দ্য ওয়াল ব্যুরো : রাজধানী দিল্লির বাসিন্দাদের প্রতি চারজনের মধ্যে একজন আক্রান্ত হয়েছেন করোনায়। শহরের প্রায় প্রতিটি বাড়িতেই কেউ না কেউ ওই রোগে আক্রান্ত হয়েছেন। বুধবার রাজধানীর সেরো সার্ভে রিপোর্ট দেখে এমনই মন্তব্য করেছে দিল্লি হাইকোর্ট।
এই নিয়ে দিল্লিতে চতুর্থ দফায় সেরো সার্ভে করা হল। বুধবার তার রিপোর্ট পেশ করা হয় দিল্লি হাইকোর্টের বিচারপতি হিমা কোহলি ও বিচারপতি সুব্রমনিয়াম প্রসাদের বেঞ্চে। শহরের মধ্যভাগে ওই সার্ভে করা হয়েছিল সেপ্টেম্বরে। এখন সেখানে সংক্রমণ বেড়েছে ডবলের বেশি। সর্বশেষ সমীক্ষায় দেখা গিয়েছে, শহরের ২৫ শতাংশ বাসিন্দার রক্তে তৈরি হয়েছে অ্যান্টিবডি।
দুই বিচারপতির বেঞ্চ মন্তব্য করে, "দিল্লির প্রতিটি বাড়িকেই স্পর্শ করেছে করোনা।" বিচারপতিরা জানতে চান, এই পরিস্থিতিতে দিল্লি সরকার বিধিনিষেধ শিথিল করছে কেন? অন্যান্য অনেক রাজ্যেই এখনও নিষেধাজ্ঞা বহাল আছে।
অক্টোবরের ১৫ থেকে ২১ তারিখের মধ্যে দিল্লিতে করোনা সংক্রমণ নিয়ে সমীক্ষা করা হয়। মোট ১৫ হাজার ১৫ জনের ওপরে পরীক্ষা চালানো হয়। তাতে দেখা যায়, মহিলাদের ২৬.১ শতাংশ সংক্রমিত হয়েছেন। পুরুষদের মধ্যে সংক্রমিত হয়েছেন ২৫.০৬ শতাংশ। যাঁদের বয়স ৫০ বছরের বেশি, তাঁদের সংক্রমণের হার ২৯.৮৩ শতাংশ।
বিশেষজ্ঞদের মতে, দিল্লিতে এখনও কোভিড ১৯-এর সংক্রমণ বাড়ছে। এখনও তা শীর্ষে পৌছয়নি। শীর্ষে পৌছনোর পরে সংক্রমণের সংখ্যা স্থিতিশীল হলে তখনই ফের সেরো সার্ভে করা উচিত।
সাধারণভাবে করোনা সক্রিয় রোগীর সংখ্যা কমছে দেশে। এক সময় কোভিড অ্যাকটিভ রোগীর সংখ্যায় বিশ্বের দু’নম্বর স্থানে চলে গিয়েছিল ভারত। এখন সংক্রমণের হার কমায় ফের পাঁচ নম্বরে নেমে এসেছে। অ্যাকটিভ রোগীর সংখ্যা চার লাখে নেমেছে। অ্যাকটিভ কেস পাঁচ শতাংশে থেমেছে। কেন্দ্রীয় স্বাস্থ্যমন্ত্রকের আজকের বুলেটিনে ইতিবাচক দিক এটাই।
দৈনিক সংক্রমণ ওঠানামা করছে। সেপ্টেম্বরে দৈনিক সংক্রমণ ৯০ হাজার ছাড়িয়েছিল। অক্টোবরের শেষ থেকে সেটাই ৫০ হাজারে নেমেছে। গত কয়েকদিনে নতুন সংক্রমণ ৪০ থেকে ৫০ হাজারের মধ্যে ঘোরাফেরা করছে। আজকের বুলেটিনে দেখা গেছে গত ২৪ ঘণ্টায় করোনা আক্রান্ত রোগীর সংখ্যা ৪৭ হাজার ৯০৫ জন। দেশে এখন কোভিড পজিটিভ রোগী ৮৬ লাখের কাছাকাছি।
করোনায় মৃত্যুহার আরও কমেছে। কেন্দ্রের হিসেবে কোভিড ডেথ রেট ১.৪৮ শতাংশ। সংক্রমণে একদিনে মৃত্যু হয়েছে ৫৫০ জনের, এই সংখ্যাও গত কয়েকদিনের তুলনায় কম। বরং সুস্থতার হার বেড়েছে দেশে। ৮০ লাখের বেশি কোভিড রোগী সংক্রমণ সারিয়ে উঠেছেন। রিকভারি রেটও আশা জাগাচ্ছে। আজ অবধি সুস্থতার হার প্রায় ৯৩ শতাংশ।