
নওসাদ সিদ্দিকী।
শেষ আপডেট: 29 November 2024 21:03
সুমন বটব্যাল
তৃণমূল বনাম বিজেপির লড়াইয়ের মধ্যে পড়ে একদা বামেদের সঙ্গী আইএসএফ যে রাজ্য রাজনীতি থেকে কিছুটা অপ্রাসঙ্গিক হয়ে যাচ্ছে, তা অকপটে স্বীকার করে নিলেন ভাঙড়ের বিধায়ক নওসাদ সিদ্দিকী।
সঙ্গে এও দাবিও করলেন, "কাঁটা দিয়ে কাঁটা তোলা যায়, কিন্তু দুর্গন্ধ দিয়ে দুর্গন্ধ ঢাকা দেওয়া যায় না। যেটা হচ্ছে তাতে বিজেপি বা তৃণমূল সাময়িক লাভবান হলেও সূদুরপ্রসারীভাবে লাভবান হবে না।"
নিজের দাবির সপক্ষে তাঁর যুক্তি, "বাংলার মানুষ এখনও ধর্ম নিরপেক্ষ। ধর্মের কথা বললে তাঁরা কানের বারান্দা গরম করে দেবেন!"
ধর্মের নামে হিংসার পরিস্থিতি তৈরি হয়েছে প্রতিবেশী দেশ বাংলাদেশে। শুক্রবার এ বিষয়ে দ্য ওয়ালকে একান্ত সাক্ষাৎকার দিয়েছেন নওসাদ। আইএসএফ বিধায়কের অভিযোগ, "বাংলাদেশ ইস্যুতে রাজনীতির জন্য শকুনের মতো তাকিয়ে আছে তৃণমূল-বিজেপি।"
নওসাদের দাবি, বাংলায় হিন্দু মুসলিম কেউ শান্তিতে নেই। শুধু কথা বলার পরিস্থিতি নেই বলে মানুষ জোর গলায় কথা বলতে পারছেন না।
নওসাদ বলেন, এই যে চাকরির দাবিতে হাজার দিন রাস্তায় বসে রয়েছে চাকরিপ্রার্থীরা তাঁরা কি শুধুই হিন্দু না মুসলিম। প্রতিদিন কলকাতার হাসপাতালের বাইরে চিকিৎসার জন্য যাঁরা লাইন দেন, তাঁদের কাছে গিয়ে ধর্মের কথা বলুন না, কানের বারান্দা গরম করে দেবে!
এ প্রসঙ্গে নওসাদ এও বলেন, আমাদের লড়াইটা কিন্তু শুধু বাজারের সবজির দাম কমানো নিয়ে নয়, লড়াইটা সরকারি কর্মচারীদের ডিএ নিয়েও। যাঁরা এখন তৃণমূল বা বিজেপি করে মাতামাতি করছে বিপদে পড়লে তখন কিন্তু মমতা বা শুভেন্দুর লোকেরা তাঁদের বাঁচাতে আসবে না।
নওসাদ একথা বললেও বাংলার সাম্প্রতিক রাজনৈতিক ফলাফলের রেকর্ড বলছে, সময়ের সঙ্গে সঙ্গে আইএসএফ-সহ বামেদের ভোট প্রাপ্তির হার ক্রমশই কমছে। ফলে প্রশ্ন উঠছে, লড়াই করতে করতে ক্রমশ মাঠ ফাঁকা হয়ে যাচ্ছে না তো?
এ প্রসঙ্গে স্বাধীনতা সংগ্রামীদের প্রসঙ্গ টেনে এনেছেন নওসাদ। ভাঙড়ের বিধায়কের কথায়, "ক্ষুদিরাম, প্রফুল্ল চাকিদের আমলে মিডিয়া ছিল না। তবু কিন্তু স্বাধীনতা সংগ্রামীদের হয়ে লক্ষ লক্ষ মানুষ রাস্তায় নেমেছিলেন। তখন তো সোশ্যাল মাধ্যম, মিডিয়া ছিল না। এখন আছে। ফলে অপেক্ষা করুন, একটা দিন আসবে, যেদিন কিন্তু মানুষ নিজে থেকেই রাস্তায় নামবে।"
তবে এ প্রসঙ্গে নির্বাচন কমিশনকে মানুষের ভোটাধিকার অবিলম্বে নিশ্চিত করার দাবিও জানিয়েছেন তিনি। নওসাদের কথায়, "যেদিন মানুষ ভোটাধিকার প্রয়োগ করতে পারবে সেদিন কিন্তু দূরবীন দিয়ে খুঁজে পাওয়ার সমীকরণটাও বদলে যাবে!"