দ্য ওয়াল ব্যুরো: প্রাক্তন মিস ওয়ার্ল্ড ঐশ্বর্যা রাইকে নিয়ে করা অভিনেতা বিবেক ওবেরয়ের টুইট নিয়ে এখন চর্চা তুঙ্গে। ওপিনিয়ন পোল, এক্সিট পোল ও ফলাফলের মধ্যের পার্থক্য বোঝাতে নিজের টুইটারে ঐশ্বর্যাকে নিয়ে এমন একটা টুইট শেয়ার করেছেন অভিনেতা, যাকে শুধু নিম্ন মানেরই নয় অত্যন্ত অসম্মানজনক ও কুরুচিকর বলে আওয়াজ তুলেছে নেটিজেনদের একাংশ। সরব বলিউডও। শো-কজ নোটিস পাঠিয়ে বিবেককে ক্ষমা চাইতে বলেছে জাতীয় মহিলা কমিশন। চাপের মুখে, শেষে ক্ষমা চাইতে বাধ্য হলেন অভিনেতা। নিজের শেয়ার করা টুইট ডিলিটও করলেন তড়িঘড়ি।
সোমবার সকালে নিজের টুইটার হ্যান্ডেলে সেই মিম শেয়ার করেছিলেন বিবেক। রাতের মধ্যেই তাঁকে শো-কজ নোটিস ধরায় জাতীয় মহিলা কমিশন। তাদের তরফে বলা হয়, কী ভাবে একজন নাবালিকা ও এক মহিলাকে নিয়ে কুরুচিকর পোস্ট শেয়ার করতে পারেন অভিনেতা। ভোটের ফলের সঙ্গে একজন মহিলার জীবনের তুলনা করাটা অত্যন্ত নিম্নরুচির পরিচয়। তার জন্য জবাবদিহি করতে হবে বিবেককে।
মঙ্গলবার সকালেই বিতর্কিত সেই টুইটটি নিজের অ্যাকাউন্ট থেকে ডিলিট করে বিবেক বলেছেন, ‘‘একজন মহিলারও যদি মনে হয় এই টুইটটি অসম্মানজনক, তাহলে আমি দুঃখিত। আমি ক্ষমা চাইছি। ’’ সেই সঙ্গেই অভিনেতার দাবি, ‘‘কিছু জিনিস একজনের কাছে শুধু মজার বিষয় হলেও অন্যদের কাছে তা নাও হতে পারে। গত ১০ বছর ধরে অভাবী, দারিদ্র্যসীমার নীচে থাকা প্রায় ২০০০ নাবালিকার জন্য কাজ করেছি। মহিলা ও নাবালিকাদের অসম্মান করার কথা আমি ভাবতেও’ পারি না।’’
সোমবার টুইটে যে মিম বিবেক শেয়ার করেছেন, তা ইতিমধ্যেই ভাইরাল সোশ্যাল মিডিয়ায়। যেখানে পরপর তিনটি ছবিতে ঐশ্বর্যা রাইয়ের সঙ্গে ফ্রেমবন্দি হয়েছেন বি-টাউনের তিন তারকা। সলমন খান, বিবেক ওবেরয় এবং অভিষেক বচ্চন। সলমনের সঙ্গে ঐশ্বর্যার ছবিতে লেখা হয়েছে ওপিনিয়ন পোল। বিবেকের সঙ্গে ঐশ্বর্যার ছবির ট্যাগ এক্সিট পোল। সবশেষে ছোট্ট আরাধ্যা এবং অভিষেকের সঙ্গে ঐশ্বর্যার ছবিতে লেখা রেজাল্ট। আর এই মিমটিই নিজের টুইটার হ্যান্ডেলে শেয়ার করে হাসির ইমোজি দিয়ে বিবেক লিখেছেন, “Haha! creative! No politics here….just life”। যার বাংলায় তর্জমা করলে দাঁড়ায়, “ক্রিয়েটিভ। এতে কোনও রাজনীতি নেই। এটাই জীবন।”
৯০-এর দশকে প্রাক্তন বিশ্বসুন্দরী ঐশ্বর্যা রাইয়ের সঙ্গে বিবেক ওবেরয়ের সম্পর্কের কথা কারও অজানা নয়। সে সময় বলিউডের ভাইজান সলমনের হাত ছেড়ে বিবেককেই সঙ্গী হিসেবে বেছে নিয়েছিলেন অ্যাশ। এই নিয়ে সলমনের কাছে সবার সামনে থাপ্পড় পর্যন্ত খেতে হয়েছিল বিবেককে। তবে পরবর্তীকালে ঐশ্বর্যার সঙ্গে বিবেকের সম্পর্ক টেকেনি। তারপর অবশ্য সময়ের সঙ্গে সঙ্গে নতুন সম্পর্ক হয় অভিনেত্রীর। এবং কার্যত রাতারাতিই ঐশ্বর্যা বনে যান বচ্চন খানদানের বউ। এই মুহূর্তে মেয়ে আরাধ্যাকে নিয়ে হ্যাপি ফ্যামিলি অভিষেক ও ঐশ্বর্যার।
বিবেকের এই ধরণের কাজের সমালোচনা করেছে বলিউডের একাংশও। কেউ বলেছেন, মোদীর বায়োপিকে অভিনয় করার পর থেকে মাঝেমধ্যেই সোশ্যাল মিডিয়ায় বিভিন্ন বিষয় নিয়ে মন্তব্য করতে দেখা যাচ্ছে বিবেককে। হয়তো লাইমলাইটে থাকার জন্যই এমন কাজ করছেন অভিনেতা, এমনও ধারণা অনেকের।