দ্য ওয়াল ব্যুরো : বৃহস্পতিবারই এনআরসি-র বিরুদ্ধে হিংসাত্মক বিক্ষোভের সাক্ষী থেকেছে উত্তরপ্রদেশের রাজধানী লখনউ। মুখ্যমন্ত্রী যোগী আদিত্যনাথ বলেছেন, দেশবিরোধী ও প্রতিবাদীদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়া হবে। তার পরে শুক্রবার আরও বড় আকারে বিক্ষোভ ছড়িয়ে পড়ল উত্তরপ্রদেশের নানা প্রান্তে। মুজফফরপুর, বাহরাইচ, বুলন্দশহর, গোরক্ষপুর, ফিরোজাবাদ, আলিগড় এবং ফারুখাবাদ জেলা থেকে এদিন বিক্ষোভ ও হিংসার খবর এসেছে।
ওইসব অঞ্চলে পথে নেমেছে হাজার হাজার মানুষ। পুলিশের গাড়ি লক্ষ্য করে পাথর ছোঁড়া হয়েছে। গাড়িতে আগুন লাগানো হয়েছে। পুলিশ লাঠিচার্জ করে ও কাঁদানে গ্যাস ছুঁড়ে জনতাকে ছত্রভঙ্গ করার চেষ্টা করেছে। দু'মিনিটের এক ভিডিওতে দেখা যাচ্ছে, রাজ্যের পূর্ব প্রান্তে গোরক্ষপুরে এক সরু গলির এক প্রান্তে দাঁড়িয়ে আছে জনতা। অন্যপ্রান্তে দাঁড়িয়ে আছে পুলিশ। দাঙ্গাহাঙ্গামা ঠেকানোর জন্য তারা প্রস্তুতি নিয়ে এসেছে। পুলিশের কয়েকজনের হাতে ছিল অ্যাসল্ট রাইফেল। জনতাকে দেখা গিয়েছে, পুলিশের উদ্দেশে চিৎকার করছে। পাথর ছুঁড়ছে। কিছুক্ষণ পরে পুলিশকেও জনতার উদ্দেশে পাথর ছুঁড়তে দেখা গিয়েছে।
রাজ্যের পশ্চিম প্রান্তে বুলন্দশহর জেলায় একটি পুলিশ জিপ পুড়িয়ে দেওয়া হয়েছে। এদিন বেলা তিনটে থেকে জেলায় মোবাইল ও ইন্টারনেট পরিষেবা বন্ধ করে দেওয়া হয়েছে। জেলাশাসক রবীন্দ্র কুমার বলেন, "আইনশৃঙ্খলা ও সাম্প্রদায়িক সম্প্রীতি রক্ষা করার জন্যই ওই পদক্ষেপ নেওয়া হয়েছে।"
https://twitter.com/ANINewsUP/status/1207962391662645250
লখনউতে বৃহস্পতিবার বিক্ষোভে একজনের মৃত্যু হয়েছে। শুক্রবার নমাজের আগে শহরে কড়া নিরাপত্তার ব্যবস্থা করা হয়েছিল। পুলিশ জানিয়েছে, শহরে এদিন দুপুর পর্যন্ত কোনও সংঘর্ষ হয়নি। যদিও শহরের বাজারগুলি এদিনও ছিল শুনশান। ইন্টারনেট পরিষেবাও বন্ধ রাখা হয়েছে।
বৃহস্পতিবার লখনউতে পুলিশ চৌকির সামনে দাঁড় করানো কয়েকটি গাড়িতে আগুন লাগিয়ে দেয় বিক্ষোভকারীরা। পথসভা করার সময় এলোপাথাড়ি ভাবে পাথর ছোড়ার অভিযোগও ওঠে আন্দোলনকারীদের বিরুদ্ধে। পরিস্থিতি সামাল দিতে কাঁদানে গ্যাসের শেল ফাটায় পুলিশ। বিক্ষোভকারীদের ছত্রভঙ্গ করতে চলে ব্যাপক লাঠিচার্জও। সংবাদসংস্থা পিটিআইকে লখনউয়ের স্টেট পুলিশ চিফ ওপি সিং জানিয়েছেন মাদেগঞ্জ এলাকায় ঘটেছে অশান্তি। এই ঘটনায় ইতিমধ্যেই ২০ জনকে হেফাজতে নিয়েছে লখনউ পুলিশ।
অশান্তি ছড়িয়েছে লখনউয়ের অন্যান্য প্রান্তেও। পুলিশের সিনিয়র অফিসাররা জানিয়েছেন, বিশেষ করে লখনউয়ের পুরনো এলাকাগুলোতে বিক্ষোভ বেশি হওয়ার সম্ভাবনা রয়েছে। তাই সেসব এলাকায় মোতায়েন রয়েছে বিশাল পুলিশবাহিনী। চলছে কড়া নজরদারিও। হুসেনগঞ্জের কাছে কনেশওয়ার মোড়ে একপ্রস্থ জনতা-পুলিশ খণ্ডযুদ্ধ হয়েছে। হুসেনবাদ, দালিগঞ্জ এবং তেলি-ওয়ালি এলাকা থেকেই পুলিশ-বিক্ষোভকারীদের ধস্তাধস্তির খবর পাওয়া গিয়েছে। কুশিনগরের কাছে বিক্ষোভকারীদের ছত্রভঙ্গ করতে এলে বিক্ষোভকারীরা পুলিশের উপর পাথর ছুড়েছেন বলেও অভিযোগ উঠেছে।