.webp)
এডিজি দক্ষিণবঙ্গ সুপ্রতীম সরকার ও এডিজি আইনশৃঙ্খলা মনোজ ভার্মা।
শেষ আপডেট: 28 August 2024 00:13
দ্য ওয়াল ব্যুরো: ছাত্র সমাজের ডাকে নবান্ন অভিযানের নাম করে মঙ্গলবার বাংলায় দুষ্কৃতী তাণ্ডব করা হয়েছে বলে দাবি করলেন এডিজি দক্ষিণবঙ্গ সুপ্রতীম সরকার।
এদিন সন্ধেয় এক সাংবাদিক বৈঠক থেকে পুলিশের শীর্ষ কর্তা এও বললেন, ছাত্র আন্দোলনের নামে ৩ ঘণ্টা ধরে টানা আক্রমণ চালানো হল, পুলিশকে রক্তাক্ত করা হল, জনজীবন ব্যহত করা হল। এর নেপথ্যে নিশ্চয়ই কোনও শক্তির ইন্ধন রয়েছে।
কোন শক্তি রয়েছে তা স্পষ্ট করে না বললেও এডিজি দক্ষিণবঙ্গ বলেন, আন্দোলনকারীরা প্রথম থেকে বলে আসছিলেন শান্তিপূর্ণ আন্দোলনের কথা। অথচ এদিন সকাল থেকেই তাঁরা যেভাবে একের পর এক পুলিশের ব্যারিকেড ভাঙল, পরিকল্পিতভাবে পুলিশকে রক্তাক্ত করল, তাতে স্পষ্ট ওরা বড় ধরনের কোনও অশান্তি তৈরি করতে চেয়েছিল। তবে পুলিশ ওই প্ররোচনায় পা না দিয়ে ধৈর্য্যের পরীক্ষা দিয়েছে।
ঘটনাচক্রে, ছাত্র আন্দোলনের নেপথ্যে বিজেপি রয়েছে বলে আগেই অভিযোগ করেছিল শাসকদল তৃণমূল। এদিনও সাংবাদিক বৈঠক থেকে এবিষয়ে কড়া প্রতিক্রিয়া জানিয়েছেন রাজ্যের মন্ত্রী চন্দ্রিমা ভট্টাচার্য। তাঁর অভিযোগ, এদিন আন্দোলনের নামে বিজেপি একটা লাশ ফেলতে চেয়েছিল, পুলিশ সংযত থা্কায় তা হয়নি।
এদিনের তাণ্ডবের ঘটনায় পুলিশ এখনও পর্যন্ত ৯৪ জনকে গ্রেফতার করেছে। সিসিটিভি ফুটেজ খতিয়ে দেখে বাকিদের বিরুদ্ধেও আইনানুগ ব্যবস্থা নেওয়া হবে বলে জানিয়ে এডিজি দক্ষিণবঙ্গ বলেন, "যাঁরা শান্তিপূর্ণ আন্দোলনের কথা বলে বিনা প্ররোচনায় অশান্তি তৈরি করে সরকারি সম্পত্তি ভাঙচুর ও পুলিশকে রক্তাক্ত করে তাদের ছেড়ে দেওয়ার প্রশ্নই নেই।" এডিজি দক্ষিণবঙ্গের পাশাপাশি এদিনের সাংবাদিক বৈঠকে হাজির ছিলেন এডিজি আইনশৃঙ্খলা মনোজ ভার্মাও।
পুলিশ কর্তা জানান, এদিন আন্দোলনকারীদের হামলায় এখনও পর্যন্ত ১২ জন পুলিশ কর্মী আহত হয়েছেন। সংখ্যাটা বাড়তেও পারে। পুলিশ কর্তা এও বলেন, "লাশ ফেলে দেওয়ার কথা ঘুরছিল বিভিন্ন হোয়াটস অ্যাপ গ্রুপে। আমরা ২৫ জনকে চিহ্নিত করে আগেই গ্রেফতার না করলে পরিস্থিতি আরও ভয়াবহ আকার নিত।"
ছাত্র সমাজের নামে এই আন্দোলন ডাকা হলেও সেখানে ছাত্ররা ছিল না বলেই দাবি পুলিশের। নবান্ন অভিযানে পুলিশি আক্রমণের অভিযোগে আগামীকাল বুধবার ১২ ঘণ্টা বনধের ডাক দিয়েছে বিজেপি। এ ব্যাপারে কেরালা হাইকোর্টের একটি রায়ের কথা উল্লেখ করে পুলিশ কর্তা বলেন, " বনধ বেআইনি, এটা বিভিন্ন রায়ে আদালত আগেই জানিয়েছে। ফলে বুধবার বাংলা সচব রাখতে পুলিশ সব ধরনের উদ্যোগ নেবে।"