
মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়
শেষ আপডেট: 12 February 2025 16:41
দ্য ওয়াল ব্যুরো: ছাব্বিশ সালে বিধানসভা ভোটের আগে এটাই শেষ পূর্ণাঙ্গ বাজেট। অর্থাৎ এ হল ভোট-বাজেট। ফলে অনেকেই আশা করেছিলেন, ভোটের কথা মাথায় রেখে লক্ষ্মীর ভাণ্ডার প্রকল্পে হয়তো ভাতার পরিমাণ বাড়াতে পারে রাজ্য।
কিন্তু অর্থমন্ত্রী চন্দ্রিমা ভট্টাচার্য বাজেট পেশ করতেই স্পষ্ট হয়ে গেল, লক্ষ্মীর ভাণ্ডারের ভাতা এখনই বাড়ছে না। এই প্রকল্পে ভাতার পরিমাণ অপরিবর্তিতই থাকছে।
তবে নবান্ন সূত্রের দাবি, বাজেটে লক্ষ্মীর ভাণ্ডার নিয়ে নতুন করে ভাতা বৃদ্ধির ঘোষণা করা হল না মানে এই নয় যে চলতি বছরে আর লক্ষ্মীর ভাণ্ডারের ঘোষণা হবে না। বরং ভোটের আগে ফের লক্ষ্মীর ভাণ্ডারের ভাতা বাড়তে পারে বলেও মনে করা হচ্ছে। প্রসঙ্গত,গত বছরের নভেম্বর মাসে লক্ষ্মীর ভাণ্ডারে আরও ৫ লক্ষ ৭ হাজার নতুন উপভোক্তাকে যুক্ত করা হয়েছে। নবান্ন সূত্রের খবর, এখন ওই প্রকল্পে মোট উপভোক্তার সংখ্যা প্রায় ২.২৬ কোটির কিছু বেশি।
এদিন বাজেট বক্তৃতায় চন্দ্রিমা জানান, লক্ষ্মীর ভাণ্ডার প্রকল্পে ভাতার পরিমাণ অপরিবর্তিত থাকছে। তফসিলি জাতি ও উপজাতির মহিলারা লক্ষ্মীর ভাণ্ডারে বর্তমানে ১২০০ টাকা এবং সাধারণ বিভাগের মহিলারা ১০০০ টাকা করে ভাতা পান। সেটাই অপরিবর্তিত থাকছে।
গত বছর অবশ্য রাজ্য বাজেটে লক্ষ্মীর ভাণ্ডারের ভাতা বাড়ানো হয়েছিল। ২০২৪ সালের লোকসভা ভোট হয়েছিল এপ্রিল-মে মাসে। তার ঠিক আগে ফেব্রুয়ারিতে বাজেট ঘোষণায় মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় সরকার জানিয়েছিল, লক্ষ্মীর ভাণ্ডারের ভাতা ৫০০ টাকা থেকে বাড়িয়ে ১০০০ টাকা করা হবে। এপ্রিল মাস থেকেই তা বাস্তবায়িত শুরু হয়। আর ভোটের মধ্যেই সেই বর্ধিত ভাতা মহিলাদের ব্যাঙ্ক অ্যাকাউন্টে ঢুকতে শুরু করে। তা যে তৃণমূলের জন্য লক্ষ্মীমন্ত হয়েছিল তা লোকসভা ভোটে গ্রাম বাংলায় তৃণমূলে প্রাপ্ত ভোটের শতাংশ দেখলেই ঠাওর করা যাবে।
লক্ষ্মীর ভাণ্ডারকে কীভাবে মোকাবিলা করা যাবে, তা নিয়ে এখনও মাথা খাটিয়ে চলেছেন বিরোধীরা। এমনকি দিল্লির ভোটেও বিজেপির ইস্তাহারে বলা হয়েছিল, ক্ষমতায় এলে মহিলা সম্মান নিধি শুরু করা হবে।
বাংলায় ভোটারের সংখ্যা সাড়ে ৭ কোটি। তার মানে মোট ভোটারের প্রায় ৩০ শতাংশই হলেন লক্ষ্মীর ভাণ্ডারের উপভোক্তা। পর্যবেক্ষকদের মতে, বাজেটে না হলে চলতি বছরের মধ্যে ফের এই প্রকল্পে ভাতা বৃদ্ধি করতে পারে রাজ্য।