এবার দফা কমানোর দাবি পেশ করার পিছনে বিরোধীদের প্রধান দুটি যুক্তি হল, দীর্ঘ সময় ধরে ভোটের কারণে নিরাপত্তা বাহিনীর মধ্যে এক ধরনের শারীরিক ও মানসিক শিথিলতা দেখা দেয়। বিশেষ করে বাইরে থেকে আসা আধা সামরিক বাহিনীর মধ্যে এই সমস্যা দেখা গিয়েছে। পুলিশ প্রশাসনও লম্বা সময় ধরে ভোটের কাজে ব্যস্ত থাকার ফলে একপর্যায়ে তাদের তৎপরতায় ঘাটতি দেখা যায়।

শেষ আপডেট: 15 March 2026 10:56
দ্য ওয়াল ব্যুরো: বাংলায় ২০২১-এর বিধানসভা নির্বাচনের জন্য ভোট নেওয়া হয়েছিল আট দফায় (west bengal election phases)। প্রথম দফার ভোটগ্রহণ শুরু হয়েছিল ২৭ মার্চ।
আজ রবিবার নির্বাচন কমিশন (Election Commission) পশ্চিমবঙ্গ সহ পাঁচ রাজ্যের ভোটের নির্ঘণ্ট ও প্রকাশ করলে জানা যাবে বাংলায় এবার কত দফায় (West Bengal Election 2026), কবে থেকে ভোটগ্রহণ শুরু হবে।
এবার বিজেপি সহ বিরোধী দলগুলি এক থেকে দু দফার মধ্যে ভোট চেয়েছে। চলতি সপ্তাহে কলকাতায় এসে নির্বাচন কমিশনের ফুল বেঞ্চ ইঙ্গিত দিয়েছে রাজ্যের আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি বিচার বিশ্লেষণ করে ভোটের দফা নির্ধারণ করা হবে।
তবে একাধিক রাজনৈতিক নেতা একান্তে জানাচ্ছেন কমিশনের সঙ্গে আলোচনায় তাদের মনে হয়েছে এবার ভোটের দফা বিগত বছরগুলোর তুলনায় কম হতে পারে। তবে দুটি দফার মধ্যে অনেকদিনের গ্যাপ থাকার সম্ভাবনা বেশি। পরবর্তী দফার আগে মধ্যবর্তী সময়ে আধা সামরিক বাহিনী যাতে এলাকায় পূর্ণ আধিপত্য তৈরি করতে পারে সেজন্য দুটি দফার মধ্যে তুলনামূলকভাবে বেশি দিনের ফারাক রাখার প্রস্তাব বিবেচনায় ছিল কমিশনের।
গত বছর প্রথম দফার ভোটের বিজ্ঞপ্তি জারি হয়েছিল ২রা মার্চ। রবিবার নির্বাচনী নির্ঘণ্ট প্রকাশের পর জানা যাবে প্রথম দফার ভোটের বিজ্ঞপ্তি কবে জারি করা হবে। রাজ্যে ভোট শুরু হবে কোন দিন থেকে। দফা ভিত্তিক বিজ্ঞপ্তি জারির দিন থেকে ২৫ দিন পর ভোটগ্রহণ করা হয়ে থাকে।
এবার দফা কমানোর দাবি পেশ করার পিছনে বিরোধীদের প্রধান দুটি যুক্তি হল, দীর্ঘ সময় ধরে ভোটের কারণে নিরাপত্তা বাহিনীর মধ্যে এক ধরনের শারীরিক ও মানসিক শিথিলতা দেখা দেয়। বিশেষ করে বাইরে থেকে আসা আধা সামরিক বাহিনীর মধ্যে এই সমস্যা দেখা গিয়েছে। পুলিশ প্রশাসনও লম্বা সময় ধরে ভোটের কাজে ব্যস্ত থাকার ফলে একপর্যায়ে তাদের তৎপরতায় ঘাটতি দেখা যায়।
এছাড়া বিরোধীদের আর একটি বক্তব্য মূলত শাসকদলের বিরুদ্ধে অভিযোগ। তাদের বক্তব্য শাসকদলের আশ্রয় থাকা দুষ্কৃতীরা বিভিন্ন দফায় ঘুরে ঘুরে মানুষকে ভয় দেখানো এবং বাধা দানের চেষ্টা করে থাকে। দু তিন দফায় ভোট হলে এই সমস্যা কাটিয়ে ওঠা সম্ভব। যদিও অতীতে জমানা নির্বিশেষে বিরোধীরাই একাধিক দফায় ভোট দাবি করে এসেছে।
তবে নির্বাচন কমিশন এবং রাজনৈতিক দলগুলি বলছে এখন বাস্তব পরিস্থিতি ভিন্ন। প্রত্যেক রাজ্যে পুলিশের সংখ্যা বিগত পাঁচ দশ বছরে দ্বিগুণের বেশি হয়েছে। একই সঙ্গে বেড়েছে আধা সামরিক বাহিনীর জওয়ানের সংখ্যাও। অল্প দফায় ভোট হলেও বিপুল সংখ্যায় পুলিশ এবং আধা সামরিক মোতায়েন করতে সমস্যা হবে না।