দ্য ওয়াল ব্যুরো : রবিবার জওহরলাল নেহরু বিশ্ববিদ্যালয়ে হামলার পরেই একদফা দুঃখপ্রকাশ করেছিলেন। সোমবার দেশ জোড়া বিতর্কের মাঝে আরও একবার ওই ঘটনায় অসন্তোষ প্রকাশ করলেন বিদেশমন্ত্রী এস জয়শংকর। তিনি সাংবাদিকদের প্রশ্নের জবাবে বলেন, "আমি যখন জেএনইউতে পড়তাম, তখন সেখানে কোনও টুকরে টুকরে গ্যাংকে দেখিনি।"
হিন্দুত্ববাদীরা প্রায়ই বিরোধীদের 'টুকরে টুকরে গ্যাং' বলে চিহ্নিত করেন। তাঁদের দাবি, বিরোধীরা দেশকে টুকরো টুকরো করতে চায়। কয়েক বছর আগে জেএনইউতে সংসদ হামলা কেসের আসামী আফজল গুরুর ফাঁসির বিরুদ্ধে সভা হয়েছিল। অভিযোগ তখন দেশবিরোধী স্লোগান ওঠে। জেএনইউয়ের ছাত্র সংসদের তৎকালীন সভাপতি কানহাইয়া কুমার সহ আরও কয়েকজনের বিরুদ্ধে দেশদ্রোহিতার মামলা আনা হয়। তাঁদের সম্পর্কেই প্রথমবার টুকরে টুকরে গ্যাং কথাটি ব্যবহার করে দক্ষিণপন্থীরা।
রবিবার জয়শংকর টুইট করে বলেন, "জেএনইউতে যা ঘটেছে, তার ছবি দেখেছি। আমি নিঃশর্তে ওই হিংসার নিন্দা করছি। এই ঘটনা বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষা ও ঐতিহ্যের বিরোধী।"
অন্যদিকে কর্নাটক বিজেপি এসম্পর্কে যে টুইট করেছে, তাতে হামলাকারীদের সমর্থনই করা হয়েছে বলে অনেকের ধারণা। টুইটারে লেখা হয়েছে, "দীর্ঘদিন ধরে বামপন্থীদের প্রতি নরম মনোভাব দেখানো হয়েছে। তারা বেড়ে উঠেছে শ্যাওলার মতো। এখন জেএনইউয়ের টুকরে টুকরে গ্যাংকে চিহ্নিত করে শাস্তি দিতে হবে। দেশের স্বার্থে বামপন্থী গুন্ডাদের দমন করতেই হবে।"
জেএনইউ-তে হামলায় শিক্ষক ও ছাত্রছাত্রী মিলিয়ে গুরুতর আহত হয়েছেন ৩৪ জন। তাঁরা হাসপাতালে ভর্তি হয়েছেন। রবিবার রাতেই স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী অমিত শাহ দিল্লি পুলিশের প্রধানের সঙ্গে কথা বলেন। সোমবার দিল্লির লেফটেন্যান্ট জেনারেল অনিল বাইজালের সঙ্গেও তিনি কথা বলেছেন। ছাত্রছাত্রীদের অভিযোগ, ঘটনাস্থলে পুলিশ ও বেসরকারি নিরাপত্তারক্ষীরা থাকলেও কেউ হামলাকারীদের বাধা দেয়নি। দুষ্কৃতীদের অবাধে হামলা চালিয়ে পালাতে দিয়েছে।
দিল্লি পুলিশ রবিবার থেকে জেএনইউ নিয়ে বেশ কয়েকটি অভিযোগ পেয়েছে। সবগুলি অভিযোগ একসঙ্গে নিয়ে একটিই এফআইআর করা হয়েছে। মানবসম্পদ উন্নয়ন মন্ত্রকের সচিব সোমবার বিশ্ববিদ্যালয়ের রেজিস্ট্রার, প্রোক্টর এবং রেক্টরকে ডেকে পাঠিয়েছেন।