দ্য ওয়াল ব্যুরো: ছোট ছোট ছেলেমেয়েরা দুষ্টুমি করলে প্রায়ই জোর করে জোর করে স্কুলে পাঠান অভিভাবকেরা। কিন্তু একই কথা যে গরুদের জন্যও প্রযোজ্য, তা জানা ছিল না আগে। কিন্তু তেমনটাই ঘটছে উত্তরপ্রদেশের আলিগড়ের গড়াই এলাকায়। 'বিপথে' চলে যাওয়া গরুদের জোর করে ঢোকানো হয়েছে স্কুলে।
স্থানীয় সূত্রের খবর, গত সপ্তাহে ৭০০টির-ও বেশি গরুকে গড়াইয়ের সরকারি স্কুলে রাখা হয়েছে। অনেক গরুকে আবার ঠাঁই দেওয়া হয়েছে স্থানীয় প্রাথমিক স্বাস্থ্যকেন্দ্রেও। স্থানীয় গ্রামবাসীদের উদ্যোগেই এই ব্যবস্থা নেওয়া হয়েছে। কারণ গরুগুলো খুব দুষ্টুমি করছিল। কোনও কথা শুনছিল না। সেই কারণেই এই ব্যবস্থা নেওয়া হয়েছে। গ্রামবাসীদের বক্তব্য, “গরুগুলো চাষের জমির ফসল নষ্ট করে দিচ্ছে। অনেক দিন ধরে প্রশাসনের কাছে গরুদের থাকার জন্য আলাদা ব্যবস্থা করার কথা বলা হচ্ছে। কিন্তু কোনও কাজ হয়নি। তাই বাধ্য হয়েই স্কুল আর স্বাস্থ্যকেন্দ্রে গরুদের থাকার ব্যবস্থা করা হয়েছে।”
আলিগড়ের জেলাশাসক সিবি সিং বলেছেন, “গরুদের জন্য আলাদা থাকার জায়গার ব্যবস্থা হচ্ছে। খুব শীঘ্রই তা করা হবে।” তাই বলে স্কুলের মধ্যে গরু থাকবে? এই প্রশ্নের জবাবে তিনি বলেছেন, “স্কুলে এবং প্রাথমিক স্বাস্থ্য কেন্দ্রে গরু রাখার অভিযোগ আমাদের কাছে এসেছে। সাব ডিভিশনাল ম্যাজিস্ট্রেট গড়াইয়ে গিয়ে গ্রামবাসীদের সঙ্গে কথা বলবেন। গ্রামের প্রধান আলোচনার মাধ্যমে বিষয়টি মিটিয়ে নেওয়ার আশ্বাস দিয়েছেন।”
দুষ্টু গরুদের নিয়ে প্রবল সমস্যায় পড়েছেন উত্তর প্রদেশের বহু কৃষক। বড় সমস্যা দেখা দিয়েছে বুলন্দশহর এলাকায়। সেখানে গরুদের হাত থেকে চাষের জমি বাঁচাতে এই শীতের রাতে জেগে থেকে জমি পাহারা দিচ্ছেন কৃষকেরা। এক কৃষকের কথায়, “রোজ আমাদের ফসল নষ্ট করছে গরুর দল। সেই চিন্তায় শীতের মধ্যেও মাঠে বসে রাত জাগতে হচ্ছে।”