
শেষ আপডেট: 14 February 2024 14:41
দ্য ওয়াল ব্যুরো: টাকিতে ইছামতি নদীর তীরে দাঁড়িয়ে পশ্চিমবঙ্গ পুলিশকে চ্যালেঞ্জ ছুড়ে দিলেন বিজেপির রাজ্য সভাপতি সুকান্ত মজুমদার।
সন্দেশখালি যাওয়ার পথে পুলিশি বাধা পেয়ে বুধবার দুপুরে টাকিতে ইছামতির পাড়ে সরস্বতী বন্দনায় বসেন সুকান্ত। সরস্বতী পুজো শেষে রাজ্য পুলিশকে কটাক্ষ করে সুকান্ত বলেন, "পশ্চিমবঙ্গ পুলিশের অত বুদ্ধি নেই। মনে রাখবেন, আমি একজন মাস্টারমশাই। ছাত্ররা কী কী করতে পারে, সেটা আমার জানা আছে। ওরা ডালে চললে আমি পাতায চলতে জানি।"
ঘটনার সূত্রপাত, বুধবার সন্দেশখালির প্রবেশপথের ১৯টি জায়গায় বুধবার সকাল থেকে নতুন করে ১৪৪ ধারা জারি করে পুলিশ। এরপরই সুকান্ত নিজের কর্মসূচি বদলে জানিয়ে দেন, টাকির হোটেলে নয়, সরস্বতী পুজো করবেন সন্দেশখালিতে। বিজেপির রাজ্য সভাপতি এও জানান, পথে পুলিশের বাধা যেখানে পাবেন সেখানেই বাগদেবীর পুজোয় বসবেন তিনি।
পুলিশের চোখে ধুলো দিতে এদিন হোটেলের সামনে একটি সরস্বতী নিয়ে বাইরে বেরনোর চেষ্টা করেন কর্মীরা। পুলিশ বাধা দেয়। সূত্রের খবর, পুলিশের নজর ঘোরাতেই এই কৌশল নেওয়া হয়। ততক্ষণে হোটেলের পিছনের গেট দিয়ে টাকির ইছামতি নদীর তীরে পৌঁছে যান সুকান্ত। পুলিশের বাধার মুখে পড়ে সেখানেই শুরু করেন বাগদেবীর বন্দনা।
বিজেপির রাজ্য সভাপতির অভিযোগ, "পুলিশের ধস্তাধস্তিতে সরস্বতী প্রতিমার একটি হাত ভেঙে গিয়েছে। আমরা ওই ভাঙা হাত নিয়েই পুজো করলাম। বাংলায় আইনশৃঙ্খলার পরিস্থিতি কোন জায়গায় পৌঁছেছে তা এই ঘটনা থেকেই স্পষ্ট।"
বিজেপির রাজ্য সভাপতির আরও অভিযোগ, পুলিশ বেপাত্তা তৃণমূল নেতা শাহজাহান শেখের দলবলের হয়ে কাজ করছে। তাই সন্দেশখালিতে ঢুকতে বাধা দেওয়া হচ্ছে।
যদিও পুলিশের তরফে পরিষ্কারভাবে জানানো হয়েছে, এলাকার শান্তিশৃঙ্খলার স্বার্থেই এই মুহূর্তে বহিরাগত প্রবেশে বাধা নিষেধ আরোপ করা হয়েছে। অন্যদিকে শাসক দল তৃণমূলের তরফে বিজেপির বিরুদ্ধে এলাকায় নতুন করে উত্তেজনার পরিবেশ তৈরির চেষ্টার অভিযোগ আনা হয়েছে। তৃণমূলের মুখপাত্র কুণাল ঘোষ বলেন, "সারা বছর মানুষের পাশে না থেকে বিশৃঙ্খলা তৈরির চেষ্টা করছে বিজেপি। বাংলার মানুষ এই জিনিস বরদাস্ত করবেন না।"