দ্য ওয়াল ব্যুরো: নাগরিকত্ব সংশোধনী আইনের বিরুদ্ধে বিক্ষোভের আগুন ছড়াচ্ছে গোটা দেশেই। একের পর এক হিংসাত্মক ঘটনার খবর আসছে দিল্লি, উত্তরপ্রদেশের নানা জায়গা থেকে। ক্ষোভের আগুন ছড়িয়েছে কেরলেও। নাগরিকতা আইনের তীব্র প্রতিবাদ জানিয়ে মঙ্গলবার ১২ ঘণ্টার বনধ ডাকা হয়েছিল কেরলে। অবরোধ তুলতে পুলিশ রাস্তায় নামলে বিক্ষোভকারীদের সঙ্গে খণ্ডযুদ্ধ বেধে যায়। পুলিশকে লক্ষ্য করে পাথর ছোড়ে বিক্ষোভকারীরা। পাল্টা লাঠি চালায় পুলিশও। বিকেল পর্যন্ত অন্তত ২৩৩ জন বিক্ষোভকারীকে গ্রেফতার করা হয়েছে।
সকাল ৬টা থেকে অবরোধ শুরু হয় কেরলের রাস্তায় রাস্তায়। টায়ার পুড়িয়ে, স্লোগান তুলে নাগরিকত্ব আইনের প্রতিবাদ জানায় বিক্ষোভকারীরা। পুলিশ জানিয়েছে, ৩০টি সংগঠনের সদস্যেরা রাস্তায় নেমে অশান্তি শুরু করে। পুলিশকে লক্ষ্য করে পাথর ছোড়া হয়। পাল্টা কাঁদানে গ্যাসের শেল ছোড়ে পুলিশ। অগ্নিগর্ভ পরিস্থিতি তৈরি হয়। কোচি, তিরুঅনন্তপুরমে বিক্ষোভ চরম আকার নেয়। কোচি মেট্রো, অ্যাপ ক্যাব, অটো-রিক্সা ছাড়া বাকি সব যানবাহনই বন্ধ ছিল।
পুলিশ জানিয়েছে, এরনাকুলাম, পালাক্কাড়, কোল্লাম, কোঝিকোড়, কান্নুরে রাস্তায় নেমে পাথর ছুড়তে শুরু করে করে বিক্ষোভকারীরা। জখম হন অনেকে। বেলা গড়াতে আটক করা হয় প্রায় ২৩৩ জন বিক্ষোভকারীকে। তাদের মধ্যে এরনাকুলাম থেকে ৫৫ জন, ত্রিচূর থেকে ৫১ জন, ইদ্দুকি থেকে ৩৫ জনকে গ্রেফতার করা হয়েছে।

ক্যাবের বিরুদ্ধে দিল্লির জামিয়া মিলিয়া ইসলামিয়া বিশ্ববিদ্যালয়ে বিক্ষোভ চরম আকার নিয়েছে। অশান্তির ঘটনায় জড়িত থাকার অভিযোগে ১০ জনকে গ্রেফতার করা হয়েছে। দিল্লি পুলিশের ক্রাইম ব্র্যাঞ্চ জানিয়েছে, ধৃতরা সকলেই বিশ্ববিদ্যালয়ের আশপাশের বাসিন্দা। তাদের বাড়ি জামিয়া ও ওখলা এলাকায়। অন্যদিকে, অশান্ত উত্তরপ্রদেশের আলিগড় মুসলিম বিশ্ববিদ্যালয়। বিশ্ববিদ্যালয়ের গেটে জমায়েত হওয়া কয়েকশো প্রতিবাদী ছাত্রের উপর লাঠিচার্জ করে পুলিশ। ছোড়া হয় কাঁদানে গ্যাসও। চালানো হয় জলকামান। শুধু দিল্লি, উত্তরপ্রদেশ নয়। নাগরিকত্ব সংশোধনী বিলের (সিএবি) বিরোধিতায় পথে নেমেছে হায়দরাবাদের মৌলানা আজাদ উর্দু ইউনিভার্সিটি, বেনারস হিন্দু ইউনিভার্সিটি, বম্বে আইআইটি।