদ্ধারকাজ শেষ করা হয়। আর সেই সুখবর পৌঁছতেই অকাল দীপাবলি পালন শুরু হয়েছে পশ্চিমবঙ্গ থেকে যাওয়া তিন শ্রমিকের বাড়ি ও পাড়ায়।
টানেলে আটকে থাকা তিন শ্রমিককে বাড়ি ফেরাতে মঙ্গলবারই উত্তরকাশীতে পৌঁছে গিয়েছে রাজ্য সরকারের তিন প্রতিনিধি দল। তবে কোচবিহারের মাণিক তালুকদার বা হুগলির পুরশুড়ার সৌভিক পাখিরা ও জয়দেব প্রামাণিকের বাড়ি থেকে কেউ যাননি। তবে এদিন বিকেল থেকেই আশায় বুক বাঁধতে শুরু করেন। তাঁদের যেন ধীরে সুস্থে বের করে আনা সম্ভব হয়, ভগবানের কাছে সেই প্রার্থনাই করছিলেন পরিবার ও প্রতিবেশীরা।
এদিন টানা ১৭ দিন পর ছেলে সৌভিকের সঙ্গে কথা বললেন মা লক্ষ্মী পাখিরা। সৌভিকের বয়স ২৪ বছর। এদিন টানেল থেকে বেরিয়ে আসার পর তিনি নিজেই ফোন করেছিলেন। ফোন ধরেই মা বললেন, “চেকআপ করিয়েছ তো?” এরপর বেশ খানিকক্ষণ মা-ছেলের কথা হয় ফোনেই। পরে সংবাদমাধ্যমের সামনে সৌভিকের মা বললেন, “বুক থেকে একটা পাহাড় নেমে গেল যেন। ছেলের গলার আওয়াজ পেয়ে খুব ভাল লাগছে।”
পুরশুড়ারই বাসিন্দা জয়দেবের বয়স মাত্র ১৯। এখানে কাজ না পেয়ে ভিনরাজ্যে পরিযায়ী শ্রমিকের কাজ নিয়ে চলে গিয়েছিল সে। এদিন টানেল থেকে বেরিয়েই মা’কে ফোন করেন তিনি। মা তপতী প্রামাণিক তখনও খানিকটা ঘোরের মধ্যে। উৎকণ্ঠা কেটে গেলেও ছেলেকে যতক্ষণ না কাছে পাচ্ছেন, ততক্ষণ হয়তো মনের জোর খুঁজে পাচ্ছেন না তিনি। ছেলে ফিরলেই তাঁকে মাছ-মাংস রেঁধে খাওয়াবেন বলে জানিয়েছেন তপতীদেবী।
এদিকে টানেল থেকে বেরিয়ে আসতেই মাণিক তালুকদারের বাড়িতে হাততালির জোয়ার ওঠে। ভিডিওকলে কথা হয় পরিবারের সঙ্গে। গ্রামের মহিলারা উলুধ্বনি দিতে শুরু করেন। বাবার সঙ্গে কথা বলে ১৭ দিন পর খানিক শান্তি পেলেন মাণিকবাবুর মেয়েও। ঘরের ছেলের মঙ্গল কামনায় কোচবিহারের এই পাড়া গাঁ-এ গত কয়েক রাত কেউই দু’চোখের পাতা এক করতে পারেননি। অবশেষে মঙ্গলবার রাতে তাঁদের সেই অপেক্ষার অবসান হল।