দ্য ওয়াল ব্যুরো: মোবাইল পরিষেবা প্রদানকারী সংস্থা হিসাবে এক সময় বাজার প্রায় একচেটিয়া ভাবে দখলে রাখা দুই প্রতিষ্ঠান ভোডাফোন ও এয়ারটেল এখন আর্থিক সঙ্কটে। সরকারের পাওনা মেটাতে গেলে তাদের ব্যবসা গোটাতে হতে পারে বলে আশঙ্কা করা হচ্ছে। এই পরিস্থিতিতে উদ্বেগ প্রকাশ করলেন কেন্দ্রীয় অর্থমন্ত্রী নির্মলা সীতারমণ। নয়াদিল্লিতে একটি সাংবাদিক বৈঠকে শুক্রবার তিনি বলেন, “আমরা চাই না কোনও প্রতিষ্ঠান তাদের ব্যবসা বন্ধ করে দিক। আমরা চাই প্রতিটি প্রতিষ্ঠানই যেন উন্নতি করে।”
সর্বোচ্চ আদালতের রায়ে প্রদেয় অর্থ দিতে গিয়ে জুলাই-সেপ্টেম্বর ত্রৈমাসিকে বিপুল লোকসান হয়েছে ভোডাফোন আইডিয়া ও এয়ারটেলের। তিনি জানান, টেলিকম ক্ষেত্রে যে বিপুল চাপ তৈরি হয়েছে তা থেকে বেরিয়ে আসতে ও চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত নিতে সচিবদের নিয়ে একটি কমিটি গঠন করা হয়েছে। তবে এ ব্যাপারে এখনও কোনও চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত হয়নি।
সর্বোচ্চ আদালত গত ২৫ অক্টোবর ভোডাফোন আইডিয়া ও এয়ারটেলকে ৭৪,০০০ কোটি টাকা মিটিয়ে দেওয়ার নির্দেশ দিয়েছে। তাতেই বিপাকে পড়েছে এই দুই টেলিকম সংস্থা।
স্পেকট্রাম ব্যবহারের জন্য ভারতী এয়ারটেল লিমিটেড ও ভোডাফোন ইন্ডিয়া লিমিটেডের থেকে ৪৯ হাজার ৯৯০ কোটি টাকা চেয়েছিল সরকার। এই অর্থের কিছুটা মকুব করার জন্য আবেদন জানিয়েছিল দুই সংস্থা। সরকার তাদের আর্জি বিবেচনা করে দেখছে।
দুই প্রতিদ্বন্দ্বী সংস্থা সম্পর্কে রিলায়েন্স জিও বলেছে, ভারতী এয়ারটেলের পক্ষে ৪০ হাজার কোটি টাকা তোলা কোনও ব্যাপার নয়। ভোডাফোনও প্রাপ্য টাকা দিতে পারবে। রিলায়েন্স জিও-র রেগুলেটরি অ্যাফেয়ার্স শাখার প্রেসিডেন্ট কাপুর সিং গুলিয়ানি বলেছেন, এয়ারটেল যদি তার সম্পদের সামান্য অংশ বিক্রি করে দেয় অথবা তার ইন্ডাস টাওয়ার ব্যবসার ১৫-২০ শতাংশ নতুন ইকুইটি বাজারে ছাড়ে, তাহলে সহজেই ৪০ হাজার কোটি টাকা তুলতে পারবে। ইন্ডাস টাওয়ার ব্যবসার অংশীদার ভোডাফোনও। সুতরাং টাকা জোগাড় করা তাদের কাছে কোনও ব্যাপারই নয়।
জুলাই-সেপ্টেম্বর ত্রৈমাসিকে মোবাইল পরিষেবা প্রদানকারী সংস্থা ভোডাফোন আইডিয়ার লোকসান বেড়ে হয়েছে ৫০,৯২২ কোটি টাকা। গত বছর এই ত্রৈমাসিকে তাদের লোকসান হয়েছিল ৪,৯৭৩.৮ কোটি টাকা। বছরের হিসাবে পরিষেবা থেকে আয় ৪২ শতাংশ বেড়ে ১০,৮৩৮.৯ কোটি টাকা হয়েছে, যদিও টেলিযোগাযোগ মন্ত্রককে এককালীন ২৫,৬৭৭.৯ কোটি টাকা জরিমানা দেওয়ায় তাদের লোকসানের বহর বেড়েছে।
২৫ অক্টোবর সুপ্রিম কোর্ট এক রায়ে লাইসেন্স ফি ও স্পেকট্রাম ব্যবহারের চার্জ বাবদ ভোডাফোন আইডিয়াকে ‘অ্যাডজাস্টেড গ্রস রেভেনিউ’-এর (এজিআর) জন্য ২৮,৩০৯ কোটি বকেয়া টাকা দ্রুত মেটানোর কথা বলে। এই রায়েই ঘোর বিপাকে পড়ে ভোডাফোন আইডিয়া। এই রায় মানতে হলে তিন মাসের মধ্যে তাদের মেটাতে হবে প্রায় ৩৯,০০০ কোটি টাকা। ফলে, চলতি বছরে নেটওয়ার্ক সম্প্রসারণ ও আধুনিকীকরণের জন্য রাইটস ইস্যুর মাধ্যমে ভোডাফোন আইডিয়া যে ২৫,০০০ কোটি টাকা তুলেছিল, তার সবটাই চলে যাবে সরকারের দেনা মেটাতে।
দেশের দ্বিতীয় বৃহত্তম মোবাইল পরিষেবা প্রদানকারী সংস্থাকে এ জন্য ৩৪,২৬০ কোটি টাকার প্রভিশন রাখতে হয়েছে। এয়ারটেল জানিয়েছে, তাদের আয় গত আর্থিক বছরের তুলনায় পাঁচ শতাংশ বেড়ে ২১,১৩১.৩ কোটি টাকা হয়েছে। গত আর্থিক বছরে দ্বিতীয় ত্রৈমাসিকে তারা ১১৮.৮ কোটি টাকা নিট মুনাফা করেছিল।