দ্য ওয়াল ব্যুরো: বিশাখাপত্তনম গ্যাস দুর্ঘটনায় জোরকদমে উদ্ধার কাজ চালাচ্ছে দমকল ও বিপর্যয় মোকাবিলা দল। শ্রমিকদের উদ্ধার করে নিয়ে যাওয়া হচ্ছে হাসপাতালে। মৃতের সংখ্যা এর মধ্যেই পৌঁছেছে ৮-এ, অসুস্থ অবস্থায় ধুঁকছেন হাজারেরও বেশি। রাজ্যের মুখ্যমন্ত্রী ওয়াই এস জগন্মোহন রেড্ডি বলেন, "মানুষের প্রাণ বাঁচাতে যা করার করতেই হবে।"
মুখ্যমন্ত্রী জানান, সকালে গ্যাস লিকের খবর ফ্যাক্টরিতে পৌঁছনো মাত্র গোটা ফ্যাক্টরির সমস্ত কাজ বন্ধ করে লকডাউন করে দেওয়া হয় কারখানা। পুলিশ-প্রশাসনকে জানানো হয়, ক্ষতিকর গ্যাসটি সঙ্গে সঙ্গে লিকুইডে পরিণত করা হয়, যা বাইরে ছড়িয়ে ক্ষতি বাড়াতে পারবে না। কিন্তু ততক্ষণে যা হওয়ার হয়ে গেছে। যেটুকু গ্যাস লিক হয়েছে, তাতেই আশপাশের অসংখ্য মানুষ ক্ষতিগ্রস্ত।

বৃহস্পতিবার ভোর সাড়ে ৩টে নাগাদ বেঙ্কটপুরমের এলজি পলিমার্স ইন্ডিয়া প্রাইভেট লিমিটেড নামক ওই বহুজাতিক রাসায়নিক কারখানা থেকে গ্যাস লিক শুরু হয়। জানা গেছে, সে সময়ে কারখানায় ছিলেন শুধু নিরাপত্তারক্ষীরা। আচমকা গ্যাস লিক হওয়ায় অচৈতন্য হয়ে পড়েন তাঁরা। ফলে কেউ কিছু জানতেই পারেননি, গ্যাস ছড়িয়ে পড়তে থাকে লোকালয়ে। সাড়ে ৪টের দিকে আশপাশের এলাকার বাসিন্দাদের চোখ জ্বালা করতে থাকে ও শ্বাসকষ্ট শুরু হতে থাকে। অস্বস্তিতে ঘুম ভেঙে যায় অনেকের। তখন খবর যায় পুলিশে। জরুরি ভিত্তিতে উদ্ধারের কাজে নামে জাতীয় বিপর্যয় মোকাবিলা বাহিনী।
ইতিমধ্যেই প্রাথমিক এফআইআর দায়ের হয়েছে পুলিশে। বিশাখাপত্তনমের পুলিশ কমিশনার আরকে মীনা জানিয়েছেন, আশপাশের গ্রামগুলি থেকে সকলকে উদ্ধার করা হয়েছে। উদ্ধারকর্মীরা জানিয়েছেন, কারখানার এক থেকে দেড় কিলোমিটার পরিধির মধ্যে যা ক্ষতি হওয়ার হয়েছে। যদিও গ্যাসের গন্ধ পাওয়া গেছে আড়াই কিলোমিটার দূর পর্যন্ত, কিন্তু মানুষের প্রাণের ক্ষতি অত দূর পর্যন্ত হয়নি।

জগন্মোহন রেড্ডি আরও জানান, ওই কেমিক্যাল প্লান্টের দায়িত্বে থাকা কর্তৃপক্ষকে এই ঘটনার দায় নিতে হবে। সরকারকে জবাব দিতে হবে, কী করে এই ঘটনা ঘটল। "কোন কোন নিয়ম মানা হয়েছে আর কোন কোন নিয়ম হয়নি, তা আমাদের এসে বলতে হবে। পুলিশও তদন্ত করছে গোটা ঘটনার। এই গাফিলতির দায় কার, তা খতিয়ে দেখা হবে। তার পরেই কর্তৃপক্ষের বিরুদ্ধে যথাযথ ক্রিমিনাল অ্যাকশন নেওয়া হবে। কাউকে ছাড়া হবে না, কোনও কিছুকে রেয়াত করা হবে না।"-- বলেন জগন্মোহন রেড্ডি।
ঘটনার খবর পাওয়ার সঙ্গে সঙ্গে বিশাখাপত্তনম রওনা দেন জগন্মোহন রেড্ডি। তাঁর দফতর থেকে এমনটাই জানানো হয়েছে। সেই সঙ্গে এ-ও বলা হয়েছে, এই ঘটনা সামাল দিতে যা করা দরকার, তার সবটাই করবেন বলে নিশ্চিত করেছেন তিনি। জানা গেছে, গ্যাসের কারণে অসুস্থ হয়ে পড়া মানুষদের দেখতে কিং জর্জ হাসপাতালেও যান রেড্ডি। গোটা ঘটনা নিয়ে প্রতি মুহূর্তে প্রশাসনিক কর্মীদের নির্দেশ দিচ্ছেন তিনি। সবরকম সহায়তার আশ্বাসও দিয়েছেন ইতিমধ্যেই।

পরিস্থিতি নিয়ে পর্যালোচনা করতে জাতীয় বিপর্যয় মোকাবিলা দলের কর্তাদের সঙ্গে বিশেষ বৈঠকও করেছেন প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদী। সেখানে ছিলেন স্বরাষ্ট্র মন্ত্রী অমিত শাহ এবং প্রতিরক্ষা মন্ত্রী রাজনাথ সিংহও।