
ফাইল ছবি।
শেষ আপডেট: 1 July 2024 13:40
দ্য ওয়াল ব্যুরো: ভারতীয় ন্যায় সংহিতা কার্যকর হলে তার প্রতিবাদ হবে বলে সাফ জানিয়েছেল ওয়েস্টবেঙ্গল বার কাউন্সিল। সেই প্রেক্ষিতেই সোমবার, ১ জুলাই কর্মবিরতিতে সামিল হল রাজ্যের আইনজীবীদের একটা বড় অংশ। কর্মবিরতির পাশাপাশি রাজ্যজুড়ে অবস্থান বিক্ষোভও করেছে তৃণমূল প্রভাবিত আইনজীবীদের সংগঠন বার কাউন্সিল।
ব্রিটিশ সরকারের তৈরি ভারতীয় দণ্ডবিধি বা আইপিসি’র বদলে সোমবার থেকে লাগু হয়েছে ভারতীয় ন্যায়সংহিতা (বিএনএস)। একই সঙ্গে ফৌজদারি কার্যবিধি বা সিআরপিসি’র বদলে ভারতীয় নাগরিক সুরক্ষা সংহিতা (বিএনএসএস) এবং এভিডেন্স অ্যাক্টের বদলে ভারতীয় সাক্ষ্য অধিনিয়ম (বিএসএ) চালু হয়েছে গোটা দেশে। কেন্দ্রীয় সরকারের এই সিদ্ধান্ত নিয়ে বিরোধীরা আগেই আপত্তি তুলেছিল। যদিও তাতে কর্ণপাত করেনি সরকার। অবশেষে লাগু হয়েছে সেই নতুন আইন। আর তাই একদিনের জন্য শুনানি প্রক্রিয়া বয়কট করেছেন কলকাতা হাইকোর্টের তৃণমূলপন্থী আইনজীবীরা।
সংগঠনের তরফে কেন্দ্রের নয়া আইনকে 'কালা আইন' আখ্যা দিয়ে বলা হয়েছে, এর ফলে মানুষের গণতান্ত্রিক অধিকার লঙ্ঘিত হবে। তাই এর প্রতিবাদে ১ জুলাই তাঁরা পথে নেমেছেন। কলকাতা হাইকোর্ট-সহ রাজ্যের সমস্ত জেলা, মহকুমা এবং দায়রা আদালতে এই আইনের প্রতিবাদে কর্মসূচি নেওয়া হয়েছে। এমনিতে আদালতগুলিতে হাজার হাজার মামলা রুজু হয়ে পড়ে থাকে। তার মধ্যে এই কর্মবিরতির ডাকে সমস্যা যে আরও বাড়বে তা বলাই বাহুল্য।
১ জুলাই আদালত খোলা থাকলেও এজলাসে উভয়পক্ষের আইনজীবী উপস্থিত না থাকলে বিচারপতিরা যেন কোনও নির্দেশ না দেন, এই অনুরোধ জানিয়ে সংগঠনের তরফে কলকাতা হাইকোর্টের প্রধান বিচারপতিকে চিঠিও দেওয়া হয়েছিল। সোমবার কর্মবিরতিতে দেখা যায়, রাজ্যজুড়ে একাধিক আদালতের বহু এজলাসে বিচারপতিরা এলেও আইনজীবীরা আসেননি। কলকাতা হাইকোর্টের প্রধান বিচারপতির এজলাস থেকে শুরু করে বিচারপতি অমৃতা রায়, সব্যসাচী ভট্টাচার্য, হরিশ ট্য়ান্ডনের এজলাসে আসেননি আইজীবীদের একাংশ।
প্রসঙ্গত, নয়া আইনকে অবিলম্বে বাতিলের দাবি জানিয়েছে একাধিক মানবাধিকার সংগঠনও। তাদের বক্তব্য, ব্রিটিশ আইনে গ্রেফতারের পর আদালতের অনুমতি সাপেক্ষে অভিযুক্তকে সর্বোচ্চ ১৪ দিন হেফাজতে রাখতে পারে পুলিশ। নয়া আইনে বলা হয়েছে ৬০ কিংবা ৯০ দিন অবধি পুলিশ অভিযুক্তকে হেফাজতে রাখতে পারবে। অনেকেই মনে করছেন, এটা মানবাধিকার হরণের বড় নজির।
হালেও সুপ্রিম কোর্ট একাধিক মামলায় বলেছে গ্রেফতারি, হেফাজতে রাখার মতো পদক্ষেপ বিরল ক্ষেত্রে প্রয়োগ করা যেতে পারে। অভিযোগ দায়ের হলেই গ্রেফতার করে গারদে পোরার ব্রিটিশ সংস্কৃতি থেকে সরে আসুক পুলিশ। অথচ নয়া আইনে পুলিশকে এই ব্যাপারে আরও বাড়তি সুবিধা করে দেওয়া হয়েছে।
মানবাধিকার সংগঠনগুলি বলছে, নয়া আইনে বাতিল হয়েছে পুলিশ হেফাজতে থাকা বন্দির প্রতি ৪৮ ঘণ্টা অন্তর বাধ্যতামূলক স্বাস্থ্য পরীক্ষার বিধান। নয়া আইনে বলা হয়েছে, চিকিৎসক মনে করলে তবেই স্বাস্থ্য পরীক্ষা করা যেতে পারে।
নতুন আইনে ৩৩টি অপরাধের ক্ষেত্রে জরিমানা ও কারাবাসের মেয়াদ বাড়ানো হয়েছে। ৬ মাসের সাজা বেড়ে হয়েছে ১ বা ২ বছর। ২ বছরের কারাবাসের মেয়াদ বৃদ্ধি করে করা হয়েছে ৩ বা ৫ বছর। বহু অপরাধে যাবজ্জীবন সাজাপ্রাপ্ত আসামীর আমৃত্যু কারাবাসের বিধান বলবৎ হয়েছে নয়া আইনে। ১৪ বছর মুক্তির আবেদন বিবেচনার সুযোগ ওই সব ক্ষেত্রে প্রযোজ্য হবে না। এছাড়া ইউএপিএ-সহ দেশদ্রোহিতার অভিযোগের বিচারের কঠোর ধারাগুলি আগের মতোই বহাল রাখা হয়েছে।