
ফাইল চিত্র
শেষ আপডেট: 24 January 2025 15:42
কেউ মা-বাবা দুজনকেই হারিয়েছে। কারও আবার মা থাকলেও বাবা নেই। কারও বাবা-মা থাকলেও অভাবের সংসার বলে সন্তানকে এখানে রেখে গেছেন। এই সব ছেলে-মেয়ে যাদের জীবনের লক্ষ্য হারিয়ে যাওয়ার কথা ছিল, তাঁরাই নতুন করে তা খুঁজে পেয়েছে পূর্ব মেদিনীপুরের এই আশ্রমে।
পাঁউসি অন্তর্দয় আশ্রম। প্রায় ১৫০ জন অনাথ, অভাবী ছেলে-মেয়েরা এখানে থেকে স্বনির্ভর হওয়ার শিক্ষা পাচ্ছে। পড়াশোনার সঙ্গে শিখছে হাতের কাজ। সকলে মিলে তৈরি করছে গয়না বড়ি, খেজুর গুড়, গ্রিটিংস কার্ড। এমনকী জামাকাপড়ে নকশা এঁকেও রোজগার করছে তারা। সেইসব জিনিসপত্র বিক্রি করে নিজেরাই পড়াশোনার খরচ জোগাচ্ছে।
এই আশ্রমের কর্ণধার বলরাম করণ জানাচ্ছেন, তিনি ২৫ বছর ধরে নিজের সন্তানের মতো এই আবাসিকদের আগলে রেখেছেন। বাইরে থেকে আসা সামান্য অনুদানও তিনি আবাসিকদের জন্য খরচ করেন।
তাঁর কথায়, 'বিক্রিত জিনিস থেকে আসা টাকা আশ্রমের কাজ যেমন লাগে, এই ছেলে মেয়েদের অ্যাকাউন্টেও যায়। আমি চাই, কেউ এখান থেকে বেরনোর সময়ে যেন কিছু টাকা নিয়ে বেরতে পারে। সাময়িকভাবে তার যেন কোনও সমস্যা না হয়।'
এক অনুদানকারীর কথায়, বলরাম করণের নেতৃত্বে যে কাজ করে চলেছে এই আশ্রম তা নিজের চোখে দেখা এক সৌভাগ্যের ব্যাপার। আর তাঁরা চান আংশিকভাবে হলেও এই কাজে সামিল হতে, অংশীদার হতে। তাই খুব কাছ থেকে এই কাজে যুক্ত হতে চান তাঁরা।
প্রতিবছর শীতের সময়ে অন্তর্দয় থেকে গয়না, গুড় কিনতে আসেন অনেকে। এবছরও উত্তরপাড়া থেকে অনেকে এসেছেন। তাঁরাও এই ছোটো ছোটো ছেলেমেয়েদের হাতের কাজ দেখে মুগ্ধ।