
সিভি আনন্দ বোস
শেষ আপডেট: 10 April 2025 08:03
দ্য ওয়াল ব্যুরো: বিধানসভায় (Bidhansabha) পাশ হওয়া বিল আটকে রাখার কারণে সম্প্রতি তামিলনাড়ুর রাজ্যপালকে তীব্র ভর্ৎসনা করে সুপ্রিম কোর্ট (Supreme Court)। স্পষ্ট বলা হয়েছে, বিধানসভায় পাশ হওয়া বিল রাজ্যপালদের ঝুলিয়ে রাখা ‘বৈধ’ নয়। বিষয়টিতে 'বাড়তি অক্সিজেন' পেয়েছে বাংলার সরকার। কারণ পশ্চিমবঙ্গের রাজ্যপাল সিভি আনন্দ বোসের (CV Ananda Bose) বিরুদ্ধেও কার্যত একই অভিযোগ রয়েছে। সুপ্রিম কোর্টের পর্যবেক্ষণকে হাতিয়ার করেই রাজ্যপাল বোসের ওপর নতুন করে চাপ সৃষ্টি করেছেন বিধানসভার স্পিকার বিমান বন্দ্যোপাধ্যায়। এবার পাল্টা দিল রাজভবনও।
গত মঙ্গলবার বিধানসভার স্পিকার বিমান বন্দ্যোপাধ্যায় বিলের বিষয়টি নিয়ে রাজ্যপালকে 'কর্তব্য'র কথা মনে করিয়েছিলেন। বুধবার রাতে পাল্টা রাজভবনের তরফে বিবৃতি দিয়ে জানাল হল, কেন আটকে রয়েছে একাধিক বিল। সেই সঙ্গে স্পষ্ট করা হয়েছে, রাজ্যপাল সংবিধান অনুযায়ী শিষ্টাচার মেনেই চলছেন। রাজভবন বলছে, যে বিলগুলি 'আটকে' রাখার কথা বলা হচ্ছে, সেগুলি সম্পর্কে পূর্ণ তথ্য তাঁরা এখনও পায়নি। এক্ষেত্রে পরোক্ষভাবে নবান্নের দিকেই আঙুল তোলা হয়েছে।
গণপিটুনি থেকে হাওড়া পুরসভা, অপরাজিতা সহ একাধিক বিল 'আটকে' রাখার অভিযোগ তোলা হয়েছে রাজভবনের বিরুদ্ধে। এই ইস্যুতে রাজভবনের স্পষ্ট বক্তব্য, ২০২৪ এবং ২০২৫ সালে রাজ্যপাল মোট ১১টি বিল রাষ্ট্রপতির কাছে বিবেচনার জন্য পাঠিয়েছেন। এই বিলগুলির মধ্যে ১০টি বিশ্ববিদ্যালয় সংক্রান্ত এবং একটি অপরাজিতা বিল। আর হাওড়া পুরসভা ও গণপিটুনি-সহ একঝাঁক বিলে সম্মতি দেওয়ার ক্ষেত্রে রাজ্য সরকারের কাছে বেশ কিছু তথ্য তলব করেছে রাজভবন। কিন্তু এখনও 'উপযুক্ত' জবাব আসেনি। তাই এক্ষেত্রে দায় যে সরকারকে নিতে হবে, তা বুঝিয়ে দেওয়া হয়েছে।
তামিলনাড়ুর বিষয়টি নিয়ে সুপ্রিম কোর্ট বলেছিল, বিধানসভায় পাশ হওয়া বিল আটকে রাখা 'বেআইনি' ও 'স্বেচ্ছাচারী'। এর আগে পশ্চিমবঙ্গ, কেরল, পাঞ্জাব সহ বিভিন্ন রাজ্যপালের ভূমিকা ও বিলে সম্মতি প্রদান নিয়ে মামলা উঠেছে সর্বোচ্চ আদালতে। সেই প্রেক্ষিতে রাজ্য বিধানসভায় যে বিল পাশ হয়ে গেছে, তা নিয়ে রাজ্যপালের ভূমিকা নিয়ে সুপ্রিম কোর্টের এই রায় অত্যন্ত তাৎপর্যপূর্ণ বলেই ব্যাখ্যা করছেন সকলে।