দ্য ওয়াল ব্যুরো : উত্তর কোরিয়ার একনায়ক কিম জং উনের জন্মদিনে শুভেচ্ছা জানিয়েছিলেন মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প। উত্তর কোরিয়া তাঁকে সাফ জানিয়ে দিল, আমাদের নেতার প্রতি যতই সৌজন্য দেখান, আমরা পরমাণু কর্মসূচি থেকে সরছি না। উত্তর কোরিয়ার বিদেশ মন্ত্রকের উপদেষ্টা কিম কায় গাওয়ান বলেন, কিম ব্যক্তিগতভাবে ট্রাম্পকে পছন্দ করেন। কিন্তু তা বলে তিনি ট্রাম্পের কথা শুনে দেশ চালাবেন, এমনটা যেন কেউ না ভাবে। পরে তিনি বলেন, আমেরিকা যদি উত্তর কোরিয়ার শর্ত না মানে, তাহলে দুই দেশের মধ্যে আলোচনাও সম্ভব নয়।
২০১৮ সালে কিমের সঙ্গে বৈঠকে বসেন ট্রাম্প। পরমাণু নিরস্ত্রীকরণ নিয়ে দু'পক্ষের মধ্যে আলোচনা হয়। কিন্তু আমেরিকা জানায়, যতদিন উত্তর কোরিয়া তাদের পরমাণু কর্মসূচি পুরোপুরি বাতিল না করছে, ততদিন নিষেধাজ্ঞা তোলা সম্ভব নয়। এর পরেই দুই দেশের আলোচনা ভেস্তে যায়।
উত্তর কোরিয়ার সরকার নিয়ন্ত্রিত সংবাদপত্রে বিবৃতি দিয়ে প্রবীণ কূটনীতিক গাওয়ান বলেন, নিষেধাজ্ঞা আংশিকভাবে তুললে আমাদের পরমাণু কর্মসূচি বাতিল করব না। আমাদের শর্ত পুরোপুরি মানলে তবেই দ্বিপাক্ষিক আলোচনা শুরু হতে পারে। কিন্তু আমরা জানি, আমেরিকা কোনও শর্ত মানতে রাজি নয়।
জানুয়ারির শুরুতেই কিম সুর চড়িয়ে বলেন, এতদিন উত্তর কোরিয়া পরমাণু ও দূরপাল্লার ক্ষেপণাস্ত্র নির্মাণ স্থগিত রেখেছিল। কিন্তু এবার আমাদের দেশ একটি 'কৌশলগত অস্ত্র' তৈরি করবে। তবে একইসঙ্গে আলোচনার দরজাও খোলা রাখতে চান তিনি। তাঁর কথায়, "আমাদের দেশ নতুন করে পরমাণু অস্ত্র পরীক্ষা করবে কিনা তা নির্ভর করবে আমেরিকার মনোভাবের ওপরে।" ২০১৯ সালে উত্তর কোরিয়া কয়েকটি অল্প পাল্লার পরমাণু অস্ত্র পরীক্ষা করেছে। পর্যবেক্ষকদের ধারণা, আমেরিকাকে চাপ দেওয়ার জন্য ওই পরীক্ষাগুলি করা হয়েছিল।