দ্য ওয়াল ব্যুরো : গতবছর ৩০ জুন শেষ হওয়া ত্রৈমাসিকে ভোডাফোন আইডিয়ার ক্ষতির পরিমাণ ছিল ৪৮৭৪ কোটি টাকা। বৃহস্পতিবার ওই সংস্থার পক্ষে জানানো হয়েছে, চলতি বছরে জুনে শেষ হওয়া ত্রৈমাসিকে সেই ক্ষতির পরিমাণ বেড়ে দাঁড়িয়েছে ২৫ হাজার ৪৬০ কোটি টাকা। সংস্থার আয় কমেছে আগের চেয়ে আট শতাংশ। টাকার অঙ্কে তার পরিমাণ ১০ হাজার ৬৫৯ কোটি ৩০ লক্ষ। এপ্রিল থেকে জুন পর্যন্ত ত্রৈমাসিকে ভোডাফোন সরকারের টেলিকম দফতরকে দিয়েছে ৬৮৫০ কোটি ৪০ লক্ষ টাকা। সেই টাকা দেওয়া হয়েছে তিন দফায়।
ভোডাফোন আইডিয়া জানিয়েছে, তার মোট সম্পদের পরিমাণ এখন মাইনাস ১৯৪৯১ কোটি ৮০ লক্ষ টাকা। অর্থাৎ তার সম্পদের পরিমাণ এখন ঋণাত্মক। করোনা অতিমহামারীতে সংস্থার ব্যবসা ব্যাপক ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। কোম্পানির তরফে বিবৃতি দিয়ে বলা হয়েছে, অতিমহামারীর জন্য বিশ্বে তথা ভারতে অর্থনীতির গতি হয়ে পড়েছে ধীর। এর ফলে আমরা ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছি। আমাদের গ্রাহক সংখ্যা কমেছে। অনেকে ভোডাফোন আইডিয়ার কানেকশান ছেড়ে দিয়েছেন। লকডাউনের ফলে সব খুচরো দোকান বন্ধ ছিল। ফলে নতুন করে গ্রাহকও হতে পারেননি খুব বেশি লোক। গত বছরের চতুর্থ ত্রৈমাসিকে ভোডাফোন আইডিয়ার গ্রাহক সংখ্যা ছিল ২৯ কোটি ১১ লক্ষ। চলতি আর্থিক বছরের প্রথম ত্রৈমাসিকে তা কমে হয়েছে ২৭ কোটি ৯৮ লক্ষ।
মোবাইল সংস্থার লাভ মাপা হয় অ্যাভারেজ রেভিনিউ পার ইউজার (এআরপিইউ) দিয়ে। গত ত্রৈমাসিকে ভোডাফোন আইডিয়ার এআরপিইউ নেমে এসেছে মাসে ১১৪ টাকায়। এক বছর আগে তার পরিমাণ ছিল মাসিক ১২১ টাকা। গত ত্রৈমাসিকে কোম্পানির মোট ঋণ ছিল ১ লক্ষ ১৮ হাজার ৯৪০ টাকা। তার মধ্যে স্পেকট্রাম ব্যবহারের জন্য সরকারকে দিতে হবে ৯২ হাজার ২৭০ কোটি টাকা।
এদিন ভোডাফোনের ক্ষতির কথা ঘোষণা করার আগে বম্বে স্টক এক্সচেঞ্জে তার শেয়ারের দাম ছিল আট টাকা ২৫ পয়সা। তার দাম বৃহস্পতিবার বেড়েছিল ০.৭২ শতাংশ।
গত জুনমাসে ভোডাফোন আইডিয়া সুপ্রিম কোর্টে জানায়, কর্মীদের বেতন দেওয়ার মতো টাকা তাদের হাতে নেই। তাদের বক্তব্য ছিল, সংস্থার বকেয়ার পরিমাণ বিশাল এবং কী ভাবে তা মেটানো হবে তা জানিয়ে দ্রুত মধ্যে হলফনামা জমা দিতেও সক্ষম নয় তারা। কোনও ব্যাঙ্ক গ্যারান্টি দিতেও অক্ষমতা প্রকাশ করে ভোডাফোন। এজিআর বাবদ সরকারি হিসাব অনুযায়ী, ভোডাফোন আইডিয়ার বকেয়ার পরিমাণ ৫৩ হাজার কোটি টাকা। এর মধ্যে রয়েছে সুদ এবং নির্দিষ্ট নিয়ম মেনে বকেয়া না মেটানোর জন্য জরিমানার অর্থও।