দ্য ওয়াল ব্যুরো : কংগ্রেস কোনও সংকটে পড়েনি। আমাদের নেতৃত্বেও কোনও শূন্যতা নেই। বুধবার এভাবেই প্রবীণ কংগ্রেস নেতা কপিল সিব্বলের মন্তব্যের বিরোধিতা করলেন দলেরই আর এক শীর্ষস্থানীয় নেতা সলমন খুরশিদ। তাঁর কথায়, "সনিয়া গান্ধী কংগ্রেসকে নেতৃত্ব দিচ্ছেন। রাহুল গান্ধীও কংগ্রেসকে নেতৃত্ব দিচ্ছেন। কেউ যদি তাঁদের নেতৃত্বে আস্থা না রাখেন, তাঁকে সন্তুষ্ট করা খুবই কঠিন।"
কপিল সিব্বলের মতো নেতা একাধিকবার কংগ্রেসে নেতৃত্বের সংকটের কথা বলেছেন। কিন্তু সলমন খুরশিদ বলেন, দলে যদি কোনও নেতা না থাকেন, দল কাউকে নেতা নির্বাচন করতে ব্যর্থ হয়, একমাত্র তাহলেই বলা যায় নেতৃত্বের সংকট রয়েছে।
কংগ্রেস ক্রমশ সমর্থন হারাচ্ছে বলেও সলমন খুরশিদ বিশ্বাস করেন না। তাঁর কথায়, "আমি মনে করি না আমাদের দলকে দেশের মানুষ প্রত্যাখ্যান করেছেন। একথা ঠিক যে, আমরা যত মানুষের সমর্থন পাব বলে আশা করেছি, তত পাইনি। কিন্তু তা বলে আমাদের নেতৃত্বের সংকট নেই।"
পরে তিনি বলেন, "আমরা জানি, কে আমাদের নেতা। আমরা তাঁকে অনুসরণ করি। আমরা নেতৃত্বকে অনুসরণ করে যদি কাঙ্ক্ষিত ফল না পাই, তার মানে এই নয় যে, নেতৃত্ব পাল্টে ফেলব। যারা মনে করেন আমাদের কোনও নেতা নেই, তাঁরা এই দল সম্পর্কে কিছুই জানেন না।"
লোকসভায় কংগ্রেসের দলনেতা অধীর রঞ্জন চৌধুরিও এদিন কপিল সিব্বলের তোলা অভিযোগের জবাব দেন। তিনি বলেন, কপিল সিব্বল দলের সভানেত্রী সনিয়া গান্ধী ও তাঁর ছেলে রাহুল গান্ধীর ঘনিষ্ঠ ছিলেন। কিছু বলার থাকলে তিনি তাঁদেরই বলতে পারতেন।
অধীরবাবুর কথায়, "কোনও নেতা যদি ভাবেন কংগ্রেস তাঁর উপযুক্ত দল নয়, তিনি নিজে নতুন পার্টি গড়তে পারেন। অথবা যে পার্টিকে তিনি প্রগতিশীল ভাবেন, যেখানে গেলে তাঁর স্বার্থরক্ষা হবে মনে করেন, সেখানে যোগ দিতে পারেন। কিন্তু তারা এভাবে দলকে অস্বস্তিতে ফেলতে পারেন না।"
অধীরবাবু প্রশ্ন তোলেন, যে নেতারা এখন নেতৃত্বের বিরুদ্ধে বিবৃতি দিচ্ছেন, তাঁরা বিহারে ভোটের সময় কোথায় ছিলেন? তাঁর কথায়, "ওই নেতারা যদি সত্যিই কংগ্রেসকে চাঙ্গা করতে চাইতেন, তাহলে কাজে সেকথা প্রমাণ করতেন। বিহারে ভোটের সময় তাঁরা কি কোনও কাজ করেছেন?"
সোমবার একটি সর্বভারতীয় দৈনিকের সাক্ষাৎকারে সিব্বল বলেন, এখন দলের সংগঠনকে চাঙ্গা করে তুলতে হবে। যাঁরা অভিজ্ঞ, রাজনীতি বোঝেন, তাঁরা এই কাজ করবেন। একইসঙ্গে তিনি বলেন, "এখন আর ভাবার সময় নেই।"
তাঁর কথায়, "অবিলম্বে কয়েকটি স্তরে কিছু কিছু কাজ করতে হবে। সাংগঠনিক কাজ করতে হবে। আরও নানা স্তরে কাজ করতে হবে। আমাদের চাই সক্রিয় ও বিচক্ষণ নেতৃত্ব। সবদিক ভেবে কাজে হাত দিতে হবে।" পরে তিনি বলেন, "কংগ্রেস কর্মীদের বুঝতে হবে, আমাদের দলের অবস্থা দিন দিন খারাপ হচ্ছে।"