দ্য ওয়াল ব্যুরো : আগামী সপ্তাহেই ভারতে আসছেন মার্কিন বিদেশ সচিব মাইক পম্পিও এবং প্রতিরক্ষা সচিব মার্ক এসপার। তার আগে শনিবার ট্রাম্প প্রশাসনের এক পদস্থ অফিসার জানালেন, লাদাখে ভারত-চিন সেনা সমাবেশের দিকে সতর্ক নজর রাখছে আমেরিকা। তারা চায় না, সেখানে উত্তেজনা আরও বৃদ্ধি পাক। আমেরিকা গত কয়েক মাস ধরে ভারতের সঙ্গে গোয়েন্দাদের পাওয়া তথ্য বিনিময় করছে।
আমেরিকা জানিয়েছে, দক্ষিণ চিন সাগরে ভারতের নৌ সেনার উপস্থিতিতে তারা খুশি হয়েছে। হিমালয়ে অথবা সমুদ্রে, চিন যেখানেই আগ্রাসী ভূমিকা নেবে, তাকে ঠেকাতে হবে। সেজন্য সমমনস্ক দেশগুলির সঙ্গে ঐক্যবদ্ধভাবে কাজ করছে আমেরিকা।
অনলাইন প্রেস বিবৃতিতে মার্কিন অফিসাররা জানিয়েছেন, "কেবল দক্ষিণ চিন সমুদ্রে নয়, সামগ্রিকভাবে দক্ষিণ-পূর্ব এশিয়ায় ভারতের সঙ্গে নানা বিষয়ে সহযোগিতা বাড়ানোর জন্য আমাদের আলোচনা চলছে। ভারত যাতে ওই অঞ্চলে নানা উন্নয়নমূলক প্রকল্পে আরও বেশি বিনিয়োগ করে, সেজন্য আমরা উৎসাহ দিচ্ছি।"
চিনের কঠোর সমালোচনা করে মার্কিন মুখপাত্র বলেন, "হিমালয় থেকে দক্ষিণ চিন সমুদ্র পর্যন্ত সামগ্রিকভাবে ভারতীয়-প্রশান্ত মহাসাগরীয় অঞ্চলে চিন আগ্রাসী মনোভাব নিয়ে চলছে। ফলে ভারতের সঙ্গে সহযোগিতা করে চলা আমাদের পক্ষে আরও প্রয়োজনীয় হয়ে পড়েছে।" পরে তিনি বলেন, "মালাবারে নৌ সেনার মহড়ায় ভারত অস্ট্রেলিয়াকে অংশ নেওয়ার জন্য আমন্ত্রণ করায় আমরা খুশি হয়েছি।"
লাদাখ সীমান্তে উত্তেজনার প্রেক্ষিতে মার্কিন মুখপাত্র বলেন, আমরা ভারতকে নানাভাবে সাহায্য করছি। আমরা তাদের অস্ত্রশস্ত্র বিক্রি করছি, যৌথ সেনা মহড়া দিচ্ছি, গোয়েন্দা তথ্য আদান-প্রদান করছি।
মার্কিন মুখপাত্র জানান, ২০১৬ সাল থেকে প্রতিরক্ষা ক্ষেত্রে আমেরিকার গুরুত্বপূর্ণ সহযোগী হয়ে উঠেছে ভারত।
গত ১৫ জুন গালওয়ানে টহলরত ভারতীয় সেনার উপর আচমকা হামলা করে চিনা সেনা। এই হামলায় ২০ ভারতীয় জওয়ান শহিদ হন। পাল্টা মারে চিনের প্রায় ৩৫ জওয়ান নিহত হয় বলে খবর। অবশ্য চিনের তরফে এই সংখ্যা জানানো হয়নি। এরপর থেকে দু’দেশের মধ্যে সীমান্ত সম্পর্ক উত্তপ্ত হয়ে ওঠে। তারপর থেকে সীমান্তে উত্তাপ ক্রমাগত বাড়ছে। একদিকে যেমন সেনা বাড়াচ্ছে লাল ফৌজ, অন্যদিকে তেমনই সেনা বাড়াচ্ছে ভারতও। শীতেও যাতে সীমান্তে সেনা থাকে তার বন্দোবস্ত করেছে ভারত। নিয়ে যাওয়া হয়েছে অত্যাধুনিক অস্ত্র। এর থেকেই পরিষ্কার চিনের আগ্রাসনের জবাবে চোখে চোখ রেখে দাঁড়িয়ে রয়েছে ভারত।
গত ১০ সেপ্টেম্বর রাশিয়ার মস্কোতে ভারতের বিদেশমন্ত্রী এস জয়শঙ্কর ও চিনের বিদেশমন্ত্রী ওয়াং ই-র মধ্যে বৈঠকে ঠিক হয়, দু’দেশই সীমান্ত থেকে সেনা প্রত্যাহার করে নেবে। এই চুক্তিতে ঠিক হয়, যত তাড়াতাড়ি সম্ভব সেনা সরিয়ে নেওয়া হবে, সীমান্তে যাতে কোনও দেশ উস্কানি না দেয় সেদিকে লক্ষ্য রাখা হবে, দু’দেশের চুক্তি অনুযায়ী সীমান্তে শান্তি বজায় রাখার ক্ষেত্রে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা নেবে দুই দেশ।