
শেষ আপডেট: 14 February 2024 23:52
দ্য ওয়াল ব্যুরো: সন্দেশখালি কাণ্ডে ভুয়ো তথ্য ছড়ানো হচ্ছে, এমনটাই দাবি করল রাজ্য পুলিশ। পুলিশের তরফে আরও দাবি করা হয়েছে, সন্দেশখালি নিয়ে এমন খবর ছড়ানো হচ্ছে যা সঠিক নয়। স্থানীয় মহিলাদের উপর যৌন নির্যাতনের ঘটনা ঘটেছে, তাঁদের উপর অত্যাচার করা হয়েছে বলেও যে খবরগুলো সামনে আসছে, তা সত্য নয় বলেই দাবি পুলিশের। তাদের বক্তব্য, পুলিশের ১০ সদস্যের তদন্তকারী দল এলাকা পরিদর্শনে গিয়ে সে রকম কোনও অভিযোগ পায়নি।
রাজ্য পুলিশের বক্তব্য, জাতীয় মহিলা কমিশনের প্রতিনিধিরাও সন্দেশখালিতে ঘুরে পরিস্থিতি সরেজমিনে খতিয়ে দেখে এসেছেন। তাঁরাও রিপোর্ট করেছেন যে, সেখানে স্থানীয় মহিলাদের উপর যৌন নির্যাতনের ঘটনার কোনও অভিযোগ জমা পড়েনি। তবে পুলিশ জানিয়েছে, সন্দেশকালির ঘটনা নিয়ে তদন্ত চলছে। এখনও পর্যন্ত যা যা অভিযোগ পাওয়া গেছে সেগুলো যদি সত্যি প্রমাণিত হয়, তাহলে পুলিশের তরফে যথাযথ পদক্ষেপ করা হবে।
সন্দেশখালি কাণ্ডে গত ১০ দিন ফেরার তৃণমূলের সন্দেশখালি-২ নম্বর ব্লকের সভাপতি তথা জেলা পরিষদ সদস্য শিবপ্রসাদ হাজরা। পুলিশের দাবি, শিবপ্রসাদ ওরফে শিবুর খোঁজে তল্লাশি চালানো হচ্ছে। কয়েকদিন আগেই শিবু হাজরার বিরুদ্ধে নারী নিগ্রহ-সহ একাধিক অভিযোগে সরব হয়েছিলেন গ্রামবাসীরা। তাঁরা অভিযোগ করেছিলেন, গ্রামের মহিলাদের অত্যাচার করা হত। শিবু হাজরা ও তাঁর সঙ্গীদের দিকেই ছিল অভিযোগের আঙুল।
গত কয়েকদিন ধরে যা যা অভিযোগ পাওয়া গিয়েছিল তারই সমাধানসূত্র খুঁজতে ১০ সদস্যর এক উচ্চ পর্যায়ের কমিটি গঠন করেছে রাজ্য সরকার। মঙ্গলবার সকাল থেকে ডিআইজি পদমর্যাদার মহিলা পুলিশ আধিকারিকের নেতৃত্বে তৈরি ওই কমিটি ঘুরেছে সন্দেশখালির পাড়ায় পড়ায়। বিভিন্ন এলাকায় গিয়ে মহিলাদের সঙ্গে কথা বলছেন তাঁরা। শুনেছেন তাঁদের সমস্যার কথা।
গ্রামবাসীদের অভিযোগ, প্রতিদিন রাতে বাড়ির মেয়েদের জোর করে তুলে নিয়ে যাওয়া হত। মাথায় বন্দুক ঠেকিয়ে অত্যাচার করা হত। মঙ্গলবার এ ব্যাপারে কলকাতা হাইকোর্টের বিচারপতি অপূর্ব সিনহা রায় জানিয়েছেন, সন্দেশখালির দুটি বিষয় নিয়ে আদালত খুবই বিচলিত। আদিবাসীদের জমি দখল করার অভিযোগ এবং এলাকার মহিলাদের অত্যাচারিত হওয়ার বিষয়টি। যদিও পুলিশ দাবি করেছে, তেমন কোনও অভিযোগ এখনও পর্যন্ত জমা পড়েনি।