দ্য ওয়াল ব্যুরো : লোকসভা ভোটের আগে দেশে বড়সড় রাজনৈতিক ইস্যু হয়ে উঠেছে রাফায়েল ডিল। কংগ্রেস সভাপতি রাহুল গান্ধীর অভিযোগ, কেন্দ্রীয় সরকারের অনুরোধেই রাষ্ট্রায়ত্ত সংস্থা হ্যালকে বাদ দিয়ে অনিল আম্বানির সংস্থাকে অংশীদার হিসাবে বেছে নিয়েছিল রাফায়েল বিমান নির্মাতা দাসো সংস্থা। দীর্ঘদিন বিতর্ক চলার পরে বিষয়টি নিয়ে মুখ খুললেন দাসোর সিইও এরিক ট্র্যাপিয়ার। তিনি বলেছেন, কারও অনুরোধে নয়, আমরা নিজেরাই অনিল আম্বানির সংস্থাকে বেছে নিয়েছিলাম।
তাঁর কথায়, আমাদের রিলায়েন্স ছাড়াও ৩০ জন অংশীদার আছে। আমরা তাদের যেভাবে বেছে নিয়েছি, রিলায়েন্সকেও সেভাবেই বেছেছি ।
৩৬ টি জেট বিমান কেনার জন্য ফ্রান্সের রাফায়েলের সঙ্গে ৫৯ হাজার কোটি টাকার চুক্তি হয়। রাহুল গান্ধীর অভিযোগ, অনিল আম্বানির সংস্থার কোনও অভিজ্ঞতা না থাকা সত্ত্বেও তাদের অংশীদার করা হয়েছিল। এসম্পর্কে প্রশ্ন করা হলে এরিক বলেন, আমি মিথ্যা কথা বলছি না। একজন সিইও হিসাবে আমি মিথ্যা কথা বলতে পারি না। মিথ্যাবাদী হিসাবে আমার বদনাম নেই।
সোমবারই কেন্দ্রীয় সরকার সুপ্রিম কোর্টে ব্যাখ্যা করেছে, কেন হ্যালকে অংশীদার হিসাবে বেছে নেয়নি দাসো । তাদের বক্তব্য, হ্যালের সঙ্গে অনেকগুলি বিষয়ে দাসোর মতবিরোধ ছিল। একসময় দেখা গেল, ফ্রান্সে রাফায়েল বিমান তৈরি করতে যে শ্রম দিন লাগবে ভারতে হ্যালের প্রয়োজন হবে তার চেয়ে ২.৭ গুণ বেশি।
২০১২ সালে ইউপিএ সরকারের আমলে স্থির হয়েছিল, ভারতের বায়ুসেনার জন্য ১০৮ টি অত্যাধুনিক জেট বিমান কেনা হবে। আমেরিকা ও ইউরোপের নানা দেশের কোম্পানির সঙ্গে কথা বলার পরে স্থির হয় ফ্রান্সের দাসো এভিয়েশনের থেকে ওই বিমান কেনা হবে। তার যন্ত্রাংশগুলি অ্যাসেম্বল করবে হ্যাল ।
এর পরে এনডিএ সরকার এসে বলে, যে ধরনের বিমান কেনার কথা হয়েছে তা অত্যন্ত দামি । ২০১৫ সালে মোদী ঘোষণা করেন, ভারত দাসোর থেকে ৩৬ টি 'রেডি টু ফ্লাই' বিমান কিনবে। ২০১৬ সালে অনিল আম্বানির সংস্থা দাসোর অংশীদার হয় । তার পরেই কংগ্রেস অভিযোগ করে, এই চুক্তিতে স্বচ্ছতার অভাব আছে । দেশবাসীর ৫৯ হাজার কোটি টাকা সরকার অপচয় করছে । প্রধানমন্ত্রীর অনুরোধেই অনিল আম্বানির কোম্পানিকে অংশীদার করেছে দাসো । সেই বিতর্ক গড়িয়েছে সুপ্রিম কোর্টেও । এই পরিস্থিতিতে কার্যত কেন্দ্রীয় সরকারের হয়েই বিবৃতি দিলেন দাসো সংস্থার সিইও । তাঁর দাবি, ওই ডিলে কোনও অস্বচ্ছতা ছিল না ।