
শেষ আপডেট: 30 October 2023 18:13
দ্য ওয়াল ব্যুরো: বিশ্বভারতীতে হেরিটেজ ঘোষণা সংক্রান্ত ফলকে কবিগুরু রবীন্দ্রনাথ ঠাকুরের নাম না থাকা নিয়ে এবার কড়া অবস্থান নিলেন মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়। সোমবার নবান্ন সূত্রে জানা গিয়েছে, মুখ্যমন্ত্রী চান ওই শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের বিষয়ে হস্তক্ষেপ করুক কেন্দ্রীয় সরকার।
মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়কে উদ্বৃত করে নবান্নের এক কর্তা বলেন, 'মুখ্যমন্ত্রীর বক্তব্য হল, ইউনেস্কো বিশ্বভারতীকে হেরিটেজ স্বীকৃতি দিয়েছে। কিন্তু আজকের স্থানীয় প্রধান ব্যক্তি স্মারক টুকরোয় নিজের নাম খোদাই করেছেন। ঈশ্বরের দোহাই, কবি যে প্রতিষ্ঠানটি এত কষ্ট করে প্রতিষ্ঠা করেছিলেন সেখানে রবীন্দ্রনাথ ঠাকুরের নাম না থাকা অপমানজনক ফলকগুলি সরিয়ে নেওয়া হোক।'
স্থানীয় প্রধান ব্যক্তি বলতে মুখ্যমন্ত্রী বিশ্বভারতীর উপাচার্যকে বুঝিয়েছেন, ব্যাখ্যা দেন ওই সরকারি কর্তা। তিনি আরও বলেন, মুখ্যমন্ত্রী মনে করেন কেন্দ্রীয় সরকারের উচিত বিষয়টিতে হস্তক্ষেপ করা।
শান্তিনিকেতনের হেরিটেজ তকমার ফলকে নেই রবীন্দ্রনাথের নাম, এই নিয়ে উত্তাল রাজ্য রাজনীতি। কয়েকদিন আগে সেই ফলকে রবীন্দ্রনাথের নাম খোদাইয়ের জন্য সময়ও বেঁধে দিয়েছিলেন মুখ্যমন্ত্রী। তাঁর নির্দেশে এই ইস্যুতে আন্দোলন চালিয়ে যাচ্ছে তৃণমূল কংগ্রেস।
এখনও কিন্তু সেই 'ভুল' সংশোধন করেনি বিশ্বভারতী কর্তৃপক্ষ। উল্টে রবিবার মুখ্যমন্ত্রীকে কড়া ভাষায় চিঠি লেখেন উপাচার্য বিদ্যুৎ চক্রবর্তী। বিশ্বভারতীকে ইউনেস্কো হেরিটেজ ঘোষণার পর সেখানে রাজ্যের পূর্ত দফতরের হাতে থাকা একটি রাস্তা ফেরত চেয়ে মুখ্যমন্ত্রীকে চিঠি দেন উপাচার্য। বিদ্যুৎবাবুর অভিযোগ মুখ্যমন্ত্রী তাঁর চিঠির জবাব দিচ্ছেন না।
চিঠির উত্তর না পাওয়ায় বেলাগাম ভাষায় মুখ্যমন্ত্রীকে উদ্দেশ্য করে উপাচার্য লেখেন ‘আপনার মন্ত্রী-স্তাবকরা জেল খাটছেন।' মুখ্যমন্ত্রী কান দিয়ে দেখেন বলেও মন্তব্য করেন উপাচার্য।
উপাসনা গৃহের সামনের রাস্তা, যাকে কেন্দ্র করে পূর্ত দফতর ও বিশ্বভারতীর মধ্যে বেশ কিছুদিন ধরেই টানাপড়েন চলছে। সেই রাস্তাটি বিশ্বভারতীকে ফিরিয়ে দেওয়ার আর্জি জানিয়ে মুখ্যমন্ত্রীকে পাঠানো চিঠিতে উপাচার্য লিখেছেন, 'আপনি এখনও কান দিয়ে দেখেন'।
শুধু এটুকুই নয়, ওই চিঠিতে বিদ্যুৎ চক্রবর্তী কোনও প্রশাসনিক শিষ্টাচারের মধ্যে না গিয়ে রীতিমত বিরোধী রাজনীতিবিদের ঢঙে লিখেছেন, 'আপনার দুই সিনিয়র মন্ত্রী জেলে আছেন। আপনার বিশ্বস্ত সহযোগীরা তিহাড় বন্দি। আপনার সরকারের সময়ের উপাচার্য জেলে। তৃণমূল সরকার কয়লা, গরু, রেশন, চোরাচালান কেলেঙ্কারিতে জর্জরিত।' উপাচার্যের মুখ্যমন্ত্রীকে লেখা চিঠির ভাষা নিয়ে অনেকেই বিস্মিত।
গত ২৭ সেপ্টেম্বর বিশ্বকবি রবীন্দ্রনাথ ঠাকুরের শান্তিনিকেতনকে ওয়ার্ল্ড হেরিটেজ তকমা দেয় ইউনেস্কো। সেই সংক্রান্ত একটি শ্বেত পাথরের ফলক বসিয়েছে বিশ্বভারতী কর্তৃপক্ষ। তাতে আচার্য হিসাবে প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদী ও উপাচার্য বিদ্যুৎ চক্রবর্তীর নাম থাকলেও ব্রাত্য স্বয়ং রবীন্দ্রনাথ। যা নিয়ে বাংলার সর্বত্র নিন্দার ঝড় বইছে। এই ঘটনার প্রতিবাদে আন্দোলনের ডাক দেন মুখ্যমন্ত্রী।