সোমবার নির্বাচন কমিশনকে দেওয়া চিঠিতে তৃণমূলের তরফে সাফ জানানো হয়েছে, এই বিচ্যুতি কেবল কারিগরি ভুল নয়, বরং বাংলার গণতান্ত্রিক কাঠামোর ওপর পরিকল্পিত আঘাত।

কমিশনের ফুলবেঞ্চের সঙ্গে বৈঠকে তৃণমূলের রাজীব কুমার, ফিরহাদ হাকিম, চন্দ্রিমা ভট্টাচার্য
শেষ আপডেট: 9 March 2026 14:38
দ্য ওয়াল ব্যুরো: বিধানসভা ভোটের (West Bengal Assembly Election 2026) মুখে রাজ্যের সংশোধিত ভোটার তালিকা নিয়ে নির্বাচন কমিশনের (Election Commission) ওপর চাপ বাড়াল তৃণমূল কংগ্রেস (TMC)। শাসকদলের অভিযোগ, বিশেষ নিবিড় সংশোধন প্রক্রিয়ায় (SIR) নিয়মকানুনের তোয়াক্কা না করে লক্ষ লক্ষ বৈধ ভোটারের নাম বাদ দেওয়া হয়েছে। রবিবার ভোট প্রস্তুতি খতিয়ে দেখতে এসেছে মুখ্য নির্বাচন কমিশনার জ্ঞানেশ কুমার-সহ (Gyanesh Kumar) নির্বাচন কমিশনের ১২ জনের প্রতিনিধি দল। সোমবার নির্বাচন কমিশনকে দেওয়া চিঠিতে তৃণমূলের তরফে সাফ জানানো হয়েছে, এই বিচ্যুতি কেবল কারিগরি ভুল নয়, বরং বাংলার গণতান্ত্রিক কাঠামোর ওপর পরিকল্পিত আঘাত।
তৃণমূলের জমা দেওয়া তথ্যে বলা হয়েছে,
তালিকা থেকে মোট ৬৩,৬৬,৯৫২ জন ভোটারের নাম বাদ দেওয়া হয়েছে। অথচ নাম বাদ দেওয়ার জন্য ‘ফর্ম-৭’ আবেদন জমা পড়েছিল মাত্র ৪২,২৫১টি। অর্থাৎ আবেদনের তুলনায় প্রায় ১৩ গুণ বেশি নাম বাদ দেওয়া হয়েছে, যার কোনও সদুত্তর মেলেনি। এখনও প্রায় ৬০ লক্ষ মানুষের নাম ‘অ্যাডজুডিকেশন’ বা বিচারপ্রক্রিয়ার অপেক্ষায় ঝুলে রয়েছে।
তৃণমূল জানিয়েছে, সবথেকে অবাক করা বিষয় হল, এই কোপে পড়েছেন শাসকদলের বিধায়ক, মন্ত্রী ও কাউন্সিলররা।
তালিকায় নাম ‘ডিলিটেড’ বা বাদ পড়েছে নৈহাটি পুরসভার কাউন্সিলর সুশান্ত সরকার এবং তাঁর মায়ের। বিচারপ্রক্রিয়ার গেরোয় আটকে রয়েছেন রাজ্যের মন্ত্রী গোলাম রব্বানি, আমডাঙার তিন বারের বিধায়ক রফিকুর রহমান, কুমারগঞ্জের বিধায়ক তোরাফ হোসেন মণ্ডল এবং চণ্ডীতলার বিধায়ক স্বাতী খন্দকার। এমনকি বীরভূম জেলা পরিষদের সভাধিপতি কাজল শেখ এবং তাঁর মায়ের নামও ঝুলে রয়েছে বলে দাবি তৃণমূলের।
কমিশনের কাছে তৃণমূলের মূল দাবি
ফিরহাদ হাকিম, চন্দ্রিমা ভট্টাচার্য এবং রাজীব কুমারের স্বাক্ষর সম্বলিত ওই চিঠিতে একগুচ্ছ দাবি পেশ করা হয়েছে।
তৃণমূলের অভিযোগ, হোয়াটসঅ্যাপ বা মৌখিক নির্দেশে কাজ করে সুপ্রিম কোর্টের গাইডলাইন লঙ্ঘন করা হয়েছে। এই ‘অসাংবিধানিক’ আচরণের বিরুদ্ধে তৃণমূল যে শেষ পর্যন্ত লড়বে।