কলকাতা-সহ দক্ষিণবঙ্গে কালবৈশাখীর সতর্কতা। একাধিক জেলায় লাল সতর্কতা জারি, ঝড়ের বেগ ৮০ কিমি পর্যন্ত যেতে পারে।

আবহাওয়া
শেষ আপডেট: 8 April 2026 19:29
দ্য ওয়াল ব্যুরো: দক্ষিণবঙ্গ জুড়ে ফের কালবৈশাখীর দাপট বাড়তে চলেছে। কলকাতা-সহ একাধিক জেলায় ঝড়-বৃষ্টি ও বজ্রবিদ্যুতের সতর্কতা জারি করেছে আবহাওয়া দফতর। কয়েকটি জেলায় পরিস্থিতি আরও গুরুতর হওয়ায় লাল সতর্কতাও ঘোষণা করা হয়েছে।
কলকাতা-সহ দক্ষিণবঙ্গের বিস্তীর্ণ এলাকায় কালবৈশাখী ঝড়ের আশঙ্কা রয়েছে। সঙ্গে ভারী বৃষ্টির সম্ভাবনাও রয়েছে বলে জানিয়েছে আলিপুর আবহাওয়া দফতর। ইতিমধ্যেই আটটি জেলায় লাল সতর্কতা জারি করা হয়েছে। ঝড়ের বেগ ঘণ্টায় ৮০ কিলোমিটার পর্যন্ত পৌঁছাতে পারে।
বুধবার সন্ধ্যায় হুগলি, পশ্চিম মেদিনীপুর, পূর্ব বর্ধমান, হাওড়া, পুরুলিয়া, বাঁকুড়া, বীরভূম এবং পশ্চিম বর্ধমানে লাল সতর্কতা জারি হয়েছে। এই জেলাগুলিতে ঝড়ের বেগ ঘণ্টায় ৭০ থেকে ৮০ কিলোমিটার হতে পারে। পাশাপাশি নদিয়া, মুর্শিদাবাদ ও উত্তর ২৪ পরগনাতেও লাল সতর্কতা রয়েছে, যেখানে ঝড়ের গতি ৬০ থেকে ৭০ কিলোমিটার হতে পারে।
হুগলি, পূর্ব বর্ধমান ও উত্তর ২৪ পরগনায় ভারী বৃষ্টির সম্ভাবনা রয়েছে। বীরভূম ও পশ্চিম বর্ধমানে শিলাবৃষ্টিও হতে পারে। কলকাতা-সহ দক্ষিণবঙ্গের অন্যান্য জেলাগুলিতেও বৃষ্টি হবে এবং ঝড়ের বেগ থাকবে ঘণ্টায় ৫০ থেকে ৬০ কিলোমিটার।
বৃহস্পতিবার কলকাতা, উত্তর ও দক্ষিণ ২৪ পরগনা, পূর্ব মেদিনীপুর, হাওড়া ও নদিয়ায় বজ্রবিদ্যুৎ-সহ হালকা থেকে মাঝারি বৃষ্টির সম্ভাবনা রয়েছে। প্রায় সব জেলাতেই ৩০ থেকে ৪০ কিলোমিটার বেগে দমকা হাওয়া বইতে পারে।
শুক্রবার দুই মেদিনীপুর, দক্ষিণ ২৪ পরগনা ও ঝাড়গ্রামে বিক্ষিপ্ত বৃষ্টির সম্ভাবনা থাকলেও, বাকি জেলাগুলিতে শুক্রবার থেকে রবিবার পর্যন্ত আবহাওয়া শুষ্ক থাকতে পারে। তবে রবিবারের পর দক্ষিণ ও পশ্চিমের কিছু জেলায় ফের বিক্ষিপ্ত বৃষ্টি হতে পারে।
উত্তরবঙ্গেও দুর্যোগের আশঙ্কা রয়েছে। বুধবার আলিপুরদুয়ার ও জলপাইগুড়িতে ভারী বৃষ্টি হতে পারে। দার্জিলিং ও কালিম্পঙের কিছু এলাকায় শিলাবৃষ্টির সম্ভাবনা রয়েছে। বৃহস্পতিবারও পাহাড় সংলগ্ন পাঁচ জেলায় বজ্রবিদ্যুৎ-সহ বৃষ্টি ও ৪০ থেকে ৫০ কিলোমিটার বেগে ঝোড়ো হাওয়ার সতর্কতা জারি করা হয়েছে। উত্তরবঙ্গে এই খারাপ আবহাওয়া সোমবার পর্যন্ত চলতে পারে।
এদিকে, উত্তর ওড়িশা এবং পশ্চিমবঙ্গ সংলগ্ন উপকূল এলাকায় ঘণ্টায় ৪০ থেকে ৫০ কিলোমিটার বেগে ঝোড়ো হাওয়া বইছে। তাই আগামী অন্তত ২৪ ঘণ্টা মৎস্যজীবীদের সমুদ্রে না যাওয়ার পরামর্শ দেওয়া হয়েছে।
আবহাওয়া দফতর জানিয়েছে, একটি পূর্ব-পশ্চিম অক্ষরেখা উত্তর-পশ্চিম উত্তরপ্রদেশ থেকে বিহার, পশ্চিমবঙ্গ, উত্তর বাংলাদেশ হয়ে মেঘালয়, দক্ষিণ-পূর্ব অসম পেরিয়ে মণিপুর পর্যন্ত বিস্তৃত। এর উচ্চতা সমুদ্রপৃষ্ঠ থেকে প্রায় ১.৫ কিলোমিটার। এছাড়া ছত্তীসগড় ও সংলগ্ন এলাকায় একটি ঘূর্ণাবর্ত তৈরি হয়েছে, যা প্রায় ০.৯ কিলোমিটার উচ্চতায় অবস্থান করছে।
এর পাশাপাশি তেলঙ্গানা ও তামিলনাড়ুর উপর থাকা আরেকটি অক্ষরেখার সঙ্গে এই ব্যবস্থার সংযোগ ঘটেছে। ফলে বঙ্গোপসাগর থেকে প্রচুর জলীয় বাষ্প ঢুকছে স্থলভাগে, যার কারণে পশ্চিমবঙ্গে ঝড়-বৃষ্টির অনুকূল পরিস্থিতি তৈরি হয়েছে।