
শেষ আপডেট: 1 April 2024 11:17
দ্য ওয়াল ব্যুরো: রবিবার কালবৈশাখী ঝড়ের তাণ্ডবে জলপাইগুড়ির বিস্তীর্ণ এলাকা ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। এখনও পর্যন্ত ৫ জনের মৃত্যু হয়েছে। হাসপাতালে চিকিৎসাধীন রয়েছেন বহু মানুষ। তাঁদের মধ্যে কয়েকজনের অবস্থা আশঙ্কাজনক। রাতেই উত্তরবঙ্গে পৌঁছন মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়। রাত আড়াইটে পর্যন্ত পরিস্থিতি ঘুরে দেখেন তিনি। সোমবার সকালে জলপাইগুড়ি গেলেন রাজ্যপাল সি ভি আনন্দ বোস। এলাকায় গিয়ে প্রাকৃতিক দুর্যোগে মৃত ও আহতদের পরিবারের সঙ্গে দেখা করবেন তিনি।
দমদম বিমানবন্দর থেকে ভোর ৬টা নাগাদ বাগডোগরার উদ্দেশে রওনা দেন রাজ্যপাল। এরপর সড়কপথে পৌঁছবেন জলপাইগুড়িতে। কলকাতা বিমানবন্দর থেকে জলপাইগুড়ির ঘটনায় শোকপ্রকাশ করেছেন রাজ্যপাল। জাতীয় বিপর্যয় মোকাবিলা বাহিনীর সঙ্গে তাঁর কথা হয়েছে বলে জানান বোস।
সাংবাদিকদের মুখোমুখি হয়ে এদিন রাজ্যপাল বলেন, “জলপাইগুড়িতে ঝড়ের ঘটনায় আমি উদ্বিগ্ন। সংশ্লিষ্ট দফতরের সঙ্গে আমার কথা হয়েছে। সকলে একসঙ্গে পরিস্থিতি মোকাবিলার কাজ করছেন। আমি ওখানে গিয়ে পরিস্থিতি খতিয়ে দেখব, ক্ষতিগ্রস্ত মানুষের সঙ্গে কথা বলব। আমার পক্ষে যা যা করা সম্ভব নিশ্চয়ই করব।’’
একইসঙ্গে রাজ্যের বিরোধী দলনেতা শুভেন্দু অধিকারীরও ইতিমধ্যে জলপাইগুড়ির উদ্দেশে রওনা দিয়েছেন। বিমানবন্দরে ঢোকার আগে তিনি বলেন, "কাল থেকে আমাদের বিধায়ক-কর্মীরা নির্বাচনবিধি মেনে কাজ করছে। তিনটে গ্রামের ৮০০ বাড়ি ক্ষতি হয়ে গিয়েছে। সরকারের উচিত পাশে দাঁড়ানো। এছাড়া স্বেচ্ছাসেবী সংগঠনেরও এগিয়ে এসে কাজ করা উচিত।"
১৫ মিনিটের কালবৈশাখীর ঝড়ে তছনছ অবস্থা জলপাইগুড়ি শহর, ধূপগুড়ি, ময়নাগুড়ির বেশ কিছু এলাকার। রবিবার উত্তরবঙ্গের প্রাকৃতিক দুর্যোগের খবর পাওয়ার পরই উদ্বেগ প্রকাশ করেন সিভি আনন্দ বোস। রাতেই আর্তদের সাহায্যের জন্য রাজভবনে এমারজেন্সি সেল খোলা ব্যবস্থা করেন তিনি। রাজভবনে প্রস্তুত রাখা হয় পিস রুম, খোলা হয়েছে জরুরি সেল। কেন্দ্রীয় স্বরাষ্ট্র মন্ত্রক, বিপর্যয় মোকাবিলা দফতরের সঙ্গে যোগাযোগ রাখছে রাজভবন।
রবিবার বেলা সাড়ে ৩ টে নাগাদ জলপাইগুড়ি জেলায় ব্যাপক কালবৈশাখী ঝড় ও শিলাবৃষ্টি শুরু হয়। ১৫ মিনিটের কালবৈশাখী ঝড়েই ৪ জনের মৃত্যু হয়েছে বলে খবর। আহতের সংখ্যা অন্তত ২০০। কিছুক্ষণের ঝড়ের তাণ্ডবে জলপাইগুড়ি সদর ব্লক, ময়নাগুড়ি ব্লকের বেশ কিছু এলাকায় বিপুল ক্ষয়ক্ষতি হয়। ঘটনার পর প্রশাসনকে প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ করার নির্দেশ দিয়েছিলেন মুখ্যমন্ত্রী। এমনকী মৃতদের পরিবারের পাশে দাঁড়িয়ে জানান, নির্বাচনী আদর্শ বিধি অনুসরণ করে ক্ষতিগ্রস্তদের পাশে দাঁড়াবে সরকার।