দ্য ওয়াল ব্যুরো: তিনি যখন গুজরাতের মুখ্যমন্ত্রী তখন কংগ্রেসের বিরুদ্ধে রাজনৈতিক আক্রমণে বার বার সনিয়া গান্ধীর প্রসঙ্গ টেনে আনতেন নরেন্দ্র মোদী। কখনও তাঁকে বিদেশিনী বলে মন্তব্য করতেন, কখনও ইতালি-কুত্রোচ্চি নিয়ে খোঁচা দিতেন। চোদ্দর ভোট থেকে মোদীর মূল নিশানা হয়ে দাঁড়িয়েছে নেহরু-গান্ধী পরিবার ও তাঁদের ঐতিহ্য। সেই ধারা বজায় রেখে এ বার নাম না করে রাহুল গান্ধীর বাপ ঠাকুর্দার কাজ কর্ম নিয়েও প্রশ্ন তুললেন প্রধানমন্ত্রী।
শুক্রবার ছত্তীসগড়ের অম্বিকাপুরে জনসভা করতে গিয়েছিলেন মোদী। রাজ্যের উন্নয়নের ব্যাপারে ফিরিস্তি দিতে গিয়ে তিনি বলেন, এর আগে একশো বছর ধরে যাঁরা ছত্তীসগড়ে শাসন করেছেন, তাঁরা উন্নয়নের কথা কখনও ভাবেননি। রমন সিংহ গত ১৫ বছরে ছত্তীসগড়ের চেহারা বদলে দিয়েছেন। এর পরেই রাহুলের নাম না করে প্রধানমন্ত্রী প্রশ্ন তোলেন, এখানে যে জলের পাইপ পাতা হয়েছে তা কি তোমার নানা-নানি বা দাদু-দিদা করেছে? আর রমন সিংহ মুখ্যমন্ত্রী হয়ে সেগুলো ধ্বংস করেছে। তা যদি হতো, তা হলে প্রশ্ন তুলতে পারতে। বরং আগে জবাব দাও ছত্তীসগড়ে এত বছর শাসন করার পর তোমরা কেন উন্নয়ন করতে পারেনি। তার পর রমন সিংহকে প্রশ্ন করবে উনি করতে পারেননি, কেন পারেননি!
ইদানীং রাজনৈতিক আক্রমণের ভাষায় যে অনেক অবনতি হয়েছে তা নিয়ে সন্দেহ নেই। পর্যবেক্ষকদের অনেকের মতে, উনিশের ভোট যত এগিয়ে আসবে পারষ্পরিক ব্যক্তি আক্রমণ ততই বাড়বে। প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদীকে প্রকাশ্য সভা থেকে কংগ্রেস এখন ‘চোর’ বলতে ছাড়ছে না। রাহুল গান্ধীই বলছেন, চৌকিদারই চোর হ্যায়। ফলে জবাব দিতে গিয়ে মোদীও দাদু-দিদা বা নানা-নানিকে বাদ দিচ্ছেন না। গোটা ঘটনা পরম্পরায় রাজনৈতিক পরিসরের পরিবেশ ক্রমশ অসুস্থ হয়ে পড়ছে বলেই তাঁদের মত।