
শেষ আপডেট: 11 December 2023 18:22
দ্য ওয়াল ব্যুরো, বীরভূম: শান্তিনিকেতনের পূর্বপল্লির মাঠে যে এবারেও পৌষমেলা হচ্ছে না, তা আগেই জানিয়ে দিয়েছিল বিশ্বভারতী বিশ্ববিদ্যালয় কর্তৃপক্ষ এবং শান্তিনিকেতন ট্রাস্ট। শেষ পর্যন্ত পৌষমেলার জন্য বিকল্প জায়গা হিসাবে ডাক বাংলো মাঠকে বেছে নেওয়ার সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে।
মেলা না হওয়া নিয়ে সাধারণ বাসিন্দা ও ব্যবসায়ীদের মধ্যে ক্ষোভ বাড়ছিল। এরই মধ্যে জেলা প্রশাসন জানায়, বোলপুরের ডাকবাংলো মাঠে পৌষ মেলা আয়োজন করবে জেলা প্রশাসন। তারপরেই বোলপুরের মহকুমা প্রশাসনকে চিঠি দিয়েছে বিশ্বভারতী কর্তৃপক্ষ। যেখানে বেশ কিছু শর্ত ও প্রশ্ন তুলে ধরা হয়েছে।
* 'গ্রিন ট্রাইবুনাল' বিশ্বভারতীর প্রাঙ্গণে পৌষমেলার আয়োজন নিয়ে যে শর্তগুলি বেঁধে দিয়েছে তা মানতে হবে।
* বিশ্বভারতী এবং শান্তিনিকেতন ট্রাস্ট যেহেতু এই বছর পৌষমেলার আয়োজন করছে না, তাই ওই প্রাঙ্গণে বোলপুর মহকুমা প্রশাসন মেলার আয়োজন করলে, যদি কোনও আইনি জটিলতা তৈরি হয় তাহলে জেলা প্রশাসনকে সমস্ত দায়িত্ব নিতে হবে।
* 'গ্রিন ট্রাইবুনাল'-এর নির্দেশ মতো বিশ্বভারতীর নিয়ম অনুযায়ী মেলা হবে ৪ দিন। ৫ দিনের মাথায় মেলার মাঠ সম্পূর্ণভাবে পরিষ্কার করে ফেলতে হবে।
* মেলা সংক্রান্ত যাবতীয় ব্যয় বোলপুর মহকুমা প্রশাসনকে বহন করতে হবে।
* মেলা প্রাঙ্গণে মেলা করার জন্য বিশ্বভারতীর অনুমতি ছাড়া, মেলার জন্য প্রয়োজনীয় বাকি যাবতীয় অনুমতি বোলপুর মহকুমা প্রশাসনকে নিজেদের উদ্যোগে নিশ্চিত করতে হবে।
* মেলা চলাকালীন বিশ্বভারতীর ছাত্র-ছাত্রী, অধ্যাপক-কর্মীদের সামগ্রিক নিরাপত্তা ও পঠনপাঠনের পরিবেশ প্রশাসনের পক্ষ থেকে বজায় রাখতে হবে।
* ২০১৯ সালে পৌষমেলার শেষে নির্ধারিত সময়ে মাঠ ফাঁকা করতে গিয়ে বিশ্বভারতীর কর্মীদের নানা অপ্রীতিকর পরিস্থিতির সম্মুখীন হতে হয়। যা শেষ পর্যন্ত শান্তিনিকেতন থানায় কয়েকটি ফৌজদারি মামলা হিসাবে নথিভুক্ত হয়েছিল। এমন ঘটনার পুনরাবৃত্তি চাইছে না বিশ্বভারতী।
কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে, বোলপুর মহকুমা প্রশাসন এই সমস্ত বিষয়গুলি সুনিশ্চিত করতে পারলে মাঠ দিতে আপত্তি নেই বিশ্বভারতীর। এদিকে এই বিষয়ে রবিবার জেলা প্রশাসনের তরফে বিশ্বভারতীকে পাল্টা চিঠি দেওয়া হয়েছিল। যেখানে আদালতের বিষয়গুলিতে জেলা প্রশাসনের কিছু করার নেই বলেই স্পষ্ট উল্লেখ রয়েছে।