দ্য ওয়াল ব্যুরো: সারা শরীর কাপড়ে মোড়া। তার উপর ফুল দিয়ে সাজানো। তড়িঘড়ি শেষকৃত্য সেরে ফেলতে চেয়েছিল অভিযুক্তরা। কিন্তু শেষরক্ষা হয়নি। খবর পেয়ে ঘটনাস্থলে পৌঁছে যায় পুলিশ। কাপড় সরাতেই বেরিয়ে পড়ে ক্ষতবিক্ষত, ঝলসানো এক মহিলার মৃতদেহ। সারা শরীরের জায়গায় জায়গায় দগদগে ক্ষত, পোড়া দাগ। মাথার চুল, ভুরু চেঁচে ফেলা হয়েছে। ক্ষতে রক্ত শুকিয়ে জমাট বেঁধে রয়েছে।
নৃশংস এই খুনের ঘটনা ভাইজ্যাগে। মৃতা ২২ বছরের এক তরুণী। খুনের অভিযোগে ৬ জনকে গ্রেফতার করেছে পুলিশ। ধৃতদের মধ্যে পাঁচজন মহিলা।
পুলিশ জানিয়েছে, মূল অভিযুক্ত গুতালা বসন্ত ওই তরুণীরই বাড়িওয়ালি। তিনি জোর করেই ওই তরুণীকে দেহব্যবসায় নামতে বাধ্য করেন। পুলিশের ধারণা, আরও অনেক তরুণীকে দিয়েই দেহব্যবসার কাজ করান বসন্ত। তরুণীর সঙ্গে ঝামেলার শুরু টাকাপয়সার বখরা নিয়ে। গোপন সূত্রে পুলিশ খবর পেয়েছে, টাকাপয়সার ভাগ নিয়ে দু’মধ্যে অশান্তি চরমে ওঠে। প্রায়ই নাকি তরুণীকে মারধর করতেন বসন্ত। মেরে ফেলার হুমকি দিতেন।
খুনের ঘটনায় বসন্তের পরিবারের লোকজনও জড়িত বলে প্রাথমিক তদন্তে জেনেছে পুলিশ। বসন্ত ছাড়াও গ্রেফতার করা হয়েছে তাঁর বোন মঞ্জু ওরফে সন্ধ্যা, মঞ্জুর স্বামী সঞ্জয়, বসন্তের মা ধ্যানলক্ষ্মী, মামী কান্তাভেনী ও গীতা ওরফে কুমারী নামে এক মহিলাকে। এই ছ’জনকে জেরা করছে পুলিশ।
অভিযুক্তদের থেকে পুলিশ জেনেছে কী ভয়ঙ্করভাবে খুন করা হয়েছে ওই তরুণীকে। প্রথমে তাকে টাকা মেটানোর জন্য নানাভাবে হুমকি দেওয়া হয়। পরে তার দু’হাত, পা বেঁধে ফেলে মাথা ন্যাড়া করে দেয় বসন্ত ও তার আত্মীয়রা। চেঁচে ফেলা হয় ভুরু। ক্রমাগত সিগারেটের ছ্যাঁকা দেওয়া হতে থাকে সারা শরীরে। ফরেন্সিক রিপোর্টে জানা গেছে, কোনও ধাতব বস্তু গরম করে তাই দিয়ে তরুণীর চামড়া ঝলসে দেওয়া হয়। মৃতার শরীরে ৩৩টি দগদগে ক্ষত ছিল। ফরেন্সিক বিশেষজ্ঞরা জানিয়েছেন, তরুণীকে বেশ কয়েকদিন না খাইয়ে রাখা হয়েছিল। জলও দেওয়া হয়নি।
পুলিশ জানিয়েছে, অভিযুক্তদের বিরুদ্ধে ভারতীয় দণ্ডবিধির ৩০২,২০১,৩৪৩,৩২৪,৩২৬,১২০বি ও ৩৪ ধারায় মামলা দায়ের করা হয়েছে। ২০১৫ সালে তরুণীর মা, ভাই ও ঠাকুমাকেও খুন করা হয়েছিল। সেই খুনের কিনারা হয়নি। তদন্ত এখনও চলছে।