
শেষ আপডেট: 24 June 2020 18:30
ভাইরোলজিস্টরা বলছেন, মানুষের জিনের খবরাখবর অর্থাৎ জেনেটিক সিগন্যাল চুরি করে নিজেদের প্রোটিন তৈরি করে ভাইরাস। এমন প্রোটিনের খোঁজ আগে মেলেনি। ভাইরোলজিস্টরা এই প্রোটিনের নাম দিয়েছেন ইউএফও (UFO) অর্থাৎ আপস্ট্রিম ফ্র্যাঙ্কেনস্টাইন ওপেন রিডিং ফ্রেম। এই ইউএফও প্রোটিন তৈরি হয় কিছুটা ভাইরাল জিনোম ও বাকিটা মানুষের জিন দিয়ে। ভাইরাল জিনোম সিকুয়েন্সের খামতি পূরণের জন্য মানুষের জিন জুড়ে নিয়ে হাইব্রিড জিন তৈরি করে ভাইরাস।
মাউন্ট সিনাইয়ের মাইক্রোবায়োলজিস্ট ইভান মারাজি বলেছেন, আএনএ ভাইরাস নিজেদের প্রোটিন তৈরি করতে পারে না। মানুষের কোষে এন্ট্রি নেওয়া এবং কোষের ভেতরে সংখ্যায় বাড়তে হলে তাদের হোস্ট সেল বা বাহক কোষের প্রোটিনের সাহায্য নিতেই হয়। এখন মানুষের দেহকোষ তো আর ভাইরাসের জন্য রাস্তা খুলে রাখে না, সব কোষেরই রক্ষী থাকে যারা ভাইরাস, ব্যাকটেরিয়া বা প্যাথোজেন দেখলেই তেড়েফুঁড়ে গিয়ে তাদের তাড়িয়ে দেয়। গবেষকরা বলছেন, এই কারণেই ভাইরাস সবচেয়ে আগে বাহক কোষের রিসেপটর খুঁজে নিয়েছে
যারা চুপিচুপি বেআইনিভাবে তাদের সাহায্য করবে। এই ACE-2 রিসেপটরের সাহায্যে কোষে কোনও রকমে ঢুকে পড়ে তারা। এরপর সংক্রমণ ছড়াতে গেলে বা মানুষের শরীরে টিকে থাকতে হলে আরও জোরালো প্রোটিনের দরকার হয়। এই প্রোটিন তারা তৈরি করে মানুষের জিনের তথ্য চুরি করেই।
কীভাবে? গবেষকরা বলছেন, আরএনএ ভাইরাস এইসব কায়দাকানুন ভালই জানে। তারা দেহকোষের মেসেঞ্জার আরএনএ (mRNA)-এর দিকে নজর রাখা শুরু করে। এই মেসেঞ্জার আরএনএ-র মধ্যে কোষের যাবতীয় গোপন খবর থাকে। এমআরএনএ-র একটা অংশ তারা কেটে নেয়, বিজ্ঞানের ভাষায় যাকে বলে ‘ক্যাপ-স্ন্যাচিং’ (Cap-Snatching) । মেসেঞ্জার আরএনএ-র অংশ হাতে চলে আসা মানেই জিনের গোপন খবরও মুঠোয় চলে আসা। এরপর নিজেদের ভাইরাল সিকুয়েন্সকে ওই অংশের সঙ্গে জুড়ে নিয়ে হাইব্রিড জিন তৈরি করে ফেলে ভাইরাস।
এখানেই কাজ শেষ নয়। কারণ এ ভাইরাস অল্পে খুশি নয়। এরপর হোস্ট জিন সঙ্গে নিয়ে ভাইরাস হাঁকডাক করতে শুরু করে। মানুষের কোষে নিজেদের সিগন্যাল পাঠায়। একে বলে ‘স্টার্ট স্ন্যাচিং’ (Start Snatching) । এভাবে হাঁকাহাঁকি করতে করতেই নতুন হাইব্রিড-জিনের ট্রান্সলেট করে সংখ্যায় বাড়তে থাকে ভাইরাস। নতুন জিন বা নভেল জিন হয় আগের থেকেও বেশি শক্তিশালী। গবেষকরা বলছেন, ভাইরাসের ওই ইউএফও প্রোটিনকে যদি পাকড়াও করে ফেলা যায় তাহলেই ভাইরাসকে রোখার উপায় মিলবে। ভ্যাকসিন গবেষণায় যা বিশেষভাবে কাজে লাগবে। এ ভাইরাসকে থামাতে গেলে এখন চোরের উপর বাটপারি করার কথাই ভাবছেন গবেষকরা।