
শেষ আপডেট: 23 January 2020 13:36
অনন্য এই স্মৃতিসৌধে থাকবে মূলত সারমেয়দের অবদানের কথাই। তবে তাদের পাশাপাশি জায়গা হতে পারে ঘোড়া ও খচ্চরদের। দেশের মধ্যে এটাই হতে চলেছে প্রথম ওয়ার মেমোরিয়াল যেখানে দেশের সুরক্ষায় পশুদের অবদানের কথাই মূলত লেখা থাকবে। লেখা থাকবে সেনাদের পাশাপাশি যুদ্ধের ময়দানে তাদের বীরত্ব, একনিষ্ঠা ও কর্তব্যপরায়ণতা ও যুদ্ধে তাদের অবদানের কথা। নাম প্রকাশ না করার শর্তে এক বরিষ্ঠ আধিকারিক একথা জানিয়েছেন।
মিরাটের রিমাউন্ট অ্যান্ড ভেটেরিনারি কর্পস (আরভিসি) সেন্টার অ্যান্ড কলেজে এই মেমোরিয়াল তৈরি হবে। এখানেই সেনাবাহিনীর পক্ষ থেকে কুকুর, ঘোড়া ও খচ্চরের প্রজনন ঘটানো হয় ও তাদের প্রশিক্ষণ দেওয়া হয়।
মানুষ ও পশুসেনাদের জন্য যুদ্ধের স্মৃতিসৌধ ও স্মারক তৈরির ব্যাপারে খুব শীঘ্রই সংশ্লিষ্ট মন্ত্রক থেকে অনুমোদন এসে যাবে বলে মনে করছেন আরভিসির আধিকারিকরা। পশুদের বীরগাথা, আত্মত্যাগ ও গরিমার কথা লেখা থাকবে স্মৃতিসৌধে। প্রস্তাবিত এই স্মৃতিসৌধের প্রাথমিক নকশাও ইতিমধ্যেই ইতিমধ্যেই তৈরি করে ফেলা হয়েছে।
দিল্লিতে ন্যাশনাল ওয়ার মেমোরিয়াল রয়েছে তবে ছোট মাপের।
এই স্মৃতিসৌধে ৩০০টি সারমেয়, তাদের জন্য দায়িত্বপ্রাপ্ত সাড়ে তিনশো সেনাআধিকারিক (হ্যান্ডলার), ঘোড়া ও খচ্চরের জন্য পৃথক পৃথক ট্যাবলেট রাখা থাকবে। জম্মু-কাশ্মীর ও দেশে উত্তর-পূর্বে যে ২৫টি সারমেয়র মৃত্যু হয়েছে জঙ্গিদমন করতে গিয়ে তাদের বীরাথাও এখানে লেখা থাকবে।
এক আধিকারিকের কথায়, আরভিসির সেই সব সেনা (মানুষ ও পশু) যাঁরা যুদ্ধের ময়দানে দেশের জন্য প্রাণ দিয়েছেন তাঁদের শ্রদ্ধা জানাতে এটা একটা যৎসামান্য উদ্যোগ।
তালিকার একেবারে উপরে লেখা থাকবে মানসী নামে এক ল্যাব্রাডরের নাম যে মরণোত্তর ‘মেনশন ইন ডিসপ্যাচেস’ (ভারতে সামরিক ক্ষেত্রে সারমেয়দের জন্য সর্বোচ্চ সম্মান) পেয়েছে চার বছর আগে উত্তরকাশ্মীরে অনুপ্রবেশ রুখতে গিয়ে ও জঙ্গি দমনে শহিদ হয়ে। তার হ্যান্ডেলার বসির আহমেদ ওয়ারও মানসীর পাশপাশি মরণোত্তর ‘সেনা মেডেল’ সম্মান পেয়েছেন। ডগ হ্যান্ডলার সর্বোচ্চ সম্মান হিসাব তৃতীয় সর্বোচ্চ সামরিক সম্মান শৌর্যচক্র পেতে পারেন।
ভারতীয় সেনাবাহিনীতে এক হাজারটি কুকুর, পাঁচ হাজার খচ্চর ও দেড় হাজার ঘোড়া রয়েছে।