
মাধ্যমিকে প্রথম কোচবিহারের চন্দ্রচূড় সেন। নিজস্ব চিত্র।
শেষ আপডেট: 2 May 2024 15:16
দ্য ওয়াল ব্যুরো: মাধ্যমিক পরীক্ষায় এ বছর জেলা থেকেই পাশের হার বেশি। কলকাতাকে পেছনে ফেলে দিয়েছে উত্তরবঙ্গ। পাশের হারে এগিয়ে কালিম্পং। মাধ্যমিকে প্রথম স্থানাধিকারীও কোচবিহারের ছাত্র। কোচবিহারের রামঘোলা স্কুলের চন্দ্রচূড় সেন ৯৯ শতাংশ নম্বর পেয়েছে। সাফল্য যে পরিশ্রম ও অধ্যবশায় থেকেই আসে তা বার বারই বলেছে চন্দ্রচূড়। তার বক্তব্য, “অধ্যাবসায়ের মধ্যে দিয়ে নিজের লক্ষ্যকে আত্মস্থ করাই দরকার। সেভাবেই নিজেকে প্রস্তুত করা উচিত।”
প্রথম হবে এটা ভাবেনি চন্দ্রচূড়, তবে প্রথম দশে থাকবে এই বিশ্বাস ছিল তার। প্রস্তুতি এমনভাবেই নিয়েছিল যে আত্মবিশ্বাসের পাল্লাটা ছিল খুবই ভারী। মাধ্যমিকের ফল ঘোষণার সময় টিভির পর্দায় নজর ছিল সকলের। চন্দ্রচূড়ের নাম ঘোষণা হতেই উচ্ছ্বাসে ফেটে পড়ে পরিবার। তারপর থেকেই বাড়িতে আত্মীয়-পরিজন, প্রতিবেশী আর সাংবাদিকদের ভিড়। ক্যামেরা ঝলসে ওঠার পর ছেলেকে মিষ্টি খাওয়াতে খাওয়াতে মায়ের চোখের কোণেও চিকচিক করছিল জল। গর্বিত মা জানালেন, ছোট থেকেই মেধাবী চন্দ্রচূড়। স্কুলে প্রথম হত। মাধ্যমিকেও ভাল ফল করবে তার আশাই রেখেছিলেন সকলে। আগামী দিনেও চন্দ্রচূড় তার লক্ষ্যে চূড়ান্ত সাফল্য পাবে এটাই বিশ্বাস রাখেন মা।
চন্দ্রচূড় সুবক্তা। সে জানাল, রুটিনমাফিক পড়া নয়, তবে সময় ধরে পড়া আর লেখার অভ্যাসই তাকে আত্মবিশ্বাসী করে তুলেছিল। স্কুলের পড়া তো বটেই নানা সহায়িকা বইও পড়েছে সে। আর সবচেয়ে বেশি করেছে ঘড়ি ধরে লেখার অভ্যাস। চন্দ্রচূড়ের কথায়, “করোনা অতিমারীতে অনেক কিছু ওলটপালট হয়ে যায়। তবে স্কুলের শিক্ষকরা আর গৃহশিক্ষকরা নিরলস পরিশ্রম করেছেন। সরকারের চেষ্টায় আর শিক্ষকদের অনুপ্রেরণায় পড়াশোনা থামেনি কখনও। স্কুলে নিয়মিত না গেলেও শিক্ষকরা পাশে থেকেছেন, সাহস জুগিয়ে গেছেন।”
আগামী বছর মাধ্যমিক পরীক্ষার্থীদের জন্য চন্দ্রচূড়ের টিপস ব্রেক লার্নিং মেথড। চন্দ্রচূড় বলছে, পরীক্ষার আগে পাথ ফাইন্ডার ও এমনই কয়েকটি জায়গায় নিয়মিত মক টেস্ট দিতে যেত সে। সেখানেই শিখেছে এই পদ্ধতি। ব্রেক লার্নিং হল একটানা পড়া মুখস্থ না করে বিরতি নিয়ে পড়া। চন্দ্রচূড়ের কথায়, অনেকেই আছে ঘণ্টার পর ঘণ্টা ধরে ঘাড় গুঁজে পড়ে যায় ও মুখস্থ করতে থাকে। এইভাবে পড়া মনে থাকে না বা কনসেপ্ট পরিষ্কার হয় না। তাই কনসেপ্ট আগে গ্রো করতে হবে। এবারের পরীক্ষায় এমন অনেক প্রশ্ন এসেছিল যেখানে মুখস্থবিদ্যার থেকেও বুঝে পড়া বা সারমর্ম জেনে পড়ার পদ্ধতিই কাজে লেগেছে। আর ছিল সময় নিয়ে বিরতি নিয়ে পড়া। ৪০ মিনিট টানা পড়ার পড়ে ১০-১৫ মিনিটের ব্রেক। সেখানে পছন্দের কাজ করা, ছবি আঁকা বা নিজের মতো থাকা জরুরি। ওই সময়টাতে ব্রেন কিছুটা ব্রেক পায়। পড়াও ভাল মনে থাকে।
চন্দ্রচূড়ের টিপস, “কেবল মুখস্থ করলে চলবে না। আমাদের ক্ষেত্রে প্রশ্নপত্র দেখলেই বোঝা যাবে, অনেক কিছুই কনসেপ্ট বেসড ছিল। পাঠ্যপুস্তক খুঁটিয়ে পড়তে হবে। সঙ্গে সহায়িকা বইও রাখতে হবে। লিখে লিখে অভ্যাস করাকে গুরুত্ব দিতে হবে। কৌতুহল তোমাকে শেখাবে, যে কী করে জিনিস জানতে হয়। সুতরাং জ্ঞানপিপাসাটাকে বাড়াতে হবে।”