
শেষ আপডেট: 15 April 2024 12:16
দ্য ওয়াল ব্যুরো: দাড়িভিট মামলায় ভার্চুয়ালি আদালতে হাজির হলেন মুখ্য সচিব, স্বরাষ্ট্র সচিব ,এডিজি সিআইডি। নবান্নের কনফারেন্স রুম থেকে হাজির হন আমলারা। এর আগে হাইকোর্ট তলব করলেও হাজির দেননি মুখ্যসচিব, স্বরাষ্ট্রসচিব এবং এডিজি। আর এতেই ক্ষুব্ধ বিচারপতি রাজাশেখর মান্থা এদিন বলেন, "আদালত যখন ডেকেছে চেয়ারকে সম্মান করে তা মানা উচিত।"
২০১৮ সালে শিক্ষক নিয়োগ ঘিরে রণক্ষেত্রর আকার নিয়েছিল উত্তর দিনাজপুর। দাঁড়িভিট হাইস্কুল চত্বরে, পুলিশের গুলিতে দুই প্রাক্তন ছাত্রের মৃত্যু হয়েছিল বলে অভিযোগ ওঠে। বলা বাহুল্য ইতিমধ্যে দোরগোড়ায় আরেক লোকসভা নির্বাচন। ঠিক এমন পরিস্থিতিতে দাড়িভিট মামলায় সম্প্রতি রাজ্যের ভূমিকায় ক্ষোভ প্রকাশ করেন বিচারপতি রাজাশেখর মান্থা। মুখ্যসচিব, স্বরাষ্ট্রসচিব ও এডিজি-কে হাজিরা দিতে বললেও তা কার্যকর হয়নি। শেষ পর্যন্ত সোমবার ভার্চুয়ালি হাজিন হন তিন আমলা।
সংশ্লিষ্ট মামলাটিতে এদিন রাজ্য সরকারের আইনজীবী জানান, সিআইডির থেকে তদন্তের কাগজ হস্তান্তর করা হয়েছে। রাজ্য ক্ষতিপূরণও দেওয়ার প্রক্রিয়ায় রয়েছে বলে জানান মুখ্য সচিব। এরপরই ক্ষুদ্ধ বিচারপতি তিন আমলার উদ্দেশে বলেন, "আপনাদের উচিত এজির সঙ্গে কথা বলা। তিনি আইন জানেন। আমরা জানি, আপনাদের উপর চাপ থাকে। তবে চেয়ারের সম্মান রাখতে হবে। আদালত ডাকলে আপনাদের হাজির হয়ে বক্তব্য জানানো বাধ্যতামূলক।"
গত শুক্রবার অ্যাডভোকেট জেনারেলের আবেদনে দাড়িভিট মামলার নির্দেশে আংশিক পরিবর্তন করে হাইকোর্ট। সশরীরে হাজিরার পরিবর্তে ভার্চুয়ালি হাজিরার নির্দেশ দেন বিচারপতি মান্থা। সোমবার সংশ্লিষ্ট মামলায় বিচারপতি তিন আমলার প্রতি অসন্তোষ প্রকাশ করে বলেন, "আপনার চেয়ারের দায়িত্ব আপনার। সেই কারণে আপনাকে হাজির হয়েই নিজের বক্তব্য জানাতে হবে বলেই আদালত ডেকে পাঠিয়েছে। ব্যাক্তিকে নয়, চেয়ারকে প্রশ্ন করেছে আদালত। আপনি সেই চেয়ারের অধিকারী, সুতরাং উত্তর আপনাকেই দিতে হতো।" একইসঙ্গে ডিভিশন বেঞ্চে যেহেতু মামলাটি বিচারাধীন, তাই এরপর ডিভিশন বেঞ্চের সিদ্ধান্তই চূড়ান্ত বলে গণ্য হবে বলে জানান বিচারপতি।
উল্লেখ্য, দাড়িভিট কাণ্ডে প্রথম থেকেই সিবিআই তদন্তে সরব ছিল মৃতের পরিবার। কিন্তু ঘটনার তদন্তভার সিআইডির হাতে দিয়েছিল রাজ্য সরকার। তবে সেই তদন্তে সন্তুষ্ট ছিল না নিহত প্রাক্তন ছাত্রের পরিবার। এমনকী মৃতদেহ দাহ না করে, নদীর পাড়ে মাটি চাপা দেওয়া হয়। এহেন পরিস্থিতিতেই গত বছর মে মাসে, দাঁড়িভিটকাণ্ডে এনআইএ তদন্তের নির্দেশ দেয় কলকাতা হাইকোর্ট।