
সাংবাদিক বৈঠক করছেন হরিপালের পুলিশ সুপার
শেষ আপডেট: 7 September 2024 20:02
দ্য ওয়াল ব্যুরো: হরিপালে ক্লাস নাইনের এক ছাত্রীকে যৌন হেনস্থার অভিযোগ উঠেছে। আরজি কর কাণ্ডের মাঝে সেই ঘটনা নিয়েও তোলপাড় শুরু হয়েছে। ঘটনার প্রতিবাদে হরিপাল থানার সামনে তুমুল বিক্ষোভ দেখিয়েছে এসএফআই ও ডিওয়াইএফআই। তবে পুলিশ আগেই দাবি করেছে, হাসপাতালে মেডিক্যাল টেস্টে ধর্ষণের প্রমাণ মেলেনি। তাছাড়া অভিযোগে অনেক অসঙ্গতি পাচ্ছেন তাঁরা।
এই ইস্যুতে শনিবার সাংবাদিক বৈঠক করেন হরিপালের পুলিশ সুপার। তিনি জানান, সিসিটিভি ফুটেজে, বাজেয়াপ্ত করা জামাকাপড় এবং স্বাস্থ্য পরীক্ষায় অপহরণ ও নির্যাতনের প্রমাণ মেলেনি। শুক্রবার সন্ধেয় হরিপালে এক বছর পনেরোর নাবালিকাকে অচৈতন্য অবস্থায় পরে থাকতে দেখেন বাসিন্দারা। খবর পেয়ে হরিপাল থানার পুলিশ নাবালিকাকে উদ্ধার করে হরিপাল গ্রামীণ হাসপাতালে নিয়ে যায়। সেখানে প্রাথমিক স্বাস্থ্য পরীক্ষা হয় তাঁর।
পুলিশ সুপার জানিয়েছেন, এই ঘটনায় ভারতীয় ন্যায় সংহিতার ৭৫ (যৌন হয়রানি), ৭৬ (আক্রমণ বা অবৈধ বল প্রয়োগ), ১২৬ (২) (বেআইনি গতিরোধ), ১৩৭ (২) (অপহরণ), ১১৫ (২) (ইচ্ছাকৃত আঘাত), ৩৫১ (২) (অপরাধজনক ভীতি প্রদর্শন এবং ৮ (পকসো) আইনে মামলা রুজু হয়েছে। সিঙ্গুরের যে জায়গা থেকে নাবালিকাকে অপহরণ করা হয়েছিল বলে দাবী করা হয়েছে, সেই এলাকার সিসিটিভি খতিয়ে দেখার পাশাপাশি লোকজনকে জিজ্ঞাসাবাদ করেছে পুলিশ।
নাবালিকা ছাত্রী নিজে পুলিশকে জানিয়েছে, টিউশন থেকে বাড়ি ফেরার সময় চারজন দুষ্কৃতী তাকে জোর করে একটি সাদা চারচাকা গাড়িতে তোলে। কাউকে বললে তার মায়ের ক্ষতি করে দেবে বলে হুমকি দেয়। ছাত্রী জানায়, গাড়িতে করে নিয়ে এসে তাকে হরিপাল স্টেশনে নামিয়ে দেয় এবং বাজারের মধ্যে দিয়ে হেঁটে যেতে বলে। তাদের নির্দেশে নির্যাতিতা নাবালিকা হরিপাল বাজার দিয়ে হাঁটতে শুরু করে। অভিযোগ, দুষ্কৃতীরা তার হাত ধরে টেনে হিঁচড়ে মারতে থাকে। তার পোশাক ছিঁড়ে যৌন হয়রানি করে। এরপরে চারচাকার গাড়িতে করেই ঘটনাস্থল থেকে পালিয়ে যায়।
ঘটনার ২৪ ঘন্টা পর পুলিশের কাছে যা তথ্য প্রমাণ এসেছে সে সব জানানো হয়েছে সাংবাদিক বৈঠক করে। পরে আরও কিছু পাওয়া গেলে তা জানানো হবে বলে জানিয়েছেন পুলিশ সুপার।