
শেষ আপডেট: 9 October 2021 10:16
চিনের এই মহাকাশযান মাল্টি-মডিউল প্রোব, চাঁদের কাছাকাছি পৌঁছে দুটি ভাগে বিভক্ত হয়ে যায়। একটি ভাগ চাঁদের কক্ষপথে পাক খেতে খেতে নজর রাখে। দ্বিতীয় ভাগ চাঁদের মাটিতে অবতরণ করে। যে ভাগটি নজরদারির জন্য রাখা হয়েছিল তার মধ্যে ছিল সার্ভিস ভেহিকল ও অ্যাটমস্ফেরিক রি-এন্ট্রি মডুউল। এদের কাজ ছিল তদারকি করা আর প্রতি মুহূর্তের খবর পৃথিবীতে পাঠানো। চাঁদের মাটিতে নামে ল্যান্ডার এবং অ্যাসেন্ডার। ঠিক কোন জায়গা থেকে মাটি খামচে নিলে টাটকা নুড়ি-পাথর পাওয়া যাবে তা ঠিক করে ল্যান্ডারই। এর রোবোটিক আর্ম নমুনা তুলে পেটে ভরে নেয়। চিন জানিয়েছে, আমেরিকা তার অ্যাপোলো মিশনে ৪০০ কিলোগ্রাম নমুনা এনেছিল চাঁদ থেকে। সেগুলোর বয়স ১০০ কোটি বছরেরও বেশি। কিন্তু এবার একদম টাটকা মাটি তুলে নিয়ে আসছে তারা।
ভলক্যানিক ক্রেটার আছে চাঁদে
ক্রেটার কথাটা এসেছে গ্রিক শব্দ Vessel থেকে। প্রথম টেলিস্কোপ আবিষ্কার করে গ্যালিলিও বলেছিলেন চাঁদ মোটেও গোলপানা সুন্দর নয়। বরং চাঁদের মাটি খানাখন্দ, পর্বত-উপত্যকায় ভরা। আর আছে কাপের মতো আকৃতির কিছু উঁচুনিচু জায়গা। ১৭৯১ সালে এই উঁচুনিচু কাপের মতো আকৃতির জায়গাগুলোরই নাম দেওয়া হয় ক্রেটার বা চাঁদের গহ্বর। এখন চাঁদের মাটিতে এইসব গহ্বরের জন্ম কীভাবে হল সেই নিয়ে খোঁজ দীর্ঘদিনের।
মহাকাশবিজ্ঞানীরা বলছেন, এই গহ্বর তৈরি হতে পারে নানাভাবে। প্রথমত, আগ্নেয়গিরির অগ্ন্যুৎপাতের কারণে। চাঁদের বুকে সব আগ্নেয়গিরিই এখন মৃত। সেইসব ক্রেটারকে বলা হয় ‘ভলক্যানিক ক্রেটার।’ দ্বিতীয়ত, উল্কাপাত বা গ্রহাণুর সংঘর্ষে। চাঁদে যেহেতু বায়ুমণ্ডল নেই। তাই চাঁদের দিকে ছুটে আসা উল্কাপিণ্ড বা গ্রহাণু প্রবল গতিতে আছড়ে পড়ে চাঁদের মাটিতে। প্রবল বিস্ফোরণে ফাটল তৈরি হয়। একে বলে ‘ইমপ্যাক্ট ক্রেটার।’ তবে চাঁদের আগ্নেয়গিরি যে বহুকাল সক্রিয় ছিল সে ব্যাপারে কোনও সন্দেহই নেই মহাকাশবিজ্ঞানীদের।
পড়ুন দ্য ওয়ালের সাহিত্য পত্রিকা 'সুখপাঠ'