
শেষ আপডেট: 14 June 2020 18:30
শুরুটা হয়েছিল মার্চেই। ধারাভি বস্তির বছর ছাপান্নর এক প্রৌঢ়ের মৃত্যু হয়েছিল ভাইরাসের সংক্রমণ। সেই প্রথম। তিনি ছিলেন সাফাইকর্মী। ওরলির বাসিন্দা হলেও ধারাভিতে ছিল পোস্টিং। এরপরে ওই বস্তি এলাকারই এক ডাক্তারের শরীরে ধরা পড়ে করোনা। ধীরে ধীরে সংক্রমণ ছড়িয়ে পড়তে শুরু করে। অজস্র সরু গলি, ঘেঁষাঘেঁষি খুপরি ঘরগুলিতে গাদাগাদি করে মানুষের বাস, কমন টয়লেট, সব মিলিয়ে সংক্রমণ ঠেকানো অসম্ভব ব্যাপার হয়ে দাঁড়ায়। শুধু তাই নয়, মুম্বই স্বাস্থ্য দফতর জানায় ওই বস্তি এলাকাতে রয়েছেন অনেক টিবি রোগী, প্রবীণ ব্যক্তি যাদের ক্রনিক রোগ রয়েছে। তাছাড়া ডেঙ্গি, ম্যালেরিয়ার প্রকোপও বেশি বস্তিতে। কাজেই করোনার মতো ছোঁয়াচে সংক্রমণ আটকানো দুরূপ ব্যাপার হয়ে ওঠে।
বৃহন্মুম্বই পুরনিগমের (বিএমসি) রিপোর্ট বলছে এপ্রিলেই ধারাভিতে করোনা আক্রান্তের সংখ্যা প্রায় দেড়শোর কাছাকাছি পৌঁছে যায়। ঘিঞ্জি বস্তি এলাকায় শারীরিক দূরত্ববিধি মেনে চলাও সম্ভব ছিল না। এর পরেই ধারাভিতে করোনা ঠেকাতে কোমর বেঁধে ধে নামেন স্বাস্থ্য আধিকারিকরা। তৈরি হয় সুনির্দিষ্ট প্রোটোকল। এপ্রিল থেকে অন্তত ৪৮ হাজার পরিবারের থার্মাল স্ক্রিনিং করা হয়। ঘরে ঘরে গিয়ে লোকজনের শরীরের তাপমাত্রা ও অক্সিজেনে লেভেল মাপা হয়। সামান্য সন্দেহ হলেই কোয়ারেন্টাইনে পাঠানোর ব্যবস্থা করা হয়। স্বাস্থ্য আধিকারিকরা বলছেন এখনও অবধি সাত লাখের বেশি বস্তিবাসীর স্ক্রিনিং করা হয়েছে। বস্তি এলাকাতেই তৈরি হয়েছে অস্থায়ী ফিভার ক্লিনিক। প্রায় প্রতিদিন লোকজনের স্বাস্থ্য পরীক্ষার বিশেষ ব্যবস্থা করা হয়েছে। প্রায় সাড়ে ৩৫০ স্থানীয় ডাক্তার ও স্বাস্থ্যকর্মীকে এই কাজে লাগানো হয়েছে।
বিএমসি-র জি নর্থ ওয়ার্ডের সহকারী মিউনিসিপ্যাল কমিশনার কিরণ দিগভকর বলেছেন, ধারাভিতে এখনও অবধি ১ হাজার ৯২৪ জন করোনা আক্রান্ত হয়েছেন, মৃত্যু হয়েছে ৭১ জনের। মোট আক্রান্তদের ৭০ শতাংশই কোয়ারেন্টাইনে রয়েছেন। এঁদের মধ্যে সুস্থও হয়েছেন অনেকে। মে মাসের শুরুতে যেখানে প্রায় প্রতিদিন গড়ে ৬০ জন করে করোনা পজিটিভ রোগী ধরা পড়ছিল, সেটাই মে-র শেষে গিয়ে গড়ে ২০ জনে দাঁড়ায়। গত এক সপ্তাহে করোনা সংক্রমণে মৃত্যুর ঘটনা ঘটেনি। ধারাভিতেও সংক্রমণ বৃদ্ধির হারও কমেছে বলে দাবি করেছেন তিনি।
বিএমসি-র তথ্য বলছে, ধারাভিতে এখন কোভিড সংক্রমণ বৃদ্ধির হার দিনে ১.৫৭%, যেখানে মুম্বইতে এই বৃদ্ধির হার আজকের হিসেবে ৩ শতাংশের কিছু বেশি। ডাবলিং রেট অর্থাৎ আক্রান্তের সংখ্যা দ্বিগুন হওয়ার সময়ও বেড়েছে ধারাভিতে। আগে কম দিনের মধ্যে বেশি সংখ্যক করোনা পজিটিভ রোগীর খোঁজ মিলছিল, এখন সেই বৃদ্ধি হচ্ছে অনেক বেশি দিনে। মুম্বইতে করোনার ডাবলিং রেট যেখানে ২২, ধারাভিতে ডাবলিং রেট ৪৪
স্বাস্থ্য আধিকারিকরা বলছে, ধারাভিতে সুস্থতার হারও বেশি। প্রায় ৫০ শতাংশ। অন্তত হাজার দুয়েক প্রবীণ ব্যক্তিকে কোয়ারেন্টাইনে বিশেষ পর্যবেক্ষণে রাখা হয়েছে। তাঁদের অনেকেই সেরে ওঠার পথে।